ছাত্রলীগ নেতার সততার দৃষ্টান্ত

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১৬ অক্টোবর ২০১৯ সময়ঃ দুপুর ২ঃ২৬
ছাত্রলীগ নেতার সততার দৃষ্টান্ত
ছাত্রলীগ নেতার সততার দৃষ্টান্ত

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ অবধি দেশের ক্রান্তিকালে দেশের স্বার্থে রুখে দাড়িয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অনেক ভালোকাজ করে যেমন মানুষের প্রশংসা কুড়ায় তেমনি কিছু নেতিবাচক কাজে জড়িয়ে হয় সমালোচনার শিকার। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক নেতা তার বিকাশ একাউন্টে ভুল করে আসা টাকা ফেরত দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিৎ চন্দ্র দাস তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পাঠকদের সুবিধার্থে সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেওয়া হল-

ছাত্রলীগের মুক্তিযোদ্ধা হলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমডি আযাহারুল ইসলাম মামুনের  বিকাশ একাউন্টে বিকেল ৫ টার দিকে একটা বিকাশ নম্বর থেকে ২০ হাজার ৪০০ টাকা আসলো। 

গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার ভরতপুর ইউনিয়নের আফ্রিকান কান্ট্রি মরিশাস প্রবাসী জাহিদ মিয়া তার বাড়ির বিকাশ নম্বরে টাকাটা পাঠিয়েছিলেন। ভুল করে আযহারের একাউন্টে চলে আসে। 

অত্যন্ত দরিদ্র প্রবাসী শ্রমিকের ঘাম ঝরানো উপার্জনে পাঠানো এই টাকা অন্য কারো একাউন্টে আসলে কি হতো জানিনা তবে মুক্তিযোদ্ধা হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আযহার প্রবাসী লোকটি ফোন করে জানানোর সাথে সাথে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে কোন রকম বিলম্ব ছাড়াই পুরো টাকাটি পাঠিয়ে দিয়েছে।

সততার দৃষ্টান্ত তো এরকমই হওয়ার দরকার। সুযোগ থাকা সত্বেও ছাত্রলীগ কর্মীর এরকম মহৎ সদিচ্ছা আপনাদের কাউকেই গর্বিত করবে না জানি কিন্তু আমরা প্রচণ্ড গর্ব অনুভব করি। 

মধ্যরাত, ভোর, দুপুর কিংবা বিকেল বেলায় হাসপাতালে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বা নিজ জেলার মানুষ কে সাহায্য করা আমরাসহ শত শত ছাত্রলীগ কর্মীর প্রতিদিনের রুটিন। এই কথা কেউই কখনো বলে না। এ নিয়ে কোন দুঃখও কোনদিন করি না!

আর ছাত্রলীগের রক্ত তো সরকারি রক্ত! দেশ স্বাধীন করার জন্যেও এই রক্ত ঝরেছে, গণতন্ত্রের জন্য ঝরেছে, হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বেঁচে থাকার জন্য প্রাণপণ লড়াই করা মানুষগুলোর শরীরে তো এখনো বয়েই চলেছে হাজার হাজার ব্যাগ এবং বইতেই থাকবে। 

কষ্ট লাগে, প্রচণ্ড দুঃখ পাই মনের গভীরে যখন দেখি ছাত্রলীগের এই একই প্রবহমান রক্ত অন্যায়ভাবে কেউ পিটিয়ে, কুপিয়ে, গুলি করে স্তব্দ করে দেওয়ার পরও আপনারা উল্লাস করেন।

দিনশেষে শুধু এতটুকু সান্ত্বনা নিয়ে আমরা ঘরে ফিরি যে, যাইহোক দেশটা আমাদের দেশটা ভালো থাকুক দেশের প্রয়োজনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জীবন দিতেও প্রস্তুত।

সনজিৎ চন্দ্র দাসের ফেসবুক থেকে

 

Share on: