ভারতের নতুন আতঙ্ক, লাদাখে নতুন ঘাঁটি চীনের

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ২ অগাস্ট ২০২০ সময়ঃ রাত ১২ঃ০৭
ভারতের নতুন আতঙ্ক, লাদাখে নতুন ঘাঁটি চীনের
ভারতের নতুন আতঙ্ক, লাদাখে নতুন ঘাঁটি চীনের

 

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

ভারত নিয়ন্ত্রিত লাদাখ সীমান্ত নিয়ে ভারত- চীনের দ্বন্দ্ব পুরাতন হলেও চীনের ভিন্ন পরিকল্পনায় নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে ভারত সরকারের মধ্যে। 

লাদাখ সীমান্তের পর ভারতের উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ গিরিপথে নজর পরেছে চীনের। সম্প্রতি সেখানে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলএসি) কাছে চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) একটি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে বলে ভারতীয় সেনা জানিয়েছে।

আনন্দবাজার সূত্রে জানা যায়, চীনের পাশাপাশি উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার ওই গিরিপথ ভারত ও নেপালেরও সীমান্ত। এই পরিস্থতিতে এলাকায় সতর্ক নজরদারি চালাচ্ছে ভারতীয় সেনা এবং ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি)।

লিপুলেখের পরিস্থিতি কূটনৈতিক ভাবে নয়াদিল্লির কাছে আরো স্পর্শকাতর। জুন মাসে নেপাল পার্লামেন্টে পাশ হওয়া মানচিত্র অনুমোদন বিলে উত্তরাখণ্ডের কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরার পাশাপাশি লিপুলেখ গিরিপথকেও ‘নেপালের ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে নয়াদিল্লির আপত্তিতে কর্ণপাত করেননি নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। এই পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে চীনা বাহিনীর উপস্থিতি বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

ভারতীয় সেনার এক কর্মকর্তা বরাতে আনন্দবাজার জানায়, লিপুলেখ গিরিপথের অদূরে প্রায় এক হাজার চীনা সেনা শিবির গেড়ে বসেছে। সঙ্গে থাকা অস্ত্রশস্ত্র এবং রসদের পরিমাণ থেকে পরিষ্কার, যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েই তারা এসেছে। উত্তর সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখাতেও সম্প্রতি চীনা ফৌজের তৎপরতা ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তিব্বতের কৈলাস ও মানস সরোবর যেতে তীর্থযাত্রীরা প্রাচীনকাল থেকেই লিপুলেখ গিরিপথ ব্যবহার করেন। প্রতি বছর জুন থেকে অক্টোবরে গিরিপথের ওপারে চীন অধিকৃত তিব্বতের গ্রামগুলোর বাসিন্দারা স্থানীয় পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে এখানে আসেন।

তীর্থযাত্রীদের সুবিধার জন্য ধরচুলা থেকে লিপুলেখ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার রাস্তা বানিয়েছে ভারত। মে মাসে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ সেই রাস্তা উদ্বোধন করার পরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল নেপাল। ওলি সরকারের এমন আচরণের পিছনে বেইজিংয়ের উসকানি আছে বলেও অভিযোগ উঠেছিল।

গালওয়ান সংঘর্ষের পরে দেড় মাস কেটে গেলেও লাদাখের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখনো সরেনি চীনা বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাও সেখানে শীতকালীন অবস্থানের প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

বার্তাজগৎ২৪/ এম এ 

Share on: