আবরারকে নিয়ে তসলিমা নাসরিনের বিস্ফোরক স্ট্যাটাস, ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১০ অক্টোবর ২০১৯ সময়ঃ বিকেল ৪ঃ১৭
আবরারকে নিয়ে তসলিমা নাসরিনের বিস্ফোরক স্ট্যাটাস, ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়
আবরারকে নিয়ে তসলিমা নাসরিনের বিস্ফোরক স্ট্যাটাস, ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের বিচার দাবিতে বুয়েটে চলছে চতুর্থ দিনের মত তুমুল আন্দোলন। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে নিষিদ্ধ করা হয়েছে শিক্ষক রাজনীতি, নেওয়া হচ্ছে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তও। আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার নিষ্পত্তির জন্য নেওয়া হচ্ছে সিদ্ধান্ত। এর মাঝেই হঠাৎ আবরারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ভারতে নির্বাসিত সমালোচিত ও বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। এ নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা।

বার্তাজগৎ২৪ এর পাঠকদের জন্য লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলোঃ

'আবরার ফাহাদের গুণের বর্ণনা করতে গিয়ে আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, পাড়া পড়শি, চেনা পরিচিত সবাই বলছেন আরবাব মেধাবী ছিল এবং আরবাব ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। মেধাবী হওয়াটা নিশ্চয়ই গুণ কিন্তু ২১ বছর বয়সে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়াটা তো গুণ নয়, বরং দোষ। বিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে ব্রহ্মাণ্ডের উৎপত্তি, বিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই! সাত আকাশের ওপর এক সর্বশক্তিমান বসে আছে, সে ছ'দিনে আসমান জমিন বানিয়েছে, আদম হাওয়াকেও মাটি দিয়ে বানিয়েছে, কথা শোনেনি বলে জমিনে ফেলে দিয়েছে, কেউ একজন ডানাওয়ালা ঘোড়ায় চড়ে তাকে এবং তার বানানো স্বর্গ নরক দেখে এসেছে -- এসব আজগুবি অবিজ্ঞান আর হাস্যকর গাল গপ্প কোনও বুদ্ধিমান কেউ বিশ্বাস করতে পারে? আরবাব পড়তো হয়তো বিজ্ঞানের বই, পরীক্ষা পাশের জন্য পড়তো। তার বিজ্ঞান মনস্কতা ছিল না। নিজস্ব চিন্তার শক্তি ছিল না। একে আমি পড়ুয়া বলতে পারি, মেধাবী বলবো না। আরবাব ছিল নিব্রাস ইসলামদের মতো। একবিংশ শতাব্দির আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো, কিন্তু মাথায় চোদ্দশ বছর আগের অবিজ্ঞান আর অনাধুনিকতা।

আরবাব অফিসিয়ালি শিবির না করলেও শিবিরের মতো চাল চলন আর চিন্তা ভাবনা বানিয়েছিল । তাতে কী! শিবিরদেরও বাঁচার অধিকার আছে। তাকে যারা পিটিয়েছিল, আমার বিশ্বাস, মেরে ফেলার উদ্দেশে পেটায়নি। কিন্তু মাথায় আঘাত লেগেছে, মরে গেছে। যারা পিটিয়েছিল, তাদের শাস্তি অবশ্যই হতে হবে। এর মধ্যেই কয়েকটাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।'

এই পোস্টে তসলিমা নাসরিনের সমালোচনা করে আনন্দ কুটুম নামে একজন লিখেন, 'আমি মাঝে মাঝে হতভম্ব হয়ে যাই আপনার ফেসবুকীয় লেখা পড়ে। এই তসলিমা কি সেই তসলিমা যার বই পড়ে যুক্তি শিখেছিলাম? আমি মাঝেমধ্যে খুব অবাক হই আপনার লেখা পড়ে যে এতোটা অন্ধত্ব আপনাকে কিভাবে গ্রাস করল?'

মলয় তিওয়ারি নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, 'আপনার চিন্তাপদ্ধতিও আর আধুনিক বা বৈজ্ঞানিক মনে হয়না, মানবিক তো নয়ই।'

অনিক হাসান নামে এক ব্যক্তি এ নিয়ে তসলিমা নাসরিনকে শোনা কোথায় কান না দিতে পরামর্শ দেন।

প্রসঙ্গত, ভারতকে গ্যাস দেয়ার সমালোচনা করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে গত রোববার দিনগত রাতে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করে। এদিন রাতেই ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের নিচতলা থেকে ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ইইই) বিভাগের লেভেল-২ এর টার্ম ১-এর ছাত্র ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে।

বার্তা‌জগৎ২৪.কম/এফ এইচ পি

Share on: