বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকছে না সুন্দরবন

দিদার,বিশেষ প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ৫ জুলাই ২০১৯ সময়ঃ রাত ১ঃ০১
বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকছে না সুন্দরবন
বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকছে না সুন্দরবন

 

দিদার, বিশেষ প্রতিনিধিঃ 

ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত কমিটির ৪৩ তম সভায় ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে থেকে সুন্দরবনকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এবারের কমিটিতে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় সুন্দরবনকে অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি (World Heritage Committee)।

এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে কিউবা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং চীন সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার নতুন সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করে। আলোচনাকালে পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত প্রস্তাবকারী কিউবা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং চীন ছাড়াও আজারবাইজান, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, তিউনিসিয়া, তানজানিয়া, বুরকিনাফাসো, উগান্ডা, জিম্বাবুয়ে ও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতসহ ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র সরাসরি এ সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করে।

কমিটিতে সুন্দরবন সংরক্ষণে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপসমূহ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। কমিটি সদস্য রাষ্ট্রসমূহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও পরিবেশ রক্ষায় পদক্ষেপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জনকে স্বাগত জানান। পরবর্তীতে অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের অবস্থানের প্রতিফলন ঘটিয়ে সর্বসম্মতভাবে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে সুন্দরবনকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

 

 

ওই সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে এ বছর বাংলাদেশ সরকার বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানাবে এবং আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২০ -এর মধ্যে হালনাগাদ তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন দাখিল করবে অপরদিকে বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের জন্য Strategic Environment Assessment (SEA) প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের এই প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম কমিটির সদস্যবর্গকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন,বর্তমান কমিটির উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাকরণে গৃহীত এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে উৎসাহিত করবে।

এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে কমিটি বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নির্মিতব্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহের প্রতি সমর্থন জানাল এবং সেই সাথে তারা পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার উপরও গুরুত্ব আরোপ করেছেন বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তিনি সুন্দরবনকে বাংলাদেশের গর্ব হিসেবে উল্লেখ করে সুন্দরবন সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ বাংলাদেশ সরকার গ্রহণ করবে বলে কমিটিকে আশ্বস্থ করেন।

World Heritage Committee এর ৪৩তম সভা আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ৩০ জুন থেকে শুরু হয়েছে যা আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এই সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম। প্রতিনিধি দলে অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি কাজী ইমতিয়াজ হোসেন।

উল্লেখ্য, সুন্দরবন ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

বার্তা জগৎ২৪/ এম এ