একদল সাহসী শিশু দুর্ঘটনা থেকে বাঁচালো ট্রেনকে

বার্তা‌জগৎ২৪ ডেস্কঃ

প্রকাশিতঃ ২৬ অগাস্ট ২০১৯ সময়ঃ রাত ৯ঃ৪৭
একদল সাহসী শিশু দুর্ঘটনা থেকে বাঁচালো ট্রেনকে
একদল সাহসী শিশু দুর্ঘটনা থেকে বাঁচালো ট্রেনকে

বার্তা‌জগৎ২৪ ডেস্কঃ

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের গেটপাড়া নামক স্থানে রেল লাইনের পাশেই সোমবার (২৬ আগস্ট) সকালে খেলা করছিলো কয়েকটি স্থানীয় শিশু। তারা লক্ষ্য করে রেল লাইনের স্লিপার নষ্ট হয়ে গেছে। নাট-বল্টু খুলে গেছে। জোড়ার অংশ অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তখনই শিশুরা দৌড়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রেল লাইনের অদূরে থাকা স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জিলানী মন্ডলকে বিস্তারিত জানায়। শিশুদের মুখে রেল লাইনের কথা শুনে তিনি দ্রুত ছুটে আসেন। জিলানী রেল লাইনের অবস্থা দেখে দ্রুত লাল কাপড় দিয়ে ওই চিহ্নের আগে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে নির্দেশনা দেন।

এদিকে কিছুক্ষণ পরেই মিরপুর স্টেশন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দিয়ে খুলনা অভিমুখী একটি মালবাহী ট্রেন লাল সংকেত দেখে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানের আগেই থেমে যায়। 

পরে ড্রাইভার ট্রেন থেকে নেমে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন দেখে বিস্মিত হন ও জিলানী মন্ডলসহ উপস্থিত বাচ্চাদের ধন্যবাদ জানান। এরপর ট্রেনের ড্রাইভার মুঠোফোনে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করে এক ঘন্টার বেশি সময় পর সর্বনিম্ন গতিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটি অতিক্রম করে খুলনা অভিমুখে যাত্রা করে।

সাবেক ইউপি সদস্য জিলানী মন্ডল জানান, আমি বিলে পাট ধোয়ার কাজ করছিলাম। কয়েকটি বাচ্চা গিয়ে আমাকে জানায় রেল লাইন অনেকটা ভেঙ্গে গেছে। আমি গিয়ে দেখি স্লিপার নষ্ট হয়ে নাট-বল্টু খুলে গেছে। সেই সাথে জোড়ার স্থান অনেকটা সরে গেছে। এ সময় এ স্থান দিয়ে ট্রেন গেলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। এজন্য আমি বাচ্চাদের বাড়ি থেকে লাল কাপড় আনতে বলি এবং একটি মালগাড়িকে থামাই। পরে ড্রাইভার দেখেশুনে খুবই সতর্কতার সাথে চলে যায়। জোরে গেলে হয়তো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো।

সেই সাথে অভিযোগ করে তিনি বলেন, রেল লাইনের স্লিপারগুলো অনেক পুরাতন। সেই সাথে নাট-বল্টুও খুলে গেছে। একটা নাট আছে তো দুইটা নেই। এভাবেই দিনের পর দিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে ট্রেন। কর্তৃপক্ষ প্রায়ই মেরামত করে তবে কোন কিছু পাল্টায় না। ২-৪ দিন পর আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ মনিরুজ্জামান মনির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মিরপুর-পোড়াদহ স্টেশনের মাঝামাঝি রেল লাইন অনেক পুরাতন হওয়ায় এক স্থানে হালকা সরে যায়। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পরে আমরা লোক পাঠিয়ে দেখি সেটা খুবই সামান্য।

বার্তা‌জগৎ২৪.কম/এফ এইচ পি

Share on: