টেস্ট ক্রিকেটে নবাগত আফগানদের কাছে টাইগারদের লজ্জাজনক হার

দিদার, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সময়ঃ সন্ধ্যা ৭ঃ০০
টেস্ট ক্রিকেটে নবাগত আফগানদের কাছে টাইগারদের লজ্জাজনক হার
টেস্ট ক্রিকেটে নবাগত আফগানদের কাছে টাইগারদের লজ্জাজনক হার

দিদার, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সকাল থেকে কখনো গুটিগুটি আবার কখনোও বা মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। সেই বৃষ্টির খবর পেয়ে সারা বাংলাদেশের টাইগার ভক্তরা কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল। সারাদিন কেটে গেলেও দিনশেষে তরী ডুবল বাংলাদেশের। সাকিব আল হাসানের মতো অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার এবং সৌম্য সরকারের মতো জেনুইন ব্যাটসম্যান থাকার পরেও মাত্র ১৮.৩ ওভার টিকে থেকে ড্র করতে পারলো না বাংলাদেশ। 

টেস্ট ক্রিকেটে অনেকটা নবীন আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে বৃষ্টিও রক্ষা করতে পারলো না টাইগারদের। বৃষ্টির কল্যাণে দিনের অধিকাংশ সময় ভেস্তে গেলেও মাত্র ১৫ ওভারেই অবশিষ্ট ৪ উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তানকে ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার সুযোগ করে দিল সাকিব বাহিনী। আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ খান যেখানে দুই ইনিংসে ১১ টি উইকেট শিকার করার পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে ঐতিহাসিক জয় পেতে সাহায্য করেছেন ঠিক তার বিপরীতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন। এমনকি বোলিংয়েও চেনা সাকিবকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

টেস্টে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। তবে মাত্র ৩ টেস্ট খেলা আফগানরা পুরো টেস্টেই অভিজ্ঞ দলের চেয়েও আরো বেশি আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। শেষ দিনে বৃষ্টির কারণে মাত্র ২০ ওভারের মতো খেলা হওয়ার কথা থাকলেও ম্যাচ শেষ করতে পারেনি বাংলাদেশ। দুই সেশন মিলিয়ে ১৭ ওভার ব্যাটিং করেই অলআউট হয়ে পড়ে তারা। যার ফলে টেস্ট ক্রিকেটে নবাগত আফগানিস্তানের কাছে ২২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে লজ্জাজনকভাবে হেরে যায়।

টেস্ট টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৮ রানেই দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারায় সফরকারীরা। তবে বাকি ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ভালো সংগ্রহ পায় আফগানরা। রহমত শাহর ১০২, আসগর আফগানের ৯২, রশিদ খানের ৫১ ও আফসার জাজাইয়ের ৪১ রানের ওপর ভর করে প্রথম ইনিংস শেষে আফগানদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৪২ রান। বাংলাদেশের পক্ষে তাইজুল ইসলাম ৪টি, সাকিব আল হাসান ও নাঈম হাসান ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

আফগানদের প্রথম ইনিংসের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৮৮ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ২০৫ রানে অলআউট হয়ে পড়ে সাকিব বাহিনী। দলের হয়ে মুমিনুল হক ৫২, মোসাদ্দেক ৪৮ ও লিটন দাস ৩৩ রান করলেও বাকিদের কেউ মানানসই ইনিংস খেলতে পারেনি। আফগান অধিনায়ক রশিদ খান একাই শিকার করেন পাঁচ উইকেট। টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দেওয়া অভিজ্ঞ নবী পান ৩ উইকেট।

১৩৭ রানের লিড নিয়ে নিজদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে আফগানিস্তান। ২৮ রানেই আফগানদের ৩ উইকেট ফেলে দিয়ে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিলেও পরে বাংলাদেশকে হতাশ করে শতরানের জুটি গড়ে তোলেন তরুণ ব্যাটসম্যান ইব্রাহিম জাদরান ও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আসগর আফগান। ৫০ রান করে আউট হন আসগর। অন্যদিকে ৮৭ রান করে আউট হন ইব্রাহিম। এরপর আফসার জাজাইয়ের ৪৮ ও রশিদ খানের ২৪ রানে দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানরা সংগ্রহ করে ২৬০ রান। ফলে বাংলাদেশের সামনে ৩৯৮ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় আফগানিস্তান।

পাহাড় সমান সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আবারও দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং করার কারণে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় সাকিব বাহিনী। ৬ উইকেটে ১৩৯ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। পঞ্চম দিনে বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে বৃষ্টি। প্রথম সেশন বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার পর মাঝের সেশনে খেলা হয় মাত্র ১৩ বল। এরপর শেষ সেশনে ১৮ ওভারের জন্য ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে ৪ উইকেট হাতে নিয়েও এ ১৮ ওভার ব্যাটিং করতে পারেনি টাইগাররা। ব্যাটিংয়ে নেমে শেষ সেশনের প্রথম বলেই আউট হন বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় সাকিব! এরপর বাকি ব্যাটসম্যানরাও সাকিবকে অনুসরণ করলে ১৭৩ রানে গুঁটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। আফগানরা পেয়ে যায় তাদের ঐতিহাসিক জয়। আফগানদের চেয়ে ১৭ বছরের সিনিয়র একটি দলকে ২২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ইতিমধ্যে সারা বিশ্ববাসীর সামনে নিজেদের টেস্ট যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা। তবে চতুর্থ ইনিংসে রশিদ খান একাই ৬ টি উইকেট শিকার করে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। বাংলাদেশের সাথে একমাত্র টেস্ট রশিদ একাই শিকার করেছেন ১১ উইকেট!

বার্তা‌জগৎ২৪.কম/এফ এইচ পি

Share on: