একজন পাঠাও রাইডারের অভিনব যাত্রী সেবার গল্প

দিদার,চট্টগ্রাম

প্রকাশিতঃ ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ সময়ঃ রাত ২ঃ০০
একজন পাঠাও রাইডারের অভিনব যাত্রী সেবার গল্প
একজন পাঠাও রাইডারের অভিনব যাত্রী সেবার গল্প

 

যাত্রীদের যানবাহন স্বল্পতা দূর করার পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ্যাপস ভিত্তিক পাঠাও রাইডস। এটি একটি জনপ্রিয় মোটরবাইক ও গাড়ি শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে যাত্রাপথে রাইড খুঁজতে থাকা মানুষদের বাইক বা গাড়ির মাধ্যমে রাইড দিয়ে তাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিচ্ছে৷ এর ফলে যাত্রীদের যানবাহন সংকট যেমন দূর হয়েছে ঠিক তেমনি বেকার যুবকদের জন্য কিছু অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাঠাও অ্যাপ ব্যবহার করে যে কোন ব্যক্তি খুব সহজে বাইকারের সাথে যোগাযোগ করে এই সেবা গ্রহণ করতে পারে।

 

সম্প্রতি পাঠাও রাইডস ব্যবহার করতে গিয়ে আনিসুর রহমান নামের একজন যাত্রী জানিয়েছেন, তিনি তেজগাঁও থেকে মহাখালী যাওয়ার জন্য পাঠাও রাইডস কল দিলে সুজন মিয়া নামের একজন শিক্ষার্থী ঢাকা মেট্রো হ-৫৬৭১১৩ নাম্বার প্লেটের একটি মোটর বাইক নিয়ে উপস্থিত হন। কুশলাদি বিনিময় করে যাত্রী আনিসুর রহমান কে একটি মাস্ক দিয়ে পরিধান করতে বলে, যাত্রী আনিসুর রহমান প্রথমে কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন কেন এই মাস্ক পরিধান করবেন তিনি? তখন পাঠাও সেবার চালক হিসেবে কাজ করা সুজন মিয়া জানালেন তার নিজের চিন্তার কথা, তিনি বললেন,'স্যার এই মাস্ক ব্যবহার করলে আপনি যেমনি ভাবে ধুলাবালি থেকে রক্ষা পাবেন ঠিক তেমনি ভাবে এই শীতের মৌসুমে নিজেকে ঠান্ডা থেকেও রক্ষা করতে পারবেন। আমার পক্ষ থেকে এই মাস্কটি আপনাকে সম্পূর্ন ফ্রি দিচ্ছি এবং আমি নিয়মিত এভাবেই সকল যাত্রীদের জন্য মাস্কের ব্যবস্থা করে থাকি।'

 

যাত্রী আনিসুর রহমান পাঠাও রাইড সেবাদানকারী সুজন মিয়া নামের এই শিক্ষার্থীর মহৎ উদ্যোগ দেখে মুগ্ধ হলেন। এবং এরপরই বিনা বাঁধায় কোন রকমের প্রশ্ন না করে সেই মহৎ শিক্ষার্থীর রাইডে বসে মহাখালীতে পৌঁছে গেলেন। কথা বলতে গিয়ে জেনে গেলেন এই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত মহৎ উদ্বেগ ও মানব সেবার নানা রকমের চিন্তা মূলক গল্প। যার মধ্যে রয়েছে শুধুমাত্র মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার স্বপ্ন।

 

সত্যিই একজন সুশিক্ষিত মানুষ সমাজকে বদলে দিতে পারে, যেখানে অশিক্ষিত ও মাদকাসক্ত ড্রাইভাররা ইচ্ছেকৃত ভাবে কিংবা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে পথচারীদের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে সেখানে পাঠাও রাইডে কর্মরত একজন শিক্ষার্থী যাত্রীদের মুখে যেন ধুলাবালি না লাগে সে ব্যাপারেও সচেতন হয়ে তাদের সেবা দিচ্ছে! প্রতিটি নাগরিক যদি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজের নৈতিকতাবোধ কে জাগিয়ে তোলে নিজ নিজ পেশায় দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে শুধু মাত্র গৃহ নয় বরং নিরাপদ হবে আমাদের সড়ক, বাজার, সমাজসহ গোটা সোনার বাংলা।

 

Share on: