ধীরে ধীরে কমছে তাপমাত্রা, শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে সারাদেশে

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ সময়ঃ রাত ৩ঃ৫৬
ধীরে ধীরে কমছে তাপমাত্রা, শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে সারাদেশে
ধীরে ধীরে কমছে তাপমাত্রা, শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে সারাদেশে

দিদারুল ইসলাম:

বর্তমান সময়ে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।এর প্রভাবে সারা দেশে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে বেলা বাড়লেও দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে সেভাবে কোথাও সূর্যের আলো দেখা যায়নি।

বাতাসের কারণে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। তীব্র শীতে রীতিমতো কাঁপছে দেশের মানুষ। গরম কাপড় পরেও নিজেদের রক্ষা করতে পারছেনা শীতের তীব্রতা থেকে।

অপরদিকে শৈত্যপ্রবাহের কারণে দেশের প্রধান শহর গুলোতে ধূলাবালির মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। সেই কারণে হঠাৎ ঠাণ্ডাজনিত রোগের মাত্রা বেড়ে গেছে। সর্দি-কাশি-জ্বর শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে দিন দিন।শহরের ফুটপাতে পড়ে থাকা কিংবা ছিন্নমূল মানুষেরাও পড়েছেন বিপাকে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে,আগামী ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা কমবে। ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসবে ব্যারোমিটারের পারদ। দিনের তাপমাত্রা এখন ২০ ডিগ্রি সেলিসিয়াসে আছে। এটা আরো নিচে নেমে এলে রাত ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য আরও কমে যাবে। ফলে ঠাণ্ডার অনুভূতি ও শৈতপ্রবাহের পরিমাণ আরও বাড়বে।

গত কয়েকদিন ধরে শীতল হাওয়া ও ঘনকুয়াশার পরিমাণ অনেক বেশি বাড়তে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,আগামী ৭২ ঘণ্টায় ঢাকার তাপমাত্রা আরো ১ থেকে ২ ডিগ্রি কমবে। আর ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাবে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল।

অন্যদিকে, প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কাহিল হয়ে পড়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের জনজীবন। ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে আছে পথঘাট আর ফসলি জমি। ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও বুধবার সন্ধ্যা থেকে শৈত্যপ্রবাহ দেখা গেছে। সন্ধ্যার পরে তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসেছে। রাতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

গ্রাম অঞ্চলে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে চারপাশ। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরেও ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এসে পুরো উত্তরাঞ্চলজুড়েই এখন শীতের দাপট।দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ঝিরঝিরে বৃষ্টি শীতের তীব্রতা কে আরও অনেক বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে।

শৈত্যপ্রবাহের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে অভাবি মানুষের শীত নিবারণের জন্য অগ্নিকুণ্ডই একমাত্র ভরসা হয়ে পড়েছে। দেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী অনেক মানুষ রয়েছে যাদের অধিকাংশই ভাসমান ও শীতবস্ত্র নেই।  

একদিকে প্রচণ্ড শীত, অন্যদিকে কনকনে বাতাসে শীতের তীব্রতা বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে গ্রাম অঞ্চলে। দিনাজপুরে গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৪ ডিগ্রী রেকর্ড করা হয়েছে। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রিতে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঠাণ্ডার তীব্রতা বেড়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা মৌলভীবাজারেও।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজধানীতে সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। এমন অবস্থা চলতে থাকবে আরো দুই দিন। স্থান ভেদে ২১ ও ২২ ডিসেম্বরের দিকে ঠাণ্ডা অনুভূতি কিছুটা কমে আসবে। এরপর আসতে পারে নিম্নচাপ। এ ছাড়া ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ আবারো শৈত্যপ্রবাহের সাথে সাথে তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বার্তাজগৎ২৪/ এম এ

Share on: