অন্যকে অসুখী করতে পারাই সিজারের জীবনের সার্থকতা

বার্তা জগৎ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১০ জুন ২০১৯ সময়ঃ দুপুর ২ঃ২৪
অন্যকে অসুখী করতে পারাই সিজারের জীবনের সার্থকতা
অন্যকে অসুখী করতে পারাই সিজারের জীবনের সার্থকতা

 

বার্তা জগৎ২৪ ডেস্কঃ

ইংরেজিতে ‘স্লিপ টাইট (২০১১)’ টাইটেল যেটার স্প্যানিশ নাম হল ‘মিয়েনত্রাস দুয়ারমেস’। ইংরেজিতে ‘স্লিপ টাইট’ টাইটেল ব্যবহার করলেও আসল অনুবাদ হবে ‘হোয়াইল ইউ স্লিপ’ বা ‘এস ইউ স্লিপ’। চলচ্চিত্রটিতে অবদমিত মনের ষড়যন্ত্র ও উত্তেজনার তীব্রতর প্রতিচিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। সাইকোপ্যাথ মানুষ আছে। তাই বলে এতোটা সাইকোপ্যাথ! পরিচালকের মুনশিয়ানা দর্শককে গল্পের ভিতরে হারিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। ঘটনা চক্রের অতল গহ্বর থেকে যখন দর্শক মুক্তি নিচ্ছে তখন হয়তো দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তাকে বলতে হচ্ছে এই চিন্তা ভাবনার মানুষও পৃথবীতে আছে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন জওমে বালাগেরো। তিনি প্যাকো প্লাজার সাথে যৌথভাবে ‘রেক(২০০৭)’ সিরিজ পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। 

সিজার একজন এপার্টম্যান্ট প্রহরী। যে জন্মগতভাবে অসুখী এবং প্রতিদিন আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে চায়। কিন্তু করে না বা করতে পারে না। তবে জীবনের সার্থকতা খোঁজার জন্য সে প্রতিনিয়ত নিরলসভাবে চেষ্টা করে যায়। সিনেমার প্রথম দিকে বিভিন্ন দৃশ্যে আমরা তার রাতের কিছু কর্মকাণ্ড দেখতে পাই। যা দিয়ে আচ করা যায় না সে কি করতে চায় বা সে কি করে। সকালের শুরুতেই দেখা যায় জমকালো বার্সেলোনা শহরে একটি বহুতল এপার্টম্যান্টের প্রহরী সে। একটা দৃশ্যে দেখা যায় ১২-১৩ বছরের একটা মেয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করছে। ধীরে ধীরে গল্পের প্যাচ খুলতে থাকে। যেখানে দেখা যায়, ক্লারা নামের একটি মেয়ে একটি ফ্ল্যাটে একাকী বাস করে। সিজার রাতের বেলায় ক্লারার ফ্ল্যাটে আগে থেকেই ঢুকে থাকে এবং সকাল হওয়ার আগে বের হয়ে যায়। সে চেতনানাশক দিয়ে ক্লারাকে অবচেতন করে তার পাশে ঘুমায়। ক্লারার অফুরন্ত প্রাণবন্ত হওয়া ও তার প্রসন্নতা সিজারকে উদগ্রীব করে। বিপত্তি বাঁধে যখন ক্লারার প্রেমিক ৬ সপ্তাহ পর এসে জানতে পারে ক্লারা ৪ সপ্তাহের গর্ভবতী এবং তার প্রেমিক এটা উদঘাটন করতে সক্ষম হয় যে এটার পিছনে মূল কারণ সিজার। কিন্তু এটা প্রকাশ হওয়ার আগেই সিজার ক্লারার প্রেমিককে মেরে  আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয় এবং খুব সূক্ষ্মভাবে সে পুলিশের চোখ ফাঁকি দেয়।

 

 

 চলচ্চিত্রটির শেষে সিজার ক্লারাকে একটি চিঠিতে সব লিখে জানায়। যাতে সে বলে যে তাকে প্রতিদিন সে হাঁসতে দেখত। কাউকে সুখী দেখলে তার কষ্ট লাগত। এবং কাউকে অসুখী করতে পারলেই বুঝি তার জীবন সার্থক হবে। চিঠিতে সে জানায়, ক্লারার কোলে আজ যে সন্তান সেটা তার এবং যেটা ক্লারার সারজীবনের অসুখী হওয়ার কারণ। ক্লারাকে অসুখী করার মধ্য দিয়েই সে নিজের জীবনের সার্থকতা খুঁজে পেল। সর্বশেষ দৃশ্যে দেখা যায়, সে নতুন কোন মহিলাকে বেছে নিচ্ছে তার এই সার্থকতা খুঁজে পাওয়ার উপায় হিসাবে।

 

চলচ্চিত্রটিতে ক্যামেরার পিছনে কাজ করেছেন পাবলো রুশো। ক্যামেরায় সে তার ধাত দেখিয়েছেন। ক্যামেরা মুভমেন্টে না রেখে শুধুমাত্র বিশেষ এঙ্গেলের মাধ্যমে তিনি একটি ভূতুড়ে আবহ তৈরি করেছেন। যা দর্শককে ক্রিয়াশীল করে অন্যরকম অনুভূতি প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে। চলচ্চিত্রটিতে ব্যবহৃত আবহ সঙ্গীত ও সম্পাদনা সবকিছু মিলিয়ে এটি ছিল অসাধারণ একটি সাইকোথ্রিলার।

লেখকঃ সায়েম খান

চলচ্চিত্রকর্মী।