প্রধানমন্ত্রীকে যুবলীগ নেতার খোলা চিঠি

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ৯ অক্টোবর ২০১৯ সময়ঃ ভোর ৬ঃ০০
প্রধানমন্ত্রীকে যুবলীগ নেতার খোলা চিঠি
প্রধানমন্ত্রীকে যুবলীগ নেতার খোলা চিঠি

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, 

আমি সমাজে সন্মানের সহিত বেঁচে থাকতে চাই। আমি জাতির পিতার আদর্শ বুকে ধারন করে ছোট কাল থেকে রাজনীতি করি। আপনার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে এখনো রাজনীতি করছি। আমার পরিবারের প্রায় সকলেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান।বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (১৯৯১/৯২-১৯৯৮ সাল) পর্যন্ত ছাত্রলীগ করেছি। 

১৯৯৮ সালে পূর্ব জার্মানির ড্রেসডিন প্রভিন্সের ওপাক হাইমে অবস্থাকালীন সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর নুর কে দেখে সহ্য করতে পারিনি। তাকে বেদম প্রহার করি। সেখানে ৩ দিন জেলও খেটেছি। জার্মানিতে থাকতে না পেরে ১৯৯৮ সালের শেষের দিকে ইটালির রোমে চলে যাই। ইটালিতে যাওয়ার কয়েক দিনে মধ্যে ইটালি যুবলীগের রাজনীতি শুরু করি। ইটালিতে যুবলীগ কে শক্তিশালী করার লক্ষে কাজ করেছি। এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও যুবলীগ কে গঠন করার জন্য কাজ করেছি।

ওয়ান ইলেভেনের সময় আপনি সহ বিভিন্ন নেতা কর্মী গ্রেফতার হন তখন আমার উদ্যোগে পৃথিবীর মধ্যে সর্ব প্রথম শেখ হাসিনা মুক্তি পরিষদ গঠন করি। আলাউদ্দিন মিলন কে আহবায়ক, ফারুক খালাসি, হাবিব মকদম, ডলার, আমিন, সুজন সহ অনেকেই এই কমিটির সদস্য ছিলো। আপনার মুক্তির জন্য জাতিসংঘ, ইউনেস্কো, ইউরোপীয়ান পার্লামেন্ট, আমেরিকান, জার্মানি, ফ্রান্স সহ বিভিন্ন দূতাবাসের সামনে মিছিল মিটিং করে জনমত গঠন করি। এ ব্যাপারে আপনি অবগত আছেন।  

২০০৮ সালের ২৩ শে মার্চ বাংলাদেশে এসে ২৫শ মার্চ থেকে কেন্দ্রীয় যুবলীগের রাজনীতিতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ি। এখন পর্যন্ত আছি সততা ও নিষ্ঠার সাথে। আমি কোনদিন অবৈধভাবে, অসৎ পথে অর্থ উপার্জন করা পছন্দ করিনা। পবিত্র ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ এমন সব কিছুই এড়িয়ে চলি ইনশাল্লাহ।বাংলাদেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলন, এরশাদ সরকার বিরোধী আন্দোলন, খালেদা- নিজামি চার দলীয় জোট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৯৬ সালে জনতার মঞ্চ, শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন, হেফাজতের আন্দোলন, কোটা বিরোধী আন্দোলন, কিছুদিন আগে ছাত্রদের আন্দোলন সহ আপনার ডাকে সাড়া দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রতিটি আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করি।

এখন আপনি দূর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন। আপনার এই যুদ্ধেও প্রথমে শরীক হয়ে, যুবলীগের পিয়ন থেকে দপ্তর, গলি থেকে রাজপ্রাসাদে অবস্থান, যুবলীগের সুনাম নষ্টকারী, যুবলীগের পদপদবী বিক্রির হোতা, মাত্র ৮/১০বছরের মধ্যে ১০০০/১২০০কোটি টাকার মালিক, মহা দুর্নীতিবাজ কাজী আনিসের বিরুদ্ধে আমার ফেসবুক ওয়ালে তথ্য প্রকাশ করি। আনিসের দুর্নীতির খবর প্রকাশের সাথে সাথে ফেসবুক, জাতীয় পত্রিকা, টেলিভিশন সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়। খবরটা আপনার নজরেও পড়েছে।

মাননীয় নেত্রী এই খবর প্রকাশের পর থেকে আনিসের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা, যারা যুবলীগের পদপদবী বিক্রির সাথে আনিসের সাথে জড়িত। আনিসের টেন্ডার বাণিজ্য সহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে সরাসরি জড়িত। ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশকারী ছাত্রদল নেতা  নাজমুল হোসেন জুয়েল, নিয়ন খান, ছাত্রদল নেতা কানা মাফুজ ওরফে চয়ন ইসলাম, শ্যামল রায়, ইউসুফ সুজন, শিমুল, নোমান, সাজেদুল কাজী সহ আনিসের অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী আমাকে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। কয়েকদিন আগে থাইল্যান্ডের একটা মোবাইল ফোন থেকেও আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে।

উল্লেখ্য গত সোমবার সন্ধ্যার সময় ছাত্রদল নেতা জুয়েল, আনিস লীগে অনুপ্রবেশকারী, পার্টি অফিসের পাশে বাটার সামনে কিছু বিক্ষিপ্ত লোকের দ্বারা আক্রমনের স্বীকার হয়। আমি সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তখন যুবলীগের অফিসের মধ্যে মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তখন আক্রান্ত ও আক্রমনকারী একজন কে যুবলীগের অফিসে নিয়ে আসে। সেই সময় যুবলীগের প্রেসিডিয়ামের অনেক সদস্য সহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে মিটমাট করে দিয়েছিল। তখন আক্রমনকারীকে নেতৃবৃন্দ শুনলো কি কারণে জুয়েলকে মারলে? তখন সে বলল জুয়েল কে পাঁচ লাখ ৫,০০,০০০ টাকা দিয়েছে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা বানাবে। কিন্তু সে তাকে কেন্দ্রীয় নেতা বানাতে পারেনি। তার ৫,০০,০০০ টাকা ফেরতও দেয়নি। এই ক্ষোভ থেকে তাকে মেরেছে। এ ব্যাপারে আমার কোনরুপ সংশ্লিষ্টতা নাই। পার্টি অফিসে ও বাহিরে সকলেই সাক্ষী আছে। তাছাড়া ওখানে কর্তব্যরত পুলিশ সহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার লোক উপস্থিত ছিল। আনিসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অনেকেই আছে, যারা যুবলীগের কেন্দ্রীয় থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত পদপদবী টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতো। আজকে তারা অনেকেই অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে। যারা ৫ বছর পূর্বেও ঢাকায় মেছ ভাড়া দিতেও হিমসিম খেত। 

ফেসবুকে, বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা, টিভিতে আমার সম্পর্কে মিথ্যা বানোয়াট, ভিত্তিহীন কল্পকাহিনী সাজিয়ে কুৎসা রটনা করে চলেছে।

আনিসের সহযোগীরা মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানি করতে পারে বলেও আশংকায় আছি। সামাজিকভাবে আমাকে হেনেস্তা করার চেষ্টা করছে বিভিন্ন ভাবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথ্য প্রকাশ করার জন্য যদি এহেন পরিস্থিতির স্বীকার হই, তাহলে পরবর্তীতে কেউ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রকাশ করবে বলে আমার মনে হয় না। তাহলে কি সমাজ থেকে দুর্নীতি নির্মূল হবে না?

সরকারের বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, টেলিভিশনের বিভিন্ন চ্যানেলকে অনুরোধ করছি আপনারা ব্যাপারটাকে হালকা ভাবে না নিয়ে গুরুত্ব সহকারে দৃষ্টি রাখুন। আপনাদেরকে বিশেষ অনুরোধ করছি আমার বিরুদ্ধে যে কোন নিউজ যাচাই-বাছাই করে  তারপরে প্রকাশ করুন। 

মাননীয় নেত্রী আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

মোহাম্মদ আলী মিন্টু

সদস্য,

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। 

Share on: