জয়া-রুবেলের 'অলাতচক্র'

বার্তা জগৎ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১৪ জুলাই ২০১৯ সময়ঃ রাত ৩ঃ৩১
জয়া-রুবেলের 'অলাতচক্র'
জয়া-রুবেলের 'অলাতচক্র'

 

আফজালুর ফেরদৌস রুমনঃ

প্রখ্যাত লেখক আহমেদ ছফার 'অলাতচক্র' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে সরকারি অনুদানের সিনেমা 'অলাতচক্র'। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাসটি পর্দায় নিয়ে আসছেন নবাগত তরুণ নির্মাতা হাবিবুর রহমান। আহমেদ ছফার মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিমালাকে নিজ জবানিতে লিপিবদ্ধ করে অলাতচক্র শিরোনামে প্রথম প্রকাশ করেন ১৯৮৫ সালে সাপ্তাহিক নিপুণ পত্রিকার ইদ সংখ্যায়। পত্রিকায় প্রকাশের পর নানা সমালোচনার সম্মুখীন হলে ১৯৯৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করার সময় ছফা উপন্যাসের চরিত্রদের নাম পরিবর্তন এবং অন্যান্য পরিবর্তন আনেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রিত বাংলাদেশী লেখক দানিয়েল ও ক্যানসারে আক্রান্ত তায়েবার সম্পর্ক এবং মুক্তিযুদ্ধের নানা ঘটনার সিনেমা ‘অলাতচক্র’।

আহমেদ ছফার ডায়েরি অনুসারে জানা যায় এপ্রিলের মাঝামাঝি কোন একটা সময়ে তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে কলকাতা চলে যান। অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধের ইচ্ছা থাকলেও পরে তাঁকে বোঝানো হয় যুদ্ধ করার অনেক লোক আছে কিন্তু লেখালেখির যুদ্ধের জন্য কিছু লোক দরকার; আহমদ ছফা না হয় সেই কাজ করুক। আহমেদ ছফা কলকাতায় ‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সংগ্রাম শিবির’ নামে একটি সংগঠন শুরু করেছিলেন। সেখানে সভাপতি ছিলেন অজয় রায় এবং সাধারণ সম্পাদক আহমদ ছফা। কলকাতায় থাকাকালীন সময়ে প্রবীণ সিপিএম নেতা কমরেড মুজাফফর আহমেদের সান্নিধ্যে আসেন।

গল্পটা অনেকটা এরকম যে, মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী হয়ে ভারতে আশ্রয় নেয় দানিয়েল। কলকাতায় কখনো হাসপাতালে ভর্তি তার প্রিয় মানুষ তায়েবার কাছে, কখনো রাজনীতিবিদ, বিপ্লবীদের সাথে, কখনওবা চাকরির আশায় ঘুরে ঘুরে কাটে দানিয়েলের সময়। উপন্যাসের কাহিনীজুড়ে উঠে এসেছে যুদ্ধ নিয়ে নানা বিশ্লেষণ, কলকাতায় আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের কষ্ট, তাদের প্রতি কলকাতার মানুষদের দৃষ্টিভঙ্গি, যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে স্বার্থান্বেষী নেতাদের কলকাতায় ফুর্তি করা। সেই সাথে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবিরা কী করে বেড়িয়েছেন, তার একটা খণ্ডচিত্রও রয়েছে। কেউ কেউ আরামে দিন কাটাচ্ছিল থিয়েটার রোডে। ট্রেনিং ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধারা পার করছিল কঠিন সময়। অন্যদিকে রয়েছে মৃত্যুপথযাত্রী তায়েবার সাথে দানিয়েলের সম্পর্ক নিয়ে নানা ঘটনা। ক্যান্সারে আক্রান্ত তায়েবাকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়া, কথা বলা, আবদারে মসলাযুক্ত খাবার নিয়ে যাওয়া, ডাক্তারের সাথে আলোচনা ও প্রোটোকল ভেঙে অতিরিক্ত সময় হাসপাতালে বসে থাকার স্মৃতিকথা। তায়েরবার চরিত্র যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তা অসাধারণ। যুদ্ধকালীন সময়ে বইয়ের কাহিনী আবর্তিত হলেও পরিশেষে লেখকের ব্যক্তিগত জীবনকাহিনী আর মতামতই প্রাধান্য পেয়েছে। গল্পের শেষদিকে দেশে ফিরে আকাশে বোমারু বিমান আর পাতালে পাকবাহিনীর বর্ণনাও দেয়া আছে। 

২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে ‘অলাতচক্র’ নির্মিত হচ্ছে। এতে দানিয়েল তথা আহমদ ছফার চরিত্রে বাংলাদেশের দক্ষ অভিনেতা আহমেদ রুবেল এবং ক্যানসারে আক্রান্ত প্রগতিশীল নারী তায়েবার চরিত্রে দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানকে দেখা যাবে। তারা ছাড়াও সিনেমাটিতে রয়েছেন মামুনুর রশীদ, আজাদ আবুল কালাম, শিল্পী সরকার অপু, শফিউল আলম বাবু, নুসরাত জাহান জেরী প্রমুখ।

‘অলাতচক্র’-এর পরিচালক হাবিবুর রহমান জানান সেই বহুল পঠিত উপন্যাসের কাহিনিই এবার সেলুলয়েডের পর্দায় থ্রিডি ভার্সনে তুলে ধরা হবে। সেই হিসেবে 'অলাতচক্র' হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম 'থ্রিডি' সিনেমা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জয়া আহসান জানান, সিনেমার শুটিং প্রায় হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম থ্রিডি সিনেমা নিয়ে সিনেমাপ্রেমী দের মাঝে আলাদা একটা উচ্ছাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। থ্রিডি শুটের দায়িত্বে ছিল মুম্বইয়ের একটি টিম। সিনেমার অনেকটা অংশ জুড়েই কলকাতা থাকছে। ‘‘আসলে আমরা পুরনো কলকাতাকে রিক্রিয়েট করছি। বাংলাদেশেই সেসব শুট হয়েছে। আহমদ ছফার কাহিনিতে যেমন ভাবে কলকাতার বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল, সে ভাবেই সবটা করেছে মুম্বইয়ের টিম।

পরিচালক হাবিবুর রহমান জানান, কলকাতাতেও সিনেমার শ্যুটিং করা হবে। কারণ উপন্যাসে কিছু কিছু ব্যাপার আছে যেটা সিনেমায় দেখানোর জন্য কলকাতা ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নাই। সিনেমার গল্প, সংলাপ, দক্ষ এবং অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভিনয় সব মিলিয়ে দর্শকদের কাছে 'অলাতচক্র' আলাদা একটা স্থান করে নিতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বার্তা জগৎ২৪/ এম এ