বাংলাদেশের দুই টাকার নোট শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম কারণ প্রকৃতির একটি অনবদ্য প্রতিচ্ছবি!

দিদার,বিশেষ প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ৯ এপ্রিল ২০১৯ সময়ঃ দুপুর ২ঃ৫৬
বাংলাদেশের দুই টাকার নোট শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম কারণ প্রকৃতির একটি অনবদ্য প্রতিচ্ছবি!
বাংলাদেশের দুই টাকার নোট শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম কারণ প্রকৃতির একটি অনবদ্য প্রতিচ্ছবি!

 

দিদার, বিশেষ প্রতিনিধি:

সৌন্দর্যের প্রতি ভাল লাগা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। সুন্দর ফুল, পাখি, প্রাকৃতিক দৃশ্য সহসাই যেকোনো মানুষের হৃদয়ের গহীন নীড়ে কড়া নাড়ে। ঠিক তেমনি একটি বাংলাদেশের প্রকৃতির একটি অনবদ্য প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশের দুই টাকার কাগজি নোটে। আর এই জন্যই বাংলাদেশের দুই টাকার কাগজের নোটটি বিশ্বের সকল মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ব্যাংক নোট হিসেবে।

দুই টাকার এই ব্যাংক নোটটিকে সেরা ব্যাংক নোট হিসেবে যাচাই করার অন্যতম প্রধান কারণ এটির নকশা ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য। এটির ভেতরে রয়েছে বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতি ও দেশের প্রকৃতির মনোহর উপস্থাপনা যা দেখামাত্রই সারা পৃথিবীর মানুষের মন মাতিয়ে দেয়।

২০১২ সালে রাশিয়ার একটি বিনোদন পত্রিকা বিশ্বজুড়ে জরিপ চালিয়েছিল। সেখানে প্রথম স্থান অধিকার করেছিল বাংলাদেশের দুই টাকার কাগজি নোট।অপরদিকে প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছিল সাও টোমের ৫০ হাজার মূল্যমানের ডোবরা নোট। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকার করেছিল যথাক্রমে বাহামার ১ ডলারের নোট এবং বাহরাইনের ৫ দিনারের নোট। পঞ্চম স্থানে জর্জিয়ার ১০ লারি নোট। ষষ্ঠ স্থানে ১০ হংকং ডলার। সপ্তম স্থানে ১০ কুক আইল্যান্ড ডলার। অষ্টম স্থানে ৫০ ইসরাইলি শেকেল। নবম স্থানে ২০ হাজার আইল্যান্ড ক্রোনার্স নোট এবং দশম স্থানে আছে ৫০ ফেরো আইল্যান্ড ক্রোনার্স নোট।

যদিও বা এটি কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়, শুধুমাত্র বিশ্বব্যাপী অনলাইন পাঠকদের কাছ থেকে মত নিয়ে রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন রাশিয়ার বিনোদন আউটলেটটি, আর সেখানেই ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলে সকল দেশের কাগজী নোট কে পেছনে ফেলে সর্বস্তরের মানুষের মনে যে নোটটি জায়গা করে নিয়েছিল তা হলো বাংলাদেশি দুই টাকার কাগজি নোট।

দুই টাকার নোটটির একপিঠে শহীদ মিনার,অন্য পিঠে গাছের ডালে বসে আছে বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল। দুই পিঠেই দুটি শান্তির সাদা বৃত্ত। দোয়েল বসা ডালের নিচে কুলকুল বয়ে যাওয়া নদী। শহীদ মিনারের পাশেই ফুল ফোটা ছোট্ট গাছ। দুই টাকার এই নোট বাংলাদেশের কথা বলে,চিত্রিত করে দেশের প্রকৃতিকে। 

১৯৯২-৯৩ সালের দিকে নোটটি যখন প্রথম বাজারে ছাড়া হয়, তখন অনেকে এর সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তখনকার সময়ে অনেকে বিশ-পঞ্চাশ টাকা দিয়েও দুই টাকার একটি নোট কিনে সংগ্রহ করে রেখেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি  বাজারে সুলভ হওয়ার দুই টাকার নোট অনেকে শখ করে জমিয়ে রাখতো। মাটির ব্যাংক ভরে রাখত দুই টাকার কাগজি নোটে। ফলে একটি সময় বাজারে তার ঘাটতিও দেখা গেছে।একটা নতুন নোট নিয়ে এমন ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো বোধহয় হয়নি। 

তবে পরে এই দুই টাকার নোটটির কপালে অনেক দুর্ভোগ নেমে আসে। হিরোইন আসক্তরাও তাদের নেশার কাজে ব্যবহার করত নোটটি। এমনকি সংবাদমাধ্যমে এই নোটটি চীনেও পাচার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছিল।

একটি সময় যখন খুবই স্বল্পতা এবং বাজার থেকে নোটটি হারিয়ে যেতে বসে তখন সরকার দুই টাকার কয়েন বাজারে ছাড়ে। নতুন নোট ছাড়া হয় না বলে পুরনো নোটগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ ছেঁড়াফাড়া দশা হয়ে জোড়াতালি দিয়ে সবার হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নতুনভাবে বাজারে নিয়মিত ছাড়া না হলে হয়তোবা একটি সময় এই সুন্দর নোটটি একেবারে হারিয়ে যেতে পারে। অথচ সারা পৃথিবীর সমগ্র কাগজি নোটের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে সবার মনে প্রথম স্থান করে নিয়েছিল বাংলাদেশের প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি বহনকারী এই কাগজি নোটটি। তাই বাংলাদেশের দুই টাকার কাগজি নোট আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে নয় বরং বাংলাদেশের প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি বহন করে সারা পৃথিবী মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান থাকুক।