ক্যাসিনোতে অভিযানের হিরো ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম

দিদার, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সময়ঃ রাত ১২ঃ২১
ক্যাসিনোতে অভিযানের হিরো ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম
ক্যাসিনোতে অভিযানের হিরো ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম

দিদার, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সরকার দলীয় বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা নানা রকমের দুর্নীতি ও অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার কারণে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা একে একে দুর্নীতি ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।

এমনকি নিজের দলের নেতাকর্মী হয়েও কেউ আইনের হাত থেকে বাঁচতে পারছেনা।

সেইরকম দুঃসাহসিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে সারাদেশের জনগণের কাছে একজন হিরো হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পাশাপাশি শুভেচ্ছা বন্যায় সিক্ত হচ্ছেন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। তিনি র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে সারা দেশজুড়ে এর আগেও তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।

এবারে রাজধানীতে সরকারদলীয় যুবলীগ নেতার সম্পৃক্ত অবৈধ ক্যাসিনোতেও অভিযান পরিচালনা করে সারাদেশের মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন কিশোরগঞ্জের এই কৃতী সন্তান।

মিডিয়ায় দেখা যায় প্রতিদিনই ঢাকার কোনো না কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা কিংবা খাবারের দোকানে অভিযান চালাচ্ছেন মো. সারওয়ার আলম। একই সঙ্গে কিশোরদের মাদকসেবন থেকে শুরু করে রাজধানীতে ঘটা নানান অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও সমানতালে অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছেন তিনি।

সেই সাথে তিনি নিজের ফেসবুক পেজেও প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় এসব অভিযানের ছবিসহ আপলোড দিয়ে সচেতনতামূলক পোস্ট শেয়ার করে জনগণকে সচেতন করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমান সময়ে দেশের সবচেয়ে আলোচিত ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবের অবৈধ ক্যাসিনোতে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। সেই অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। সেখান থেকে ১৪২ জন নারী-পুরুষকে আটক করে র‌্যাব। অবৈধ এই ক্যাসিনোতে চালানো অভিযানে বিপুল জুয়া সামগ্রী, মাদক ও নগদ ২৪ লাখ টাকা সহ আরো অনেক কিছু উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে ক্যাসিনো সম্রাট খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার গুলশানের বাসায় ও অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদকসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসলেও সেই অবৈধ ক্যাসিনো ছিল লোকচক্ষুর আড়ালে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সাংবাদিকেরাও এর সাথে সম্পৃক্ত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের অনেক নেতাদের অবস্থা তাদের চেয়েও খারাপ বলে মন্তব্য করেছিলেন। হঠাৎ করে র‌্যাবের অভিযানের পর সারা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বের হয়ে আসতে থাকে একের পর এক অবৈধ ক্যাসিনোকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সেই অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেয়া র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকে জাতীয় বীর বলে সম্বোধন করছেন।

র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার একজন গর্বিত সন্তান। পাকুন্দিয়া বড়বাড়ির ব্যবসায়ী বাবা বোরহান উদ্দিন এবং আমেনা খাতুনের একমাত্র ছেলে তিনি। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় মো. সারওয়ার আলম এর স্কুল ও কলেজ জীবন কেটেছে কিশোরগঞ্জে। পড়েছেন কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গুরুদয়াল সরকারি কলেজে। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

দেশের এই সাহসী ও মেধাবী সন্তান ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে যোগ দেন প্রশাসনে। তিনি বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ফোর্সেসের আইন কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। কমিটমেন্ট, সততা, সিরিয়াসনেস, সিনসিয়ারিটি ও সাহসিকতা তাহার একমাত্র সম্পদ। এসবকে পুঁজি করেই তিনি একের পর এক নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে প্রায় সময় দুঃসাহসিক সব অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। যত বড় শক্তিশালী কিংবা ক্ষমতার মালিক হোক না কেন তিনি কখনো পরোয়া করেন না কোনো হুমকি-ধমকি কিংবা অপরাধীদের রক্তচক্ষুকে।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার অভিযানে তাঁর অনুপ্রেরণা একটাই, সেটা হলো অনিরাপদ খাদ্য খেয়ে একটি জাতি কোনোভাবে শারীরিকভাবে ফিট থাকতে পারবে না,হবে না কোনো দেশের উন্নতি। তাই যেকোনো মূল্যে ভেজাল ঠেকিয়ে দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করাই তাহার একমাত্র লক্ষ্য এবং চ্যালেঞ্জ।

নিজের কর্ম জীবনে যোগদানের পর থেকে সততার সাথে কাজ করে আসার পাশাপাশি ভেজালবিরোধী অভিযানে একের পর এক সফল হওয়ার কারণে বর্তমানে সারা দেশজুড়ে আলোচিত ও প্রশংসিত একটি নাম ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। তিনি র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নিজের কর্মদক্ষতা, সাহসিকতার পাশাপাশি অনবদ্য ভূমিকায় অবদান রাখার কারণে গত ১২ মে তার মা মোছাম্মদ আমেনা খাতুনকে দেওয়া হয়েছে ‘গরবিনী মা’ সম্মাননা। সেই সাথে অনেকেই বলছেন, সত্যিই এমন হীরের টুকরো ছেলে জন্ম দিয়ে দেশবাসীর সামনে গর্ব করতেই পারেন তাহার গর্ভধারিনী মা।

বার্তা‌জগৎ২৪.কম/এফ এইচ পি

Share on: