একজন সৌরভ গাঙ্গুলী ও দাদাগিরিতে বিশ্বজয়ের গল্প

বার্তা‌জগৎ২৪ ডেস্কঃ

প্রকাশিতঃ ১৮ অগাস্ট ২০১৯ সময়ঃ দুপুর ২ঃ৪৫
একজন সৌরভ গাঙ্গুলী ও দাদাগিরিতে বিশ্বজয়ের গল্প
একজন সৌরভ গাঙ্গুলী ও দাদাগিরিতে বিশ্বজয়ের গল্প

 

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্কঃ

সৌরভ গাঙ্গুলী সত্যি কি শুধুমাত্র একজন ভারতীয় ক্রিকেটারের নাম নাকি তিনি ওপার বাংলার সীমানা অতিক্রম করে এবার বাংলায়ও গোটা বাঙালি জাতির এক অহংকার এর নাম? বিভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন নামে পরিচিত একজন ভারতীয় অধিনায়ক তিনি। কেউ তাকে বলে বাংলার দাদা আবার কেউ তাকে বলে প্রিন্স‌ অফ ক্যালকাটা বেঙ্গল টাইগার।

সৌরভ গাঙ্গুলী ক্রিকেটপ্রেমীদের আবেগের সাথে মিশে থাকা একটি নাম। উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে তার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন। তার মত জনপ্রিয় একজন মানুষের জীবনের গল্প কতটা রোমাঞ্চকর আকর্ষণীয় হতে পারে তা হয়তো বা আপনার চিন্তা ধারার বাইরে।

সৌরভ গাঙ্গুলী জন্মগ্রহণ করেন ৮ই জুলাই, ১৯৭২ সালে, কলকাতার বেহালায় একটি প্রতিষ্ঠিত পরিবারে। তাঁর বাবার নাম চণ্ডীদাস গঙ্গোপাধ্যায় ও মাতার নাম নিরুপা গঙ্গোপাধ্যায়। সৌরভ মূলত তাঁর দাদার সাহায্যে ক্রিকেট জীবনে প্রতিষ্ঠিত হন।

বাঁহাতি ক্রিকেটার সৌরভ অদ্যাবধি ভারতের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক বলে বিবেচিত হন; তার অধিনায়কত্বে ভারত ৪৯টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে ২১টি ম্যাচে জয়লাভ করে। ২০০৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে তাঁর অধিনায়কত্বেই ভারত ফাইনালে পৌঁছে যায়। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় কেবলমাত্র একজন আগ্রাসী মনোভাবাপন্ন অধিনায়কই ছিলেন না, তাঁর অধীনে যে সকল তরুণ ক্রিকেটারেরা খেলতেন, তাঁদের ক্যারিয়ারের উন্নতিকল্পেও তিনি প্রভূত সহায়তা করতেন।

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বিশেষ খ্যাতিসম্পন্ন ক্রিকেটার। একদিনের ক্রিকেটে তাঁর মোট রানসংখ্যা এগারো হাজারেরও বেশি। একদিনের ক্রিকেটে তাঁর সাফল্য সত্ত্বেও ক্যারিয়ারের শেষদিকে একদিনের ক্রিকেটে তাঁর স্থলে দলে তরুণ ক্রিকেটারদের নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ২০০৮ সালের ৭ অক্টোবর সৌরভ ঘোষণা করেন যে সেই মাসে শুরু হতে চলা টেস্ট সিরিজটিই হবে তাঁর জীবনের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ। ২০০৮ সালের ২১ অক্টোবর সৌরভ তাঁর সর্বশেষ প্রথম-সারির ক্রিকেট ম্যাচটি খেলেন।

সৌরভ গাঙ্গুলী/গঙ্গোপাধ্যায় হলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের একজন বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রাক্তন অধিনায়ক। তিনি প্রথম জীবনে স্কুল ও রাজ্যের হয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন ক্রিকেট জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য পেতে থাকেন তিনি। তিনি তাঁর জীবনের প্রথম একদিনের আন্তর্জা‌তিক ম্যাচ খেলেন ১১ই জানুয়ারী, ১৯৯২ সালে। কিন্তু তিনি সেই অভিষেক ম্যাচে মাত্র তিন (৩) রান করেন, যার ফলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে দল থেকে বাদ পড়েন।

তার পরে ১৯৯৩-১৯৯৪ এবং ১৯৯৪-১৯৯৫ সালের রঞ্জি ট্রফিতে চমৎকার সাফল্য লাভ করেন যার ফলে তিনি আবার ১৯৯৬-এর ইংল্যান্ড সফরের জন্য খেলার সুযোগ পান। এরপরে সেই সফরেই তিনি তার জীবনের প্রথম টেস্ট খেলেন ২০ই জুন, ১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। তিনি সেই সফরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিলেন।

তিনি শুধু একজন খেলোয়াড়ই নন, একজন বিখ্যাত অধিনায়কও ছিলেন। তিনি তাঁর ক্রিকেট জীবনে সর্বমোট ৩১১টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এবং ১১,৩৬৩ রান সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি তিনি ১১৩টি টেস্ট খেলেছেন ও ৭,২১২ রান সংগ্রহ করেছেন। ভারতকে তিনি ৪৯টি টেস্ট ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যার মধ্যে ভারত জিতেছিল ২১টি ম্যাচে।

সৌরভ ভারতকে ১৪৬টি একদিনের আন্তজার্তিক ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যার মধ্যে ভারত জিতেছিল ৭৬ টি ম্যাচে। তিনি ভারতের একজন মিডিয়াম পেসার বোলারও ছিলেন। তিনি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০টি এবং টেস্টে ৩২টি উইকেট দখল করেন। এছাড়া তিনি একদিনের আন্তর্জাতিকে ১০০টি ও টেস্টে ৭১টি ক্যাচ নিয়েছেন।

২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলার পর তিনি ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। এরপরে ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০-এ আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেন এবং ২০০৮ ও ২০১০-এ এই দলকে নেতৃত্ব দেন। ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত আইপিএলের চতুর্থ সিজনে নিলামে তিনি অবিক্রীত থেকে গেলেও শেষ পর্যন্ত পুনে ওয়ারিয়র্সের দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। বর্তমানে তিনি পুনে ওয়ারিয়র্সের মেন্টর ও অধিনায়ক।

অবসর পরবর্তী জীবনে বর্তমানে সৌরভ গাঙ্গুলী সিএবি (CAB) এর সভাপতি এবং বিসিসিআই - উপদেষ্টা কমিটির সদস্য। সৌরভ আইএসএল ফুটবল দল অ্যাটলেটিকো দি কলকাতার (ATK) অন্যতম কর্ণধর।


সৌরভ মোট ৩১টি আন্তর্জাতিক একদিনের ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পান।

ডোনাকে নিয়ে পালিয়েছিলেন সৌরভ! এটা ডাহা মিথ্যা, সাফ জানালেন কলকাতার মহারাজ। সৌরভ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, মিডিয়া অনেক রং চড়িয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বিয়েটা ধুমধাম করে দিয়েছিল বাবা-ই (চন্ডী গাঙ্গুলি)'।

প্রসঙ্গত, সৌরভ-ডোনার বিয়ে হয়েছিল ১৯৯৭-এর ফেব্রুয়ারি। প্রথম দিকে তাদের সম্পর্ক নিয়ে সৌরভের পরিবারে সমস্যা হলেও পরে চন্ডী গাঙ্গুলি দাঁড়িয়ে থেকেই নিজের ছোট ছেলের বিয়ে দেন।

সৌরভ জানান, তার আগে গাঙ্গুলি পরিবারে কেউ লাভ ম্যারেজ করেনি। আর সেই কারণেই বাড়িতে ডোনার কথা বলতে খানিক ভয়ই হয়েছিল তার। কিন্তু পরে তার আর ডোনার সম্পর্কের কথা জানতে পেরে চন্ডী গাঙ্গুলি সৌরভকে বলেছিলেন, মন দিয়ে ক্রিকেট খেল, বাকিটা আমি সামলে নেব।

এ কথা অনস্বীকার্য, ভারতীয় ক্রিকেটে সৌরভ সেই অধিনায়ক, যিনি ভারতকে উপমহাদেশের বাইরে জেতাতে শিখিয়েছেন। ভারত একটা দল এবং ক্রিকেটে দলগত ভাবেই পারফর্ম করতে হবে- এই মানসিকতা এনে দিয়েছিলেন কলকাতার মহারাজ।

ক্রিকেটের এই মহারাজা হয়তো নিটল মাস্টার শচিনের মতো কিংবা মাহেন্দ্র সিং ধোনীর মতো বড় বড় রেকর্ডে‌র খাতায় নিজের নাম লেখাতে পারেন নি,কিন্তু তিনি দুই বাংলাতেই তরুণ প্রজন্মের ক্রিকেটীয় আইডল হিসেবে সমাদ্রিত হয়ে আছেন। এখোনো সমান তালে দাদাগিরি করে যাচ্ছেন তার জগতে।

বার্তা‌জগৎ২৪.কম/এফ এইচ পি