এক আতঙ্কের নাম ফিস পেডিকিউর।

বার্তা জগৎ২৪ ডেস্ক

প্রকাশিতঃ ৪ জুলাই ২০১৮ সময়ঃ রাত ১১ঃ০০
এক আতঙ্কের নাম ফিস পেডিকিউর।
এক আতঙ্কের নাম ফিস পেডিকিউর।

বলিউডের এক ছবিতে রাজকুমার মীনাকুমারীকে বলেছিলেন ‘‌ইনহে জমিন পর না রাখিয়েগা’। বলিউডের ইতিহাসে আজও অমর হয়ে আছে সেই সংলাপ‌।

পা সত্যিই অনেক কথা বলে। পার্ফেক্ট সাজের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ পেডিকিওর বা পায়ের যত্ন। আর পেডিকিওরের এক গুরুত্বপূর্ণ ভাগ ফিশ পেডিকিওর। এধরনের পেডিকিওরে কোনও টাব বা বালতিতে উষ্ণ জলের মধ্যে পা ডুবিয়ে রাখা হয়। জলে ছাড়া থাকে কার্প প্রজাতির গারা রুফা মাছ বা চিকিৎসক মাছ। পূর্ব ভূমধ্য উপকূলবর্তী অঞ্চল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মিষ্টি জলে পাওয়া যায় এই গারা রুফা মাছ। ছোট ছোট কালো বা ছাই রঙা দাঁতহীন এই মাছগুলি পায়ের মরা কোষ খেয়ে ফেলে। তার ফলে পা হয়ে ওঠে সুন্দর, পরিষ্কার, মসৃণ। 

কিন্তু এবার এই দাঁতহীন গারা রুফাই হয়ে উঠেছে আতঙ্কের কারণ। নিউ ইয়র্কে ফিশ পেডিকিওর করানোর পর পায়ের সব কটি নখ হারাতে বসেছেন বছর ২০–র এক যুবতী।

ছয় মাস আগে একটি স্পা–তে ফিশ পেডিকিওর করিয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকেই তাঁর পায়ের নখের বৃদ্ধি থেমে গিয়েছে এবং যেটুকু ছিল তাও খসে পড়তে শুরু করে। প্রথমে ওই যুবতী ভেবেছিলেন, এটা বংশগত কোনও রোগ বা সাধারণ শারীরিক সমস্যা। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে গেলে যুবতীর সেই ধারণা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন এই রোগের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নাম ওনিকোম্যাডেসিস। ফিশ পেডিকিওরের সময় গারা রুফা মাছেরা তাঁর পায়ের নখ খেয়ে ফেলার জন্যই এই সমস্যা। এই ঘটনার রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছে ত্বক সংক্রান্ত একটি মেডিক্যাল জার্নালে। সেখানে চিকিৎসকরা এধরনের বিউটি ট্রিটমেন্টে সতর্ক করে বলেছেন, ওনিকোম্যাডেসিসের ফলে পায়ে গুরুতর সংক্রমণ হতে পারে। যার জেরে হারাতে হতে পারে সম্পূর্ণ পা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গারা রুফা সর্বভুক। তারা পায়ের মরা কোষই নয়, খেয়ে ফেলতে পারে নখও। তাছাড়া অনেক সময়ই জলের টাব, জল বা মাছগুলি ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। তাই শুধু ওনিকোম্যাডেসিসই নয়, একজনের পায়ের রোগ সংক্রমিত হতে পারে অন্যের পায়েও। তাই এবার স্পা–তে গিয়ে ফিশ পেডিকিওর করানোর আগে একবার ভেবে দেখুন করাবেন কিনা।   

 

Share on: