একজন সাহসী যোদ্ধা আশফাক নিপুন

আফজালুর ফেরদৌস রুমন:

প্রকাশিতঃ ১৭ অগাস্ট ২০১৯ সময়ঃ রাত ১ঃ০৫
একজন সাহসী যোদ্ধা আশফাক নিপুন
একজন সাহসী যোদ্ধা আশফাক নিপুন

 

আফজালুর ফেরদৌস রুমন:

দেশব্যাপী খুন, ধর্ষণ, অমানবিকতা বা সাম্প্রতিক সময়ের গুজব বিভীষিকা এসব নান ভয়ংকর ঘটনা উঠে আসে প্রতিদিন খবরের কাগজে। প্রতিদিনই এসব নানা রকম অপ্রিয় সংবাদে ভারী হয়ে ওঠে আমাদের নাগরিক হৃদয়। সামাজিক জীবনে মানুষের মনে অচেনা শঙ্কা আর উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ছে দিন দিন। কেনো বাড়ছে এসব ঘটনা? কি কারণে ঘটছে এসব ঘটনা? কোন অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা!! দুঃখের বিষয় এসব নানা রকম সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে তেমনভাবে এখন আর নাটক বা সিনেমা বানানো হয়না। আমরা যেন গৎবাধা কিছু কন্টেন্ট নিয়েই কাজ দেখতে দেখতে হাপিয়ে উঠেছি। তবুও মাঝেমধ্যে কিছু নির্মাতা ভিন্নভাবে চিন্তা করেন এবং তাদের সেই চিন্তার ফসল হিসেবে নানন্দিক এবং ভিন্নধর্মী কিছু উপভোগ করার সুযোগ করে দেন আমাদের। তেমনই একজন সময়কে পাশ না কাটিয়ে চলা নির্মাতা হলেন আশফাক নিপুন। 

গত কয়েক বছর ধরেই তিনি সমসাময়িক নানা ইস্যু নিয়ে ভিন্ন রকম গল আমাদের দেখিয়ে চলেছেন। অনেক নির্মাতা যেখানে এক ঈদেই ১২/১৫ টি নাটক নিয়ে হাজির হচ্ছেন সেখানে দুই থেকে তিনটি নাটক নিয়ে আসফাক নিপুন পেছনে ফেলছেন অবেককেই। না কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বলা হচ্ছে না তবে সুনিপুণ নির্দেশনা এবং ভিন্নধর্মী গল্প দর্শকদের মাঝে আলাদা ভালোলাগার জায়গা তৈরী করে যা তাকে স্বাভাবিকভাবেই তাকে এগিয়ে রাখে অনেকের থেকেই। 

এবারের কোরবানির ঈদে আশফাক নিপুন মাত্র দুটি ফিকশন বানিয়েছেন।  একটির নাম ‘আগন্তক’, অন্যটি ‘এই শহরে’। দুটি নাটকের গল্পের উৎসই রাষ্ট্রের ব্যর্থতা, সমাজের ব্যর্থতা, রাজনীতির ব্যর্থতা, শহরের ব্যর্থতা, মানুষের ব্যর্থতা আর মানুষের অসহায়ত্ব। দুইটাই এই সময়ের সমসাময়িক ঘটনাবলির গল্প। আমাদের আশেপাশের মানুষের গল্প। যারা আমাদের খুব চেনা। দুটি নাটকেই দেখানো হয়েছে সময় আমাদেরকে কতটা অসহায় করে ফেলে তার গল্প। সেই অসহায়ত্ব থেকে কি আমরা কিভাবে উঠে দাঁড়াতে পারি তার গল্পই দেখানো হয়েছে এই নাটকগুলোতে। 

বাস্তবে ঘটে যাওয়া এরকম কিছু ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছোটপর্দার জনপ্রিয় নির্মাতা আশফাক নিপুন গত ঈদে নির্মাণ করেছিলেন বিশেষ খণ্ডনাটক ‘ফেরার পথ নেই’। স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে নাটক নির্মাণ একইসাথে সাহসের এবং চ্যালেঞ্জের। আর সেই চ্যালেঞ্জ খুব সাহসিকতার সাথেই নিয়ে থাকেন আশফাক নিপুন।

একটি সাক্ষাৎকারে আশফাক নিপুন বলেছিলেন, ‘একজন নির্মাতা তার নাটকে গল্প বলতে চায়। সেটা যে গল্পই হোকনা কেনো। নির্মাতা হিসেবে আমি এসময়ের চিত্রটি মানুষের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমার নাটকগুলো দলিল হয়ে থাকবে বলে মনে করি। আজ থেকে অনেক বছর পর যখন কেউ নাটকটি দেখবেন তখন সে বা তারা বুঝতে পারবে যে এই সময়টাতে নির্দিষ্ট এ বিষয়ে পরিস্থিতি কেমন ছিল। আমি চেষ্টা করেছি যাদের পরিবারের সাথে এসব ঘটনা ঘটে তাদের কষ্ট, তাদের হাহাকার অনুভব করতে। আমি তাদের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করেছি। আমাকে তাদের জায়গায়, দর্শককে তাদের জায়গায় বসিয়ে অবস্থার ভয়াবহতার কথা বোঝাতে চেয়েছি। বাকিটা দর্শকদের উপর নির্ভর করে যে, তারা কতটা ভালোভাবে কাজটি বুঝতে বা এর সাথে একাত্ন হতে পারছেন। 

এবারের ঈদের অন্যতম সেরা একটি কাজ হিসেবে ইতিমধ্যেই আলোচনায় আশফাক নিপুনের 'আগন্তুক'। এই টেলিছবিতে প্রাণবন্ত অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান। সাফা কবীর চেষ্টা করেছেন মানিয়ে নিতে এবং কিছু দৃশ্যে তিনি অবাক করেছেন আমাদের। তবে দুজনকেই ছাড়িয়ে গেছেন আফরান নিশো। শুধু রোমান্টিক নন, নেতিবাচক চরিত্রেও তিনি সফল একথা আর অস্বীকার করার উপায় নেই। নিশো প্রমাণ করেছেন তাকে কাজে লাগাতে পারলে তিনি তার শতভাগ দিয়েই সেটি ফুটিয়ে তোলার চেস্টা করেন। একজন এসি মেকানিকের চরিত্রে তার অভিনয়ের শেড মুগ্ধ করবে সব শ্রেনীর দর্শকদের 'এই শহরে' নাটকের কন্টেন্ট আমাদের ভিন্ন কিন্তু খুব পরিচিত গল্পের সাথে পরিচয় করাবে। এই নাটকে আফরান নিশো ও মেহজাবিন দুজনাই ন্যাচারাল অভিনয় করেছেন। বলা যায় একে অন্যের সাথে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন। একই রকম রোমান্টিক নাটকে অভিনয় করে কিছুটা সমালোচনার মুখে পড়লেও মেহজাবিন দিন দিন নিজেকে অভিনয়ে পরিণত করছেন। 'এই শহরে' নাটক মেহজাবীন এর ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক বলে বিবেচিত হবে বললে খুব একটা ভুল বলা হবেনা। অন্যদিকে আফরান নিশো এই নাটকেও নিজেকে নিজেই ছাড়িয়ে গিয়েছেন। গৎবাঁধা রোমান্টিক প্রেমিক চরিত্রের চেয়ে এরকম ভিন্ন এবং চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করলে নিশো অভিনেতা হিসেবে নিজেকে  অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন খুব শ্রীঘই।

আশফাক নিপুনের দুটো নাটক বা টেলিছবি নিয়েই দর্শকের ইতিবাচক বক্তব্য এবং মন্তব্য দেখা যাচ্ছে সোশাল মিডিয়ায়। বক্তব্যধর্মী এবং ভিন্ন রকমের দুটো নাটকের প্রতি দর্শকের আগ্রহ বুঝিয়ে দেয় বাংলা নাটকের দর্শক এখনো আছে। যদিও অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন নাটক দেখাকে প্রায় অসম্ভবের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবুও ভালো গল্প, পরিচালনার মুন্সিয়ানা, সহজাত অভিনয় দক্ষতা নিয়ে হাজির হলে দর্শক তাতে মুগ্ধ হবেই। শুভকামনা এবং অভিনন্দন রইলো আশফাক নিপুনের জন্য। সামনে তার কাজগুলো এভাবেই আলোচনা এবং প্রশংসা কুড়াক এটাই কামনা।

বার্তাজগৎ২৪/এম এ