তালাক দেবার পরেও স্বামী-স্ত্রীরূপে দাম্পত্য জীবন কাটানো সম্পর্কে যা বলে ইসলাম

বার্তা জগৎ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ২৭ জুন ২০১৯ সময়ঃ দুপুর ২ঃ২৩
তালাক দেবার পরেও স্বামী-স্ত্রীরূপে দাম্পত্য জীবন কাটানো সম্পর্কে যা বলে ইসলাম
তালাক দেবার পরেও স্বামী-স্ত্রীরূপে দাম্পত্য জীবন কাটানো সম্পর্কে যা বলে ইসলাম

 

কে এস এম আরিফুল ইসলাম:

বিয়ে একটি পবিত্র সামাজিক বন্ধন। যার মাধ্যমে দু’জন নারী-পুরুষ একত্রে বাস করার বৈধ স্বীকৃতি পায়। বিয়ের মাধ্যমে নর-নারী হৃদয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। সংসারজীবনে ভুল বোঝাবুঝি থেকে শুরু করে বিভিন্ন কারণে নামে বিষাদের ছায়া। জীবনে চূড়ান্ত বিপর্যয় থেকে স্বামী-স্ত্রী উভয়কে রক্ষার জন্য ইসলামে তালাকের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

আর ইসলামের দৃষ্টিতে যত বৈধ বা হালাল কাজ আছে তারমধ্যে তালাক হলো সবচেয়ে ঘৃণিত কাজ তবুও বিশেষ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ মেনে তালাক দেওয়া উত্তম।

তালাক দেবার পূর্বে তিনটি পদক্ষেপে প্রয়োগ করা যেতে পারে সে গুলি হলো :-

প্রথম পদক্ষেপ : স্ত্রীর অবাধ্যতা দেখেই উত্তেজিত হওয়া যাবে না। নিজেকে সংযত রাখতে হবে এবং তাকে মিষ্টি ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে।

দ্বিতীয় পদক্ষেপ : প্রথম পদক্ষেপের মাধ্যমে কাজ না হলে স্ত্রীর ব্যবহারে রাগ-অনুরাগ, অভিমান প্রকাশ করার জন্য স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে একত্রে রাতযাপন থেকে বিরত থাকতে হবে। স্ত্রীর ঘুমানোর জায়গা পৃথক করে দিতে হবে।

তৃতীয় পদক্ষেপ : উল্লিখিত দুটি পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরও কোনো কাজ না হলে তৃতীয় পদক্ষেপ হিসেবে ইসলামের নির্দেশ হলো, উভয় পক্ষ থেকে এক বা একাধিক সালিশের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করতে হবে।

অত:পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা তালাক:-

যদি পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছে যায় যে, মীমাংসার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়, তখন ইসলামী শরিয়ত মতে স্বামীকে তালাক দেওয়ার বিধান রয়েছে।

যদিও ইসলামে তালাক দেওয়ার বিধান রয়েছে তথাপি তালাক একটি সর্বনিম্ন জায়েজ কাজ হিসেবে পরিগণিত। তবুও তালাক দিতে হলে উপর্যুক্ত নিয়ম অনুসরণ করা জরুরি।

ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে, একান্ত প্রায়জনেই স্ত্রীকে সর্বোচ্চ তিন তালাক দেয়া যায়। কোন কারণে বা যে কোনভাবেই হোক, স্ত্রীকে তিন তালাক দেবার পর তখন তাদের মধ্যকার বৈবাহিক সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে তারা একে অপরের জন্য হারাম হয়ে যায়। এমতাবস্থায় একে অপরের কথা-বার্তা, দেখা-সাক্ষাৎ ও চলাফেরা সবই নাজায়েজ ও হারাম হয়ে যায়। আর যদি তারা সহবাস করেন তাহলে তা যিনা-ব্যভিচার হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ফলে যদি সন্তান হয় তাহলে তা হারাম হবে।

এজন্যই যদি কোন পুরুষ নিজের স্ত্রীকে জনসম্মুখে বা ঘরে স্ত্রীর সামনে অথবা নির্জনে একাকী তিন তালাক দেয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের করণীয় হল-পরস্পর সকল লেনাদেনা পরিশোধ করে একে অপরের থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া। যদি তারা কবর হাশর ও আখিরাতের কঠিন আজাবের কথা স্মরণ করে স্বেচ্ছায় একে অপরের থেকে পৃথক হয়ে যায়, তাহলে তো ভাল, অন্যথায় কেউ যদি তিন তালাকের পরেও তালাককৃত স্ত্রীকে নিয়ে পূর্বের মতকরে বৈবাহিক জীবনযাপন করে, তাহলে গ্রামবাসী বা এলাকাবাসীগণের কর্তব্য হলো তাদের মধ্যকার বর্তমান নাজায়েজ ও অবৈধ সম্পর্কে বিচ্ছিন্ন করার জন্য এবং তাদের মাঝে পৃথকীকরণের জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা  নেয়া।

মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে ইসলামী শরীয়তের পথ অনুযায়ী দাম্পত্যজীবন কাটানোর তৌফিক দান করোণ। আমিন

(মাসায়েলের সূত্র:: সূরাহ বাকারা, ২:২৩০/ সূরাহ আল ইমরান ৩:১১১/ তাফসীরে মারেফুল কোরআন/ তাফসীরে ইবনে কাছীর/ ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, ১:২৮২)

লেখক: কে এস এম আরিফুল ইসলাম

সাংবাদিক ও সিনিয়র সহকারী শিক্ষক। 

Share on: