ধারের টাকা শোধ করার কথা বলে ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টা

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০ সময়ঃ দুপুর ২ঃ৩৫
ধারের টাকা শোধ করার কথা বলে ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টা
ধারের টাকা শোধ করার কথা বলে ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টা

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্কঃ 

ধারের টাকা শোধ করে দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেনকে (৩৮) ভাড়াটে মাস্তান দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বেড়া উপজেলার নগরবাড়ী ঘাটের আরেক ব্যবসায়ী ইন্দ্রজিত শীলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার চিথুলিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় ইদ্রজিত ও তার ৪ ভাড়াটে মাস্তানকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃততা হলেন, ব্যবসায়ী ইন্দ্রজিত শীল ও তার তার ভাড়াটে রাসেল, হেলাল, আলাল ও হামজা।

ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্র গোপালপুর গ্রামের মৃত শহীদুল্লাহ মিয়ার ছেলে। আর ইন্দ্রজিত শীল বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার নগরবাড়ী ঘাটের মৃত উপেন্দ্র নাথ শীলের ছেলে ও ব্যবসায়ী রামকৃষ্ণ শীলের ছোট ভাই।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেন বুধবার সাংবাদিকদের জানান, ব্যবসায়ীক সূত্র ধরে ইন্দ্রজিৎ শীল তার কাছ থেকে বছরখানেক আগে সাড়ে তিন লাখ টাকা নেন। কিন্তু টাকা শোধে টালবাহানা শুরু করেন। মাসখানেক আগে তিনি মুক্তারের ফোনকল ব্ল্যাকলিস্ট করে রাখেন। এর মধ্যে গত ১৪ জানুয়ারি ইন্দ্রজিৎ শীল ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেনকে ফোন করে জানান 'শাহজাদপুরে বিসিকে যেতে হবে। সেখানে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাওনা টাকা তুলে তাকে শোধ করা হবে।'

ব্যবসায়ি মুক্তার হোসেন টাকা পাওয়ার আশায় ইন্দ্রজিত শীলের ডাকে ওইদিন সন্ধ্যায় শাহজাদপুরে বিসিক এলাকায় যান। সেখানে আগেই অবস্থান করছিলেন অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ইন্দ্রজিত শীল। রাতে ইন্দ্রজিত কথিত ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা তুলে দেয়ার কথা বলে মুক্তারকে শাহজাদপুর উপজেলার চিথুলিয়ার কাছে বাড়াবিল নামক স্থানে রিকশাযোগে নিয়ে যেতে থাকেন।

পথে ইন্দ্রজিতের সাথে তার এক সাবেক কর্মচারী (ভাড়াটে মাস্তান) রাসেল এসে রিকশায় ওঠেন। রহস্যজনক কারণে ইন্দ্রজিত বাড়াবিলের একটি নির্জন স্থানে এসে রিকশা ছেড়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পরে সে নির্জন জায়গায় ইন্দ্রজিতের ভাড়াটে আরো ৩ মাস্তান এসে হাজির হয়। তারা ইন্দ্রজিত ও ইন্দ্রজিতের সাবেক কর্মচারী রাসেলকে কিছু না বলে সরাসরি মুক্তারকে পেটাতে থাকে।

মুক্তার অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসীরা তাকে পাইপ দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। তার কাছে থাকা ১৫ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল কেড়ে নেয়। এসময় ইন্দ্রজিতের ভাড়াটিয়া মাস্তানরা একটি স্ট্যাম্পে মুক্তার হোসেনের কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর করে নেয়। এরই মধ্যে ইন্দ্রজিতের পুরোনো কর্মী ও ঘটনার নেপথ্য নায়ক রাসেল পালিয়ে যায়।

মুক্তার জানান, এ ভাড়াটে মাস্তানরা ইন্দ্রজিতকে কিছু বলেনি। শুধু মুক্তারকে দেখানোর জন্য দু'চারটি চড়-থাপ্পড় মারে। যাতে মুক্তার ভাবেন ঘটনাটি হঠাৎই ঘটেছে। এরপর মুক্তার সব বুঝেও প্রাণ বাঁচাতে ইন্দ্রর কথামত চলতে থাকেন। মুক্তার এ সময় ইন্দ্রজিতের সাথে বাড়াবিলের ওই নির্জন জায়গা থেকে শাহজাদপুরের বোয়ালিয়া বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। শাহজাদপুর উপজেলার বোয়ালিয়া বাজারে এসে মুক্তার হোসেন চিৎকার করে স্থানীয় লোকজনকে ঘটনাটি জানাতে থাকেন। তখন স্থানীয় লোকজন তাদের ঘিরে ধরে পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানার এসআই জসিম ও এসআই রেজাউল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা দুই ব্যবসায়ীকে থানায় নিয়ে যান এবং পুরো ঘটনা শুনে তারা ইন্দ্রজিতের পরিকল্পনা জানতে পারেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইন্দ্রজিত পুরা ঘটনা স্বীকার করেন। এরপর ওই রাতেই পুলিশ ইন্দ্রজিতের ৪ ভাড়াটিয়া মাস্তানকে গ্রেপ্তার করে ও কারাগারে পাঠায়।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার এসআই রেজাউল জানান, ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেন উপস্থিত বুদ্ধির জোরে প্রাণে বেঁচে গেছেন। তিনি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর না করলে তার আরো ক্ষতি করতে পারত ভাড়াটিয়া মাস্তানরা।

তিনি জানান, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ইন্দ্রজিত ঘটনাটি তারই সাজানো বলে স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তার অপর ৪ জনও সাজানো ঘটনার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে বলে তিনি জানান।

বার্তাজগৎ২৪/সা/হ

Share on: