আলোচিত এবং জনপ্রিয় 'শাহজাহান সৌরভ'

বার্তা জগৎ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১২ জুলাই ২০১৯ সময়ঃ রাত ৩ঃ২৪
আলোচিত এবং জনপ্রিয় 'শাহজাহান সৌরভ'
আলোচিত এবং জনপ্রিয় 'শাহজাহান সৌরভ'

 

আফজালুর ফেরদৌস রুমনঃ

দর্শকদের চাহিদার কথা চিন্তা করে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নানা দিকে আস্তে আস্তে পরিবর্তন হচ্ছে। সিনেমার মেকিং, গল্প বলার ধরন, সিনেমাটোগ্রাফি, কোরিওগ্রাফি, বাজেট, নবাগত কিছু দক্ষ এবং মেধাবী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ডেডিকেশন, একঝাক নতুন কিন্তু সম্ভাবনাময় নির্মাতার আগমনে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে আমাদের বেহাল ইন্ডাস্ট্রি। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে নানা বিষয়ে এখন পরিবর্তন আসছে যদিও পরিবর্তনের হার বা অনুপাত খুবই কম এবং এটি হচ্ছে ধীরলয়ে। তবুও এই পরিবর্তন আমাদের ধুকতে থাকা ইন্ডাস্ট্রি আবার বেগবান করতে একটি বড় পদক্ষেপ রাখতে যাচ্ছে তা বলা যায় নিঃসন্দেহে। একটি সিনেমার মুল স্তম্ভ হচ্ছে তার গল্প। বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সিনেমায় ভিন্নধর্মী এবং নতুন প্রেক্ষাপট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আয়নাবাজি, অজ্ঞাতনামা, ডুব, হালদা, দেবী, টেলিভিশন, স্বপ্নজাল,  সত্তা, ঢাকা অ্যাটাক, দহন, কমলা রকেট সহ আরো কিছু নান্দনিক এবং ভিন্নধর্মী সিনেমার দেখা পেয়েছি আমরা। যাদের নিত্যনতুন চিন্তা এবং লেখনী শক্তির মাধ্যমে আস্তে আস্তে বদল আসছে আমাদের সিনেমায় তাদের মধ্যে এই সময়ের অন্যতম আলোচিত এবং দক্ষ একটি নাম হলো শাহজাহান সৌরভ। নাটক এবং সিনেমা দুটি মাধ্যমেই এই সময়ে কাজ করছেন তিনি। আলোচিত এবং ব্যবসাসফল 'ঢাকা অ্যাটাক' সিনেমার গল্প তার লেখা এবং এই একটি কাজ দিয়েই ইতিমধ্যে তিনি প্রমাণ করেছেন এই সময়ের কাহিনীকার দের মধ্যে তিনি দক্ষতা এবং মেধা দিয়ে রাজত্ব করতে এসেছেন আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে। সামনে গোলাম সোহরাব দোদুলের পরিচালনায় মুক্তি প্রতীক্ষিত 'সাপলুডু' এবং রায়হান রাফি'র পরিচালনায় 'স্বপ্নবাজি' সিনেমার গল্প লিখেছেন এই গুণী মানুষটি। যার অসাধারণ লেখনী আমাদের চলচ্চিত্রে যোগ করছে নতুন মাত্রা সেই শাহজাহান সৌরভকে নিয়েই আমাদের আজকের এই বিশেষ ফিচার। 

শিল্পী শাহজাহান সৌরভের শুরুটা ২০০২ সালে থিয়েটরের মধ্য দিয়ে। প্রথম শো শেষ করার ঠিক পর মূহুর্তে তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন তিনি ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় কাজ করতে চান। কিভাবে নিশ্চিত হয়েছিলেন বা মনের ভেতর থেকে কোন টান অনুভব করেছিলেন কিনা সেটি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও একথা বলা যায় যে, তার মতো দক্ষ এবং মেধাবী একজন মানুষ এই মাধ্যমে এসে আমাদের সংস্কৃতি মাধ্যমকে অনেকটাই পরিপূর্ণ করেছেন। মিডিয়ার কাজ করার সেই ইচ্ছা নিয়ে এগিয়ে চলতে চলতেই ২০০৫/২০০৬ সালে 'আদরের ছোটভাই' নামক একটি সিনেমায় অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। তবে নিজেকে পুরোপুরিভাবে এই মাধ্যমে কাজ করার জন্য তৈরী করার অংশ হিসেবে ২০০৭ থেকে পুরোদমে টেলিভিশনে কাজ করা শুরু করেন তিনি। এভাবেই নিজের কাজ এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে এই জগতের ভিন্নধর্মী দক্ষ একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। 

এখন তার নাম, খ্যাতি পরিবারের বা আত্নীয়স্বজন সহ সবার মুখে হাসি ফোটালেও তবে এই পেশার আসার সময় পরিবারের কোন সাপোর্ট বা সহায়তা পাননি তিনি। 

তার বাবা ছিলেন সরকারী চাকুরে, ছোটভাই বিসিএস ক্যাডার আর চাচাদের সিংহভাগই সরকারী চাকরীজীবী। তারা কেউই এই পেশা গ্রহণ করাটাকে ভালো চোখে দেখেননি। একটা লম্বা সময় ধরে যুদ্ধ করতে হয়েছে এ পেশায় আসতে চেয়ে। পকেটে ৪৬০০ টাকা নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর থেকে ঢাকা এসেছিলেন তিনি, শুধু চা বিস্কুট খেয়েও অনেক দিন পার করেছেন। তবে এই জগৎটায় কাজ কাজ করার স্বপ্ন ছিল দুচোখে। অনেক কষ্ট, ঝামেলার মধ্যেও নিজের স্বপ্নটাকে মলিন হতে দেননি তিনি। এমনকি বিয়ে করতে গিয়ে পুরোদস্তুর একটা সিনেমা করতে হয়েছে তাকে। কারণ তার শ্বশুর সাহেবও বিসিএস ক্যাডার। মিডিয়াতে কাজ করা একজনের কাছে নিজের মেয়ের বিয়ে দিতে নিমরাজি ছিলেন তিনি। তবে একটা সময় সব বাঁধা পেরিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন নিজেকে, নিজের দক্ষতাকে। তাই জীবনে চলার পথে স্বপ্ন দেখা এবং সেটা সফল করার জন্য পরিশ্রম করার কোন বিকল্প নেই বলেই মনে করেন তিনি।

শাহজাহান সৌরভ এই সময়ে এসে একজন গল্পকার, লেখক হিসেবে নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অন্য উচ্চতায়। তার লেখালেখির প্রতি আগে থেকেই অল্পস্বল্প ঝোঁক ছিল। সেই ঝোঁক থেকেই লিটল ম্যাগ নামক একটা ম্যাগাজিনে লিখতেন নিয়মিত। তবে প্রফেশনালি ২০১০ এর শেষ ভাগ থেকে নিয়মিত লিখছেন। তার ব্যতিক্রমী লেখনী, গল্প তুলে ধরার প্রচেষ্টায় এক ধরনের ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

তার লেখা প্রথম একক নাটক 'রিপোর্ট টেরাকোটা'। প্রথম লেখা ধারাবাহিক নাটক 'অলরাউন্ডার'। ২০১১ বিশ্বকাপের সময় তিনজন উঠতি ক্রিকেটারের গল্প নিয়ে তার লেখা 'অলরাউন্ডার' নাটকটি বেশ সাড়া ফেলেছিলো। এভাবেই লিখতে লিখতে একসময় দীপংকর দীপনের 'আইটেম সং' সিনেমায় গল্পকার হিসেবে যোগ দেন। তবে গল্পকার হিসেবে তার রিলিজ পাওয়া প্রথম কাজ আলোচিত 'ঢাকা অ্যাটাক'। আর এই এক 'ঢাকা অ্যাটাক' সিনেমা দিয়েই আলোচনা এবং প্রশংসায় ভেসেছেন তিনি। বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসে 'ঢাকা অ্যাটাক' এক মাইলস্টোন সিনেমা হিসেবে ভিন্ন এক ধারা তৈরি করে। আর এর অনেকটা কৃতিত্ব শাহজাহান সৌরভের। চলচ্চিত্রের গল্প লেখার সুযোগটা এসেছিল দীপংকর দীপনের মাধ্যমে। দীপংকর দীপনের নাটকের জন্য স্ক্রিপ্ট লিখেছেন ৩/৪ বছর ধরে। স্বাভাবিকভাবেই অনেকগুলো কাজ করা হয়েছে সেই টিমে। সেই সুবাদে দাদার রাইটিং টীমে জায়গা পেতে বেগ পেতে হয়নি তাকে। দীপংকর দীপন তখন জনপ্রিয় বলিউড নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপের সাথে কাজ করছেন মুম্বাই এ। ওখান থেকে দুটো গল্প পাঠিয়ে বলেছিলেন “এর থেকে একটা নিয়ে সিনেমা করবো আমরা, অনুরাগের সাথে কথা হয়েছে।” ব্যস এভাবেই 'ঢাকা অ্যাটাক' এর সাথে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। 

একজন গল্পকার বা চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ করতে এসে নিজের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে এই গুণী মানুষটি বলেন- 'নাটকের গল্প বা চিত্রনাট্য ভাবতে গেলে, বাজেট ভেবে লেখাটা খুব জরুরী । গোড়াতে, বাজেটের এই হিসাবটা ধরতে পারিনি। তাই তখনকার অনেক গল্প চ্যানেলের ঝুড়ি কিংবা নির্মাতার মেইলে দাফন হয়েছে। এই মাধ্যমে কাজ করতে এসে কিছু দুঃখজনক ঘটনার সম্মুখীন যেমন হয়েছি তেমনি অনেক সুখস্মৃতিও আছে। যেমন “সাহেব বাবুর বৈঠকখানা” শিরোনামে একটা ধারাবাহিক লিখেছিলাম। মামুন ভাই (মামুনুর রশীদ) অভিনয় করেছিলেন তাতে। স্ক্রিপ্ট পড়ে তিনি আমাকে সিরাজগঞ্জে যেতে বললেন, ওখানে শ্যূট চলছিল। আমি গেলে মামুন ভাই হ্যান্ডশেইক করে বলেছিলেন, “আমি নিজেও লিখি। তোমার লেখা পড়ে অনেকদিন পর আনন্দ পেলাম, তোমার সংলাপ গুলো বলতে খুব আরাম।” মামুন ভাইয়ের চরিত্রটিকে ২৬ পর্বে মেরে ফেলছিলাম। মামুন ভাই বললেন, “তোমার সংলাপগুলো আরও কিছুদিন বলতে চাই ভাই; আমাকে মেরে ফেলো না।” এই প্রাপ্তির আনন্দ বলে বোঝাবার না। মামুন ভাইয়ের কথা রাখতে, পুরো ১৩ পর্ব আমাকে আবার নতুন করে লিখতে হয়েছিল। মামুনুর রশীদ এর মতো একজন কিংবদন্তি মানুষ যখন এভাবে প্রশংসা করেন তখন সেটা কতটা গর্ব এবং আনন্দ নিয়ে আসে তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। এরকম অনেক অভিজ্ঞতা যোগ হয়েছে চলার পথে। যা আমাকে প্রতিনিয়ত ভালো এবং মানসম্মত কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগায়।  

একভাবে বলা যার 'ঢাকা অ্যাটাক' সিনেমার মধ্য দিয়ে আক্ষরিক অর্থে তিনি সফলতা বা স্টারডমের দেখা পেয়েছেন তাই এই সিনেমা নিয়ে তার নিজের অনুভূতি জানতে চেয়েছিলাম শাহজাহান সৌরভের কাছে। তিনি বলেন- 'এটা অভূতপূর্ব একটা অনুভূতি। দীপন দাদা, সানী ভাই সহ আমরা পুরো সিনেমার টীম অনেকগুলো মাস খেটেছি “ঢাকা অ্যাটাক” এর স্ক্রিপ্ট নিয়ে। পর্দায় সেই স্ক্রিপ্টের সফল চিত্রায়ণ দেখাটা আসলে বর্ণনা করার মতো অনুভূতি না। তারপরে যখন সিনেমাটা সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে সমালোচক বা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছেও ভালো লাগলো তখন মনে হলো যে, আমরা কিছু একটা করতে পেরেছি। তারপর থেকে আরো ভালো কাজ কাজ করার একটা ক্ষুধা সবসময় কাজ করছে'। 

বর্তমানে গোলাম সোহরাব দোদুলের “সাপলুডু” সিনেমার প্রমোশনাল এলিমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত। এছাড়া 'স্বপ্নবাজি' সিনেমার সিনেমার ৪র্থ ড্রাফট এর কাজ চলছে। এটি পরিচালনা করবেন 'পোড়ামন২' 'দহন' খ্যাত পরিচালক রায়হান রাফি। এই মাসেই শ্যূটিং ফ্লোরে যাচ্ছে এটা। আরেকটা সিনেমা,“গিরগিটি”র ২য় ড্রাফট শেষ করেছেন ইতিমধ্যে। এছাড়া কিছুদিন আগে “ছিপ” শিরোনামে একটা সিনেমার গল্প পছন্দ করলেন প্রযোজক। ব্যাটে বলে মিললে হয়তো এটার কাজ শুরু হয়ে যাবে এই বছর। সিনেমার বাইরে ছোট পর্দার জন্য গোলাম সোহরাব দোদুল ভাইয়ের পরিচালনায় “শিউলী মালা” এবং “অদ্ভুতূড়ে বইঘর” শিরোনামে দুটো দীর্ঘ ধারাবাহিক নিয়েও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। সব ঠিক থাকলে “সমীকরণ” শিরোনামে একটা ওয়েব সিরিজ এবং আসছে কোরবানী ঈদের জন্য ৬/৭ টা একক নাটক নিয়েও বেশ ব্যস্ততার মধ্য দিন কাটাচ্ছেন এই গুনী মানুষটি।

জনপ্রিয় গল্পকার 'শাহজাহান সৌরভ' ব্যক্তি জীবনে কেমন মানুষ জানতে চাইলে  তিনি হেসে বলেন- আমি ভীষণ আয়েশী, যে সারাদিন শুয়ে-বসে মাথা ঘামাতে ভালবাসে। ঝামেলা আর ঝামেলাবাজ মানুষ এড়িয়ে চলতে পছন্দ করে। বই পড়ে, সিনেমা দেখে বুভুক্ষের মতো আর বাইরে বেরতে চায়না যে একদম। সব মিটিং-মিছিল যদি বাসায় সারা যেতো.. হা হা হা হা হা। আমি কেমন, আসলে সেটা আমার মা আর স্ত্রী সবচাইতে ভাল বলতে পারবেন। যদিও তাতে পক্ষপাত মেশার সুযোগ আছে। তবে আমি চাই মানুষ আমাকে আমার কাজের মধ্য দিয়ে জানুক। এমন অনেক কাজ করতে চাই যা মানুষের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিবে। সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। 

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার ভাবনা জানতে চেয়েছিলাম এই হাসিখুশি এবং শিল্পকে ভালোবেসে কাজ করে যাওয়া মানুষটার কাছে। শাহজাহান সৌরভ তখন বলেন- আমি খুব আশাবাদী। আমাদের সিনেমা একটা ট্রাঞ্জিশানের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। আমি বলি এটা আমাদের জন্য নিউ ওয়েভ আর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, খুব সৎ জায়গা থেকে যে সিনেমাগুলো তৈরি হবে এখন; সেগুলো ব্যর্থ হবে না। অবিশ্বাস্য, উদ্ভট (এ্যাবসার্ড নয় কিন্তু), ক্লিশে, নকল গল্প এখন আর দেখতে চায়না মানুষ। সামনে আরও চাইবে না। দর্শক এখন খুব সচেতন, খুবই গ্লোবাল। গাঁটের পয়সা খরচ করে যিনি টিকিট কাটবেন, তাকে ঠকানোর সুযোগ আর নেই একদম। আমাদের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ অনেকগুলো যোগফলের ওপর দাঁড়িয়ে। প্রজেকশানের স্বচ্ছ ব্যাবস্থাপনা বা ই-টিকেটিং, পর্যাপ্ত হল, হলের ভাল পরিবেশ, ওভারসিজ ডিস্ট্রিবিউশান, মৌলিক কনটেন্ট আর ওয়েল মেইড সিনেমা যদি ধারাবাহিক হয়; তাহলে ইন্ডাস্ট্রি গতিশীল হবে নিশ্চিতভাবেই। এই ট্রাঞ্জিশান পিরিয়ডটাতে ফিল্ম মেকারদের সাহস ধরে রাখতে হবে আর সরকারী-বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতা এগিয়ে আসতে হবে। ভাল মানের হল বাড়াতে হবে এখন; কোটি কোটি দর্শক মুখিয়ে আছে ভাল পরিবেশে, ভাল সিনেমা দেখার জন্য। ভালো সিনেমার কোন বিকল্প নাই এই ইন্ডাস্ট্রি বাঁচানোর জন্য। 

তার নিজের লেখা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রিয় কাজ এর লিস্টে একক নাটকের ভেতর, “তামান্নার জন্য”, “ভ্রান্তি কিংবা অনুভূতির গল্প”। টেলিছবি, “মুখোশ”। ধারাবাহিক গুলোর ভেতর, “গ্র্যান্ডমাস্টার”। আর সিনেমার ভেতর বোধহয়, “ছিপ” গল্পটা কিংবা “আই হেইট ধনিয়াপাতা”। যদিও এ দুটো এখনও স্ক্রিপ্ট লেভেলেই আছে। তবে শাহজাহান সৌরভ এই বিষয়ে জানান, স্ক্রিপ্ট হিসেবে খুবই ভালো কাজ এই দুটোম এখন দেখা যাক কখনো সিনেমা হিসেবে নির্মাণ হলে কতটা প্রিয় থাকে। কারণ কাগজের গল্প আর সেলুলয়েড এর পর্দায় তার প্রেজেন্টেশন আলাদা ব্যাপার।

আজ থেকে পাচ বছর পরে নিজেকে একজন ডিরেক্টর হিসেবে দেখতে চান তিনি। ডিরেক্টর হিসেবে দেখতে পাই বলেন নি তিনি। কারণ সব সামলে ডিরেকশন দেয়া অনেক কষ্টকর আর বিরাট বড় ব্যাপার। তাই সে লক্ষ্যে নিজেকে প্রস্তুত করার অংশ হিসেবে  ৮ বছর থিয়েটার করেছেন, ৫ বছর টিভিতে অভিনয় করেছেন, দীপংকর দীপনকে এ্যাসিস্ট করেছেন। গত ৭/৮ বছর ধরে লিখছেন। অনেকগুলো মিউজিক ভিডিও, সরকারী তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন। এসব কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিটা সেক্টরে পারদর্শী একজন হিসেবে তৈরী করেছেন তিনি। এখন বড় পরিসরে নির্মাণের কথা ভাবছেন। বাকিটা সময়ই বলে দিবে বলে অভিময় ব্যক্ত করেন তিনি। 

বাস্তব জীবনে তিনি যে কতটা রসিক এবং হাস্যজ্বল মানুষ তা বোঝা যায় তার পরের কথাতেই। হাসতে হাসতেই তিনি বলেন- সামনে কি অপেক্ষা করছে তা তো জানিনা, কিন্তু যদি মেধায় এবং জনপ্রিয়তায় টিকে থাকতে না পারি, তাহলে হয়তো পিকনিক স্পট বা কমিউনিটি সেন্টার খুলে বসবো হা হা হা অথবা একটা বুকশপ হতে পারে, যার নাম হবে “বইকথা কও”। কতটা সহজ, সরল এবং ভালো মানুষিকতা থাকলে একজন গুণী এবং দক্ষ মানুষ এরকম অকপটে মনের কথা বলতে পারে শুভকামনা রইলো এই সময়ের জনপ্রিয় এই গুনী এবং দক্ষ একজন মাটির মানুষ শাহজাহান সৌরভের জন্য। তার স্বপ্ন তাকে নিয়ে যাক সফলতার চূড়ায় যার মাধ্যমে আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আরো আলোকিত এবং উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

বার্তা জগৎ২৪/ এম এ

Share on: