কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলিতে ৮ সেনা নিহত

দিদার, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ১৬ অগাস্ট ২০১৯ সময়ঃ দুপুর ১২ঃ৪১
কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলিতে ৮ সেনা নিহত
কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলিতে ৮ সেনা নিহত

 

দিদার, বিশেষ প্রতিনিধি:

ভারত-পাকিস্তান একে অপরের চিরশত্রু গতকাল ১৪ আগস্ট ছিল পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস এবং আজ ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস। দুই দেশের স্বাধীনতা দিবসের পরিপূর্ণ আমেজের মধ্যেও থেমে নেই তাদের যুদ্ধ।

আজ বৃহস্পতিবার সীমান্তের শূন্যরেখায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোলাগুলি হয়েছে। এ সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুলিতে পাকিস্তানের তিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। অপরদিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতেও ভারতের পাঁচ সেনা নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) প্রধান আসিফ গফুর এক টুইটের মাধ্যমে সেনাবাহিনী নিহত হওয়ার খবরটি দাবি করেছেন। এই ব্যাপার ইতিমধ্যে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন এ খবর ও প্রকাশিত হয়েছে।

এমনকি এখনো পর্যন্ত সীমান্তে গোলাগুলি চলছে দাবি করে আসিফ গফুর বলেন, ভারতীয় সেনাদের গুলিতে পাকিস্তানি তিন সেনা নিহতের জবাবে পাঁচ ভারতীয় সেনাকে হত্যা করে তার পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে ভারতীয় বাংকার ধ্বংস করা হয়েছে।পাকিস্তানি সংবাদ মাধ্যমে ইতিমধ্যে এই নিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে।

আসিফ গফুর বলেন, ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের নাজুক অবস্থার দিক থেকে দৃষ্টি ফেরাতে ইদানীং শূন্যরেখায় বেশি বেশি গোলাগুলি করছেন ভারতীয় সেনারা। সেই গুলিতে প্রাণ হারান পাকিস্তানি তিন সেনা তারা হলেন,নায়েক তানভীর, ল্যান্স নায়েক তৈমুর ও সিপাহি রমজান।পাকিস্তান তাদের নিজেদের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পর ভারতের স্বাধীনতা দিবসে ১৫ আগস্ট কাশ্মীরে নাজুক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কালো দিবস পালন করছিল।এমন সময় ভারতীয় সেনাদের আক্রমণে পাকিস্তানি সেনা নিহতের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

সংবিধানের ধারা বাতিল করে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর থেকে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর নজিরবিহীন কড়া নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর।৫ আগস্ট ভারতীয় সংসদে সংবিধান থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে বিল পাস হয়। এর ফলে কাশ্মীরিরা তাদের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

ভারতীয় সংবিধান থেকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এ উপলক্ষে সেখানে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ভারত সরকার।

দুইজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আব্দুল্লাহসহ কয়েকশ কাশ্মীরি নেতাকর্মীকেও আটক করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা সহ নানা রকমের সুযোগ সুবিধা। এরপর থেকে কাশ্মীরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ অবস্থারও সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে তাদের কোনো সেনাবাহিনী নিহত হয়নি। এখন ইসলামাবাদ তার প্রতি উত্তরে কি জানায় তা দেখার পালা।

বার্তাজগৎ২৪/এম এ