দ্রৌপদীদের বিচার চাওয়ার উপখ্যান

বার্তা জগৎ২৪ ডেস্ক

প্রকাশিতঃ ২১ অক্টোবর ২০১৮ সময়ঃ রাত ১০ঃ৫৯
দ্রৌপদীদের বিচার চাওয়ার উপখ্যান
দ্রৌপদীদের বিচার চাওয়ার উপখ্যান

 

'থিয়েটার' নাট্য দলের প্রযোজনা সব সময়ই আমার ভালো লাগে। বিশেষভাবে ভালো লাগে এদের উচ্চারণ। এদের উচ্চারণ খুবই স্পষ্ট। বেশ আগে, সেই ২০১২ সালে তাদের 'বলদ' নাটকটির প্রযোজনা দেখে খুব ভালো লেগেছিলো। অবশ্য ভালো লাগবারই কথা।

কারণ এই নাটক দেখার পূর্ববর্তী জীবনে বাংলা সিনেমার ডায়ালগের নামে চেঁচামেচি ও গালাগালি, নাচের বদলে ব্যাকরণহীন লাফালাফি দেখে বড় হয়েছি। আমাদের বেড়ে উঠার সময় বাংলাদেশ একই সাথে সিনেমা জগতে কাটপিস ও ধর্মীয় জীবনে সীমাহীন সংযম পালন করতো! দেখছি জামাতি নেতাদের উদ্দাম নোংরা নৃত্য। তাই হঠাৎ ঢাকা এসে থিয়েটারের প্রযোজনা দেখে অনুভূতিশূণ্য হয়ে গিয়েছিলাম।।

বলা যায় পাকা অর্ধ যুগ পরে আবার থিয়েটারের প্রযোজনা দেখলাম। আজ দেখলাম 'দ্রৌপদী পরম্পরা'। রচনা ও নির্দেশনা প্রবীর দত্ত। নাটক দেখে বুঝলাম দ্বাপর যুগের দ্রৌপদী এখনও কতটা প্রাসঙ্গিক। বেদব্যাসের মহাভারতের এই কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রটির সাথে শুধু সেই সময়েই অন্যায় করা হয়নি। বর্তমানেও করা হচ্ছে সমভাবে। তিনি একই সাথে অসম্মানিতা ও শ্রেষ্ঠ। পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজ ব্যবস্থা তাকে উপস্থাপন করে নষ্ট লা হিসেবে।

একবিংশ শতাব্দীর দ্রৌপদীর জীবনে কোনো পরিবর্তন এখনও আসেনি। এখনও কাপড় টানাটানি চলে। প্রশ্ন করলে বলে আসল দ্রৌপদী হলে কাপড়ের অভাব হবে না। অন্দরে কাপড় খোলে রাজা, পুরোহিত, মৌলভী। আর প্রকাশ্যে কাপড় খোলে কিছু সাধারণ পুরুষ। বাকি লোক দেখে। হাইকোর্টের সামনে থেকে নারী ভাস্কর্য সরানো, ওড়না নিয়ে বিতর্ক, ব্যা মঈনুলদের গণমাধ্যমে নারীকে চরিত্রহীন বলা দ্রৌপদীর করুণ পরিণতির কথা মনে করিয়ে দেয়।

নাটকে দ্রৌপদীর স্পষ্ট উচ্চারণ- ঈশ্বর আসলে পুরুষই। তিনিই ঠিক করে দেন দ্রৌপদীদের নিয়তি। তাই তো পান্ডবদের কুকুর পর্যন্ত স্বর্গে যায়। কিন্তু স্বর্গ থেকে বিচ্যুত হয় দ্রৌপদীরা।

দ্রৌপদীদের মুক্তির জন্য দরকার নিজের ভুল ভেঙেছে এমন অর্জুনদের। ভালোবাসার মাধ্যমে রক্তপাতহীন বিপ্লবীই পারে দ্রৌপদীদের মুক্তি দিতে। কর্ণদের সাথে বেইনসাফ করা হলেও, তাদের ভালোবাসা পাওয়ার ব্যর্থতা ক্রোধে রূপ নেয়। যেটা শুধু ধ্বংসই করে, গড়ে না। 'দ্রৌপদী পরম্পরা' মঞ্চায়নটি অনেকদিন অনুভবে লেগে থাকবে।

লেখক : সরদার মামুন, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।