কৃষককে ঘর নির্মাণ করে দিলেন প্রকৌশলী মুরাদ

মোবারক হোসেন ফাহিম:

প্রকাশিতঃ ৩১ জুলাই ২০২০ সময়ঃ রাত ৩ঃ৫৮
কৃষককে ঘর নির্মাণ করে দিলেন প্রকৌশলী মুরাদ
কৃষককে ঘর নির্মাণ করে দিলেন প্রকৌশলী মুরাদ

মোবারক হোসেন ফাহিম: 

বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রভাবে নগর জীবন যখন স্তম্ভিত। ইট কাঠের ব্যস্ততম শহর ছেড়ে দিনমজুর থেকে শুরু করে গার্মেন্টস শ্রমিকের শেষ আশ্রয়স্থল এখন গ্রামের পৈতৃক ভিটে মাটি। শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ জীবনেও করোনার প্রভাব বেশ লক্ষ্যণীয়। তবে আত্মনির্ভরশীল কৃষিভিত্তিক জীবনযাপন হওয়ায় জনজীবনে এখনো স্বস্থি বিরাজমান।

কৃষকের ঘরে কৃষি ফসলাদি তুলা হলেও টানা বর্ষণে মানুষ হতাশা আর কর্মহীন ধূসর চোখ নিয়ে গৃহবন্দী। করোনার করুণাহীণ একচেটিয়া দখলদারত্বের কবলে পড়ে সাধারণ জীবন এখন দ্বিধাগ্রস্ত ও দিশেহারা হয়ে পড়লেও দারিদ্র্যের জীবনে এখন "মরার উপর খাঁড়ার ঘা" এর মতই অবস্থা। টানা বর্ষণে গরমের প্রভাব কমে গেলেও জীবন সংগ্রামে হেরে যাওয়া নেপালের জীবন পরিতৃপ্ত করতে পারেনি আষাঢ়ের বর্ষণ। ভাংগা জীর্ণশীর্ণ শরির যেমন ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে নতজানু, তেমনি তার একমাত্র আবাস্থল গৃহের চালাটি  মরিচাধরে, পুরনো কাঠের শক্তি ম্লান হয়ে মিশে আছে উঠানে। ২ সন্তান আর স্ত্রী সহ আশ্রয় এখন ফুলঝুরি জসিমিয়া সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের বারান্দায়। 

জীবন যুদ্ধে হারমেনে নেওয়ার এই করুণ দৃশ্য সকলের নজর এড়িয়ে গেলেও এড়িয়ে যেতে পারেনি ফুররাম ফাউন্ডেশনের কর্মীদের। এগিয়ে এলেন মানবতার মুক্তির দিশারি হয়ে মুরাদ নামের একজন। নিজে দাড়িয়ে থেকে শুরু করলেন গৃহনির্মাণের কাজ। কয়েক জোড়া চোখ এক সাগর বিশ্বয় নিয়ে সেদিন শুধু দাড়িয়ে দেখছিলেন ফুররাম ফাউন্ডেশনের কর্মকাণ্ড। পরিচয় নিয়ে জানা গেলো, মুরাদ পেশায় একজন প্রকৌশলী। পারিবারিক ভাবে গড়ে উঠা ফাউন্ডেশনকে কেন্দ্র করে কাজ করে যাচ্ছেন নিরবে নিভৃতে। ভাংগা চুড়া ঘর দেখলেই এগিয়ে যান নিজের সমস্ত সামর্থ নিয়ে। এরকম মহৎ উদ্যোগের কারণ জানতে চাইলে মুরাদ প্রতিবেদককে বলেন " দারিদ্রের  কষাঘাতে জীবনে বিপর্যয়গ্রস্থ মনের উল্লাসপূর্ণ চোঁখ আর ছলছলে আনন্দ অশ্রু যে সুখ এনে দেয় তার বিনিময়ে কোথাও আর খুঁজে পাই না। 

তিনি আরও বলেন, " ভালো কাজের প্রতিদান কখনো মিলবে কি' না তার হিসেব কখনো করি নি তাৎক্ষণিক হাসিমাখা মুখের দোয়া পাই তার মূল্য আক্ষরিক মূল্যর বহু উর্ধে।

বার্তাজগৎ২৪/ এম এ

 

Share on: