ক্ষণজন্মা কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

দিদার, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ১৯ জুলাই ২০১৯ সময়ঃ রাত ৩ঃ২০
ক্ষণজন্মা কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
ক্ষণজন্মা কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

 

দিদার, বিশেষ প্রতিনিধি: 

একজন ক্ষণজন্মা কথাসাহিত্যিক ও কলমের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ। বর্তমান সময়ে কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত এমন কোন ব্যক্তি নাই যারা হুমায়ূন আহমেদের লেখা কিংবা নাটকের প্রেমে পড়েননি। সেই জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ২০১২ সালের ১৯ জুলাই।

এই কিংবদন্তি লেখকের শুরুটা ছিল নেত্রকোনা জেলার কুতুবপুরে।হুমায়ূন আহমেদের ডাকনাম ছিল কাজল। তিনি ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জম্মগ্রহণ করেন।

বাবা ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমান ও মা আয়েশা ফয়েজ। বাবার কর্মসূত্রে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন বিধায় শৈশবে তিনি দেশের নানা স্কুলে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ১৯৬৫ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে তিনি সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়ে এসএসসি পাস করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষাতেও তিনি মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছিলেন। এরপরে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে।

১৯৭২ সালে রসায়ন বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতকোত্তর পাস করে তিনি একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরে ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে প্রফেসর জোশেফ এডওয়ার্ড গ্লাসের তত্ত্বাবধানে পলিমার কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার আত্মপ্রকাশ ১৯৭২ সালে ‘নন্দিত নরক’ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে। উপন্যাসের ক্যানভাসে মধ্যবিত্ত জীবন রচনার পাশাপাশি অসাধরণ সব সায়েন্স ফিকশন, ছোটগল্প, কবিতা, গান, নাটক লিখে সারা বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষাভাষী লোকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন তিনি। প্রায় তিন শতাধিক বই প্রকাশ পেয়েছে এই কালজয়ী লেখকের।

তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে অন্যতম উপন্যাসগুলো হচ্ছে— নন্দিত নরকে, মেঘ বলেছে যাব যাব, আগুনের পরশমণি, আমরা কেউ বাসায় নেই, মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প, মাতাল হাওয়া ইত্যাদি। তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে-দুই দুয়ারী, শ্রাবণ মেঘের দিন, ঘেটুপুত্র কমলা ইত্যাদি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। পরে লেখালেখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যস্ততায় তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। জীবনের একটি সময়ে এসে চলচ্চিত্র নির্মাণ কিংবা নাটক নির্মাণে হুমায়ুন আহ্মেদ বেশ মনোযোগী হয়ে উঠেছিলেন। যদিও বা মৃত্যুর আগে অসুস্থতার কারণেই এই জনপ্রিয় লেখক ও নির্মাতা কে অনেক গুলো ভালোলাগা কাজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে হয়েছে।

কোটি হৃদয়ের ভালোবাসায় সিক্ত হুমায়ূন আহমেদ বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, শিশু একাডেমি পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার ও মাইকেল মধুসূদন পদক সহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বাংলা সাহিত্যের এই কিংবদন্তি চিরদিনের জন্য না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেও শতবর্ষ পরেও অম্লান হয়ে থাকবেন কোটি কোটি ভক্ত সমর্থকদের হৃদয়ে।

বার্তা জগৎ২৪/ এম এ 

 

 

 

 

 

 

Share on: