চট্টগ্রামে কুকুরের মুখ থেকে নবজাতককে উদ্ধার করলেন এসআই মোস্তাফিজুর রহমান

বার্তা‌জগৎ২৪ ডেস্কঃ

প্রকাশিতঃ ২০ অগাস্ট ২০১৯ সময়ঃ রাত ৯ঃ০৫
চট্টগ্রামে কুকুরের মুখ থেকে নবজাতককে উদ্ধার করলেন এসআই মোস্তাফিজুর রহমান
চট্টগ্রামে কুকুরের মুখ থেকে নবজাতককে উদ্ধার করলেন এসআই মোস্তাফিজুর রহমান

দিদার, বিশেষ প্রতিনিধি।

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে কুকুরের মুখ থেকে এক নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে মানবিকতার নজির স্থাপন করলেন নগরীর ডবলমুরিং থানার এসআই মুস্তাফিজুর রহমান। 

আজ মঙ্গলবার ভোরে আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় থেকে একটি কন্যা নবজাতককে উদ্ধার করেছেন তিনি।

এসআই মোস্তাফিজ বলেন, রাতের ডিউটি শেষে আক্তারুজ্জামান সেন্টারের সামনে ভোর ৫ টার সময় ফোর্স নিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি সড়কের বিপরীত দিকে আগ্রাবাদ সোনালী ব্যাংকের সামনে তিনটি কুকুর কিছু একটাকে নিয়ে টানাটানি করছিল। এগিয়ে গিয়ে দেখি একটি সদ্য জন্ম নেয়া নবজাতক শিশু। হাত পা নাড়াচাড়া করার পাশাপাশি কান্না করছিল। আশেপাশে কেউ না থাকায় কুকুরগুলো তাকে নিয়ে টানাটানি করছে।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবেই কোনরকম সময়ক্ষেপণ না করে আমি তখন রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া এক নারীর সাহায্য নিয়ে ওই শিশুটিকে উদ্ধার করি। রাস্তার একটি অস্থায়ী চায়ের দোকান (টং) থেকে কাপড় নিয়ে বাচ্চাটার শরীরে জড়িয়ে নিয়ে দ্রুত আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চমেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পরামর্শ দেন।

তিনি আরও বলেন, চমেক হাসপাতালে যাওয়ার পথে বাদামতলী মোড়ে জনতা ব্যাংকের সামনে এক নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখি আমরা। তখন স্থানীয়রা জানায়, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। এখানে রাস্তায় থাকেন। নাম জিজ্ঞেস করতে ওই নারী জানায়- তার নাম আয়েশা। কিন্তু আর কিছু বলতে পারছেন না তিনি। তার শরীর রক্তাক্ত দেখে বুঝলাম এই নবজাতক শিশুটি এই প্রসূতি মায়ের।

এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আনুমানিক ২৫-২৭ বছর বয়সী ওই নারীকে বাচ্চার কথা জিজ্ঞাসা করতেই শুধু রাস্তার উল্টো দিকে দেখাচ্ছিলেন। যেখানে বাচ্চাটিকে কুকুরগুলো নিয়ে টানাটানি করছিল। তখন আমি ধারণা করে নিলাম উদ্ধার হওয়া ফুটফুটে নবজাতকটির মা এই নারী।

পুলিশের এই সদস্য আরও জানান,ওই নারীসহ শিশুটিকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান বাচ্চাটি সুস্থ আছে। অপরদিকে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীটিকে চমেক হাসপাতালের ৩৩নং গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়ে নেন চিকিৎসকেরা। তিনি বিস্ময়ের সুরে আরো বললেন,আমার বার বার চোখে ভেসে উঠছে নবজাতকের গায়ে লেগে থাকা নাড়ি নিয়ে টানাটানি করছি কুকুরগুলো। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন নবজাতকটির গায়ে কুকুরের একটি আচঁড় বা কামড় ও লাগেনি। এতেই শান্তি পেলাম যে ফুটফুটে বাচ্চাটি ভালো আছে, তার মাও সুস্থ আছে।

পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানের নবজাতক উদ্ধারের ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়ে সিএমপির সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) আশিকুর রহমান সংবাদমাধ্যমে বলেন, একজন পুলিশ সদস্য শুধু মাত্র বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা নয় বরং জনগণের বন্ধু হিসেবে পুলিশ সবসময় যে সঙ্গে থাকে তার প্রমাণ দিয়েছেন এসআই মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি আরো বলেন, আগ্রাবাদ সোনালী ব্যাংকের সামনে তিনটি কুকুর কিছু একটাকে নিয়ে টানাটানি করছিল বিষয়টি চাইলে তিনি এড়িয়ে যেতে পারতেন কিন্তু তিনি তা না করে বাচ্চা উদ্ধার এর পাশাপাশি পরে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রসূতি মাকেও উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। মানবতা যেখানে বিপন্ন সেখানে এই পুলিশ সদস্য সত্যিকারের দেবদূত হয়ে দুটি প্রাণকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলেন নিঃস্বার্থভাবে। নিঃসন্দেহে এই ঘটনাটি পুলিশের প্রতি সাধারণ জনগণের পজিটিভ একটি ধারণা তৈরির পাশাপাশি জনগণকে আরো বেশি করে মহৎ কাজের উৎসাহিত করে তুলবে।

হাসপাতালে গেলে দেখা যায়,বাচ্চাটিকে বুকের দুধ দিতে এগিয়ে এসেছেন ৩৩ নং ওয়ার্ডের অপর একজন প্রসূতি নারী। যেহেতু বাচ্চাটির জন্মদাতা মা একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী।সেহেতু তিনি নিজের বাচ্চার দেখভাল করতে পারছেন না বরং হাসপাতালের ওয়ার্ডে এদিক ওদিক হাঁটাহাঁটি করছেন। তাই বাচ্চাটির দেখাশুনা সহ দুধ পান করার দায়িত্ব পালন করছেন অন্যান্য ওয়ার্ডের প্রসূতি নারীরা।

বার্তা‌জগৎ২৪.কম/এম এ/এফ এইচ পি