মনে হচ্ছে যেনো আবারো পিতৃহারা হলাম-নওফেল

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ৭ নভেম্বর ২০১৯ সময়ঃ বিকেল ৪ঃ১৮
মনে হচ্ছে যেনো আবারো পিতৃহারা হলাম-নওফেল
মনে হচ্ছে যেনো আবারো পিতৃহারা হলাম-নওফেল

দিদারুল ইসলাম:

বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মঈন উদ্দীন খান বাদল। তিনি একজন মুক্তিযুদ্ধা ও সফল রাজনীতিবিদ।ব্যক্তিগত জীবনে তাঁহার সাথে চট্টগ্রামের সাবেক ও প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। হঠাৎ করে এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের মৃত্যুর খবর শুনে সারা চট্টগ্রামের মানুষ শোকে স্তব্ধ হয়ে আছে।এরইমধ্যে চট্টগ্রামের তরুণ রাজনীতিবিদ ও প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সুযোগ্য সন্তান শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বাবার পুরনো বন্ধুর স্মৃতিচারণ করে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের দেওয়া স্ট্যাটাসটি বার্তা জগৎ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

মঈন উদ্দীন খান বাদল। বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় নেতা, অনলবর্ষী বক্তা, সংসদ সদস্য, বীর চট্টলার গৌরব, আরো অনেক কিছুতেই তাকে সম্বোধন করা যায়। না ফেরার দেশে তিনি আজ থেকে থাকবেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মনে হচ্ছে যেনো আবারো পিতৃহারা হলাম। দু’বছর আগে হঠাৎ স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়েছিলেন যখন, তখন তার বন্ধু মহিউদ্দিন চৌধুরীও গুরুতরভাবে অসুস্থ, হাসপাতালে। খুব আফসোস করতেন বন্ধুকে দেখে যেতে পারেন নাই।

অশ্রু সজল নয়নে স্মরণ করতেন। আজ থেকে আমরা তাকে স্মরণ করবো। চট্টগ্রামের স্বার্থে, মুক্তিযুদ্ধের স্বার্থে, দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে কোথায় ছিলো না তার গর্জন? প্রথম তার সাথে আমার পরিচয় শৈশবে। এরশাদের দোর্দণ্ড শাসনের সময়। তৎকালীন পিজি হাসপাতাল, আজকের বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের রাজবন্দীদের কক্ষে।

আমার বাবার প্রিজন সেলের সহবন্দী ছিলেন। এরশাদের সাথে আপোষ করে মন্ত্রী হতে পারতেন, কিন্তু বেছে নিয়েছিলেন বন্দী জীবন। আমাকে সমাজতন্ত্র শেখাতেন, দেখতেও ছিলেন স্টালিনের মত, ইম্পোজিং ব্যক্তিত্ব। আমার বাবার সাথে হাস্যরস আর গভীর রাজনৈতিক আলোচনায় মগ্ন থাকতেন। মন্ত্রমুগ্ধের মত তার কাছ থেকে শুনতাম। পরবর্তীতে যখনই দেখা হতো, প্রতিবার তার কাছ থেকে শিখেছি। রাজনৈতিক আলোচনা যে শুধুই পদবির আর ক্ষমতার রাজনীতি নয় এবং রাষ্ট্রনীতি, আদর্শ, উন্নয়ন, এসবই হচ্ছে রাজনীতির মূল আলোচনা, বারবার তার সান্নিধ্যে এসে তা অনুভব করেছি এবং অনুপ্রাণিত হয়েছি। বঙ্গবন্ধুর প্রশ্নে, তার সুযোগ্যা কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে, সেই শৈশব থেকে দেখেছি অবিচল দৃঢ়তার সাথে তাকে বলতে। তিনি আর আমাদের মাঝে নাই। বাংলাদেশের রাজনীতি আরো একজন বিরল প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদ কে হারালো, এক অপূরনীয় ক্ষতি। জাতীয় সংসদ আর জাতীয় রাজনীতি, হয়তোবা এই সিংহের গর্জন আর শুনবে না, কিন্তু চট্টগ্রামের মানুষ, বাংলাদেশের মানুষ, আদর্শিক রাজনীতির এই সিংহ পুরুষকে আজীবন স্মরণ করবেন। বেঁচে থাকবেন আমাদের প্রিয় মঈন উদ্দীন খান বাদল, আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায়।

লেখক: আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী

(ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)

Share on: