ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নাটকীয় ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হলেন ইংল্যান্ড

দিদার, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ১৫ জুলাই ২০১৯ সময়ঃ ভোর ৫ঃ১৬
ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নাটকীয় ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হলেন ইংল্যান্ড
ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নাটকীয় ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হলেন ইংল্যান্ড

 

দিদার, বিশেষ প্রতিনিধিঃ 

ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন নাটকীয় ফাইনাল এর আগে কখনো দেখেনি ক্রিকেটবিশ্ব।  একশো ওভারের শেষে ম্যাচ টাই। সুপার ওভারেও ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়নি আবারো টাই! শেষ মেশ বেশি বাউন্ডারি মারার জন্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হল ইংল্যান্ডকে!

ইংল্যান্ডের মতো দীর্ঘ ব্যাটিং লাইনের একটি দলের জন্য নিজেদের ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের দেয়া ২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করা সহজ ব্যাপার হলেও নিউজিল্যান্ডের বোলারদের বোলিং তাণ্ডবে শেষ ওভারে জেতার জন্য ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ১৫ রান। ট্রেন্ট বোল্টের ওভারের প্রথম দুটো বলে রান নিতে পারেননি বেন স্টোকস।পরের বলেই ছক্কা হাঁকান তিনি। তার পরের বলটি মিড উইকেটে পাঠিয়ে দু’ রান নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে দৌড়ন স্টোকস। গাপটিলের ছোড়া বল স্টোকসের ব্যাটে লেগে আবারো চার হয়ে যায়!

যে ম্যাচটি ইংল্যান্ডের হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল সেই ম্যাচে দু’ বলে ১২ রান পাওয়ায় আবারো জয়ের গন্ধ পেতে শুরু করে ইংল্যান্ড। শেষ দু’ বলে জেতার জন্য ইংল্যান্ডের দরকার মাত্র তিন রান। 

বোল্টের করা শেষ ওভারের পঞ্চম বলটিতে রান আউট হয়ে ফিরে যান আদিল রশিদ। ফলে শেষ বলে জেতার জন্য ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ২ রান। বোল্টের বল মেরেই দু’ রান নেওয়ার জন্য দৌড়ান স্টোকস। কিন্তু মার্ক উড রান আউট হয়ে যাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেই সুপার ওভারে ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে তোলে ১৫ রান। সেই রান তাড়া করতে নেমেও নতুন নাটক শুরু। গাপটিলের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ভর করে শেষ বলে জেতার জন্য কিউয়িদের দরকার ছিল ২ রান। দু’ রান নিতে গিয়ে এবারে রান আউট হয়ে পড়েন গাপটিল। ফলে সুপার ওভারেও ম্যাচ টাই! 

এরকম পরিস্থিতিতে নিয়ম অনুযায়ী যে দল বেশি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছে,সেই দলকেই বিজয়ী হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।বেশি বাউন্ডারি মারায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ক্রিকেটের জন্মদাতা খ্যাত ইংল্যান্ড।আগের কোনও বিশ্বকাপ সুপার ওভারেও গড়ায়নি। এমনকি কোনও দল বেশি বাউন্ডারি মারার জন্য বিশ্বচ্যাম্পিয়নও হয়নি। সব দিক থেকে ব্যতিক্রমী ছিল এ বারের বিশ্বকাপ। 

সবচেয়ে দুর্ভাগ্য নিউজিল্যান্ডের জন্য। গত বারও ফাইনালে পৌঁছেছিল তারা কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারতে হয়। এ বারও ফাইনালে পৌঁছে ইংল্যান্ডের কাছে হার মানতে হয় প্রায় শতভাগ জিতে যাওয়া ম্যাচটিও! খেলা শেষে তাই সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়তে দেখা গেছে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের কে।এরকম নাটকে মোড়া বিশ্বকাপ ফাইনাল যে দেখতে পাবে তা আগে কেউ চিন্তাও করেনি।

এবারের ফাইনালে শুরু থেকেই কিউইদের উপর দাপট দেখান ইংল্যান্ডের বোলাররা। জোফ্রা আর্চার, প্ল্যাঙ্কেট, ওকসরা শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের উপরে। সেই চাপ আর সামলে উঠতে পারেননি নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। ৫০ ওভারে নিউজিল্যান্ড করে আট উইকেটে মাত্র ২৪১ রান। সেই অল্প রান তাড়া করতে নেমেও দ্রুত উইকেট হারিয়ে একসময়ে চাপ অনুভব করতে শুরু করে দিয়েছিল ইংল্যান্ড। জেসন রয় (১৭) ও জো রুট (৭), বেয়ারস্টো (৩৬) ও মর্গ্যান (৯) রানে ফিরে গিয়েছেন। তার পরে ইংল্যান্ডকে স্বপ্ন দেখায় স্টোকস ও বাটলারের ব্যাট। স্টোকস দুরন্ত ৮৪ রানের ইনিংস খেলেন। বাটলারও করেন ৫৯ রান। সেই ম্যাচ ও যে এমন নাটকীয় ভাবে শেষ হবে কে জানতো! এক পর্যায়ে যখন নিউজিল্যান্ডের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল ঠিক সেখান থেকে ভাগ্যবিধাতার কারণে আবারো ম্যাচ টি বেরিয়ে গেল ইংল্যান্ডের হাতে! চরম উত্তেজনাপূর্ণ নাটকীয় ম্যাচে অবশেষে শেষ হাসিটা হেসে ইংল্যান্ড বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো।

বার্তা জগৎ২৪/ এম এ