ডা. মনীষা চক্রবর্তীর গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা বাবার নাম রাজাকারের তালিকায়!

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ সময়ঃ রাত ৩ঃ৫৩
ডা. মনীষা চক্রবর্তীর গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা বাবার নাম রাজাকারের তালিকায়!
ডা. মনীষা চক্রবর্তীর গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা বাবার নাম রাজাকারের তালিকায়!

দিদারুল ইসলাম:

বরিশালের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে মাদার তেরেসা হয়ে যিনি সব সময় পাশে দাঁড়ান তিনি হলেন ডাক্তার মনীষা চক্রবর্তী। নিজেদের গ্রামে গরিবের ডাক্তার হিসেবে তাহার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। একজন সাহসী ও প্রতিবাদী নারী হিসেবে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি সবধরণের নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছেন তিনি। শুধু নারীদের অধিকার আদায়ে-ই নয়; তনু হত্যার প্রতিবাদে বরিশালে ছাত্র ধর্মঘটসহ ধারাবাহিক আন্দোলন, সারাদেশে সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব, নারী নির্যাতন বিরোধী আন্দোলন ও শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি সব সময়ই রাজপথে নেমে সোচ্চার ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

বরিশালে গত সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বাসদ নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী। তার বাবা অ্যাডভোকেট তপন কুমার চক্রবর্ত্তী একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা। আর সে হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও পেয়ে আসছিলেন তিনি। তবে সদ্য ঘোষিত রাজাকার তালিকায় এখন ৬৫ নম্বরে দেখানো হয়েছে তাহার নাম!

শুধু তাই নয় সেই সাথে মনীষা চক্রবর্ত্তীর ঠাকুরদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া অ্যাডভোকেট সুধির কুমার চক্রবর্ত্তীর স্ত্রী উষা রানী চক্রবর্তীর নাম ও দেখানো হয়েছে সদ্য ঘোষিত রাজাকারদের তালিকায় ৪৫ নম্বরে!

বাসদ নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী নিজের মুক্তিযোদ্ধা বাবার নাম রাজাকারের তালিকায় থাকায় দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

স্ট্যাটাসটি বার্তাজগৎ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

মানুষের জন্য নিঃস্বার্থ কাজ করার পুরস্কার পেলাম আজ। ধন্যবাদ আওয়ামী লীগকে। সদ্য প্রকাশিত রাজাকারদের গেজেটে আমার বাবা এবং ঠাকুমার নাম প্রকাশিত হয়েছে।

আমার বাবা অ্যাডভোকেট তপন কুমার চক্রবর্ত্তী একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা। ক্রমিক নম্বর ১১২, পৃষ্ঠা ৪১১৩। তিনি নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও পেয়ে থাকেন! আজ রাজাকারের তালিকায় তিনি ৬৫ নম্বর রাজাকার।

আমার ঠাকুরদা অ্যাডভোকেট সুধির কুমার চক্রবর্ত্তীকে পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনী বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। তিনিও ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত। তার সহধর্মিণী আমার ঠাকুমা উষা রানী চক্রবর্ত্তীকে রাজাকারের তালিকায় ৪৫ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য আমার রাজনীতি করার খেসারত দিতে হচ্ছে আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে। ধন্যবাদ আওয়ামী লীগ সরকারকে।

আমার দল বাসদ আমাকে শিখিয়েছে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করাকে। মিছিল থেকে গ্রেফতার করে থানায় নির্যাতন করে ওরা বলেছিল যে, আন্দোলন যেন না করি, নির্বাচনে যেন অংশ না নিই। রাজি না হওয়ায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে অজামিনযোগ্য মামলা দিয়ে জেলে প্রেরণ করেছে। আমরা জেল খেটেছি, নির্যাতন সহ্য করেছি কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি।

ভয় দেখিয়ে বা বিপদে ফেলে আমাদের কিছু করা যাবে না। অভুক্ত, অর্ধভুক্ত গরিব খেটে খাওয়া মানুষ আছে আমাদের দলের সাথে। আছে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী। অতীতের মতো আজ এবং আগামীতে আপনাদের পাশে পাবো সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।'

বার্তাজগৎ২৪/ এম এ

Share on: