পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে সিরিয়ালের জন্য এখনো গভীর রাতে অপেক্ষা করতে হয়

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ২৪ জানুয়ারী ২০২০ সময়ঃ সন্ধ্যা ৭ঃ১৫
পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে সিরিয়ালের জন্য এখনো গভীর রাতে অপেক্ষা করতে হয়
পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে সিরিয়ালের জন্য এখনো গভীর রাতে অপেক্ষা করতে হয়

দিদারুল ইসলাম:

সমৃদ্ধির অগ্রগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, ধীরে ধীরে উন্নত হয়ে বদলে যাচ্ছে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম কানুন। কিন্তু এই ডিজিটাল বাংলাদেশের প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে এখনো যেন প্রাচীন যুগের রীতিনীতিতে বিশ্বাসী চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

শীতের সকালে রাত চারটা বেজে ৩০ মিনিট সারা দেশের মানুষ শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে কম্বল জড়িয়ে নিজ নিজ বাড়িতে শুয়ে আছে।

ঠিক এমন সময়ে শিশু-কিশোর সহ বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষেরা অপেক্ষার ক্ষণ গণনা করছে শুধুমাত্র একটা সিরিয়ালের জন্য।

যার বয়স যত বেশি তার চোখের সমস্যা টাও যেন ততবেশি আর এজন্য ৬০ থেকে ৭০ এর ঊর্ধ্বের বৃদ্ধ মানুষটিকেও এসে দাঁড়াতে হয়েছে লাইনে।

অনেক অভিভাবক নিজের শিশু সন্তানকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে হাসপাতালে গেইটের বাহিরের সারিতে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর সেখান থেকে ভোর ছয়টা বাজলে আবারো ভিতরে প্রবেশ করানো হয় এবং সেখানে নিয়ে গিয়ে আবারো তিনটি সারিবদ্ধ লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় রোগীদের। দুটো লাইনে নারী ও পুরুষ এবং আর একটি লাইনে শিশু-কিশোরেরা!

শীতে কাঁপতে থাকা মানুষগুলো তখনো জানেনা কবে এই দাঁড়িয়ে  কিংবা রাস্তায় বসে থাকার অপেক্ষার শেষ হবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ৬ টা বেজে ৪৫ মিনিট হলে একজন সিকিউরিটি গার্ড এসে বাঁশি বাজিয়ে সবাইকে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনটি লাইনে তিনজন কর্মচারী টিকেট বিতরণ শুরু করলেন।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দের মধ্যেও প্রথম ৩০ জনকে টিকেট দেওয়ার পরে বাকীদেরকে আবারো বলা হলো অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ করার জন্য।

দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষগুলি যারা চূড়ান্তভাবে টিকিট পায়নি তারা অবশেষে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বিতরের সারিতে আবারো ইমারজেন্সিতে দাঁড়িয়ে আছে টিকিটের জন্য যাদের মধ্যে শতকরা ৫ ভাগেরও মিলছেনা টিকেট!

অপরদিকে যারা টিকিট পেল তাদেরকে বিরতিতে পাঠিয়ে দেওয়া হলো এবং ঘোষণা করে দেওয়া হল নাস্তা করার জন্য। নাস্তার জন্য ৩০ মিনিট বিরতি দেওয়ার পরে আবারো ক্যাশ কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ সারি! সেখান থেকে প্রতিটি কক্ষে চেকআপের জন্য নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও অনেক সময় ধরে অপেক্ষায় বসিয়ে রাখা হচ্ছে রোগীদের।

শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষদের মধ্যে অনেক চোখে ছানি পড়া কিংবা অপারেশন রোগীর ও দেখা মিলেছে।

অধিকাংশ রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল শুধুমাত্র ভালো চিকিৎসা আছে বলেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চিকিৎসার জন্য রোগীরা ছুটে আসে এই হাসপাতালে। তবে রাত জেগে অপেক্ষায় থেকে টিকেট সংগ্রহের ব্যাপারটা সকলের কাছে খুবই কষ্টের,চরম ভোগান্তির এবং দৃষ্টিকটু।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা প্রশাসনের কাছে রোগীদের একমাত্র আবেদন যেন অন্যান্য হাসপাতালের মতো টেলিফোনের মাধ্যমে অথবা অনলাইনের মাধ্যমে টিকেট সংগ্রহ করার সুযোগ করে দেওয়া হয় এই হাসপাতালে ও।

তাহলে অন্তত গভীর রাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তীব্র শীত কিংবা বৃষ্টির দিনেও রোগীদের এভাবে সিরিয়াল সংগ্রহের জন্য রাত জেগে অপেক্ষা করতে হবে না।

বার্তাজগৎ২৪/ এম এ

Share on: