যা পাওয়া গেলো বিদ্যাসাগরের ২শ’ বছর পুরোনো সিন্দুকে

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ৩০ নভেম্বর ২০১৯ সময়ঃ বিকেল ৩ঃ৩০
যা পাওয়া গেলো বিদ্যাসাগরের ২শ’ বছর পুরোনো সিন্দুকে
যা পাওয়া গেলো বিদ্যাসাগরের ২শ’ বছর পুরোনো সিন্দুকে

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্কঃ

উপমহাদেশের ইতিহাসে বিদ্যা সাগর এক অবিস্মরণীয় নাম। পিছিয়ে পড়া ভারতবাসীকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার অবদান সবারই জানা। ২০০ বছর পরও তিনি বেঁচে আছেন তার কাজের ভেতর দিয়ে। এদিকে সম্প্রতি বিদ্যা সাগরের কিছু অমূল্য নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে মরচে ধরা সিন্দুক।

শুক্রবার সকাল থেকে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি মরচে ধরা সিন্দুক ভাঙন প্রক্রিয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে মিডিয়া পাড়ায়। অনেকক্ষণ চেষ্টার পর একটি সিন্দুকের চারটি তালা ভেঙে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য সিন্দুকটি ভাঙার চেষ্টা চলছে। বিদ্যাসাগর সেই সময় বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই নথি সিন্ধুক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র।

পাওয়া গিয়েছে, ১৯১৯ সালের গঙ্গামণি দেবী সিলভার মেডেল, ড. এন মুখার্জী মেডেল, ১৯৮২ সালের চেক বই, সংস্কৃত কলেজের পুরনো কাগজপত্র। ৭টি এনভেলপ, তিনটি মেডেল, ১৯৫৬ সালের মুক্তকেশী দেবী ফাউন্ড ইত্যাদি। সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান মণিশঙ্কর মণ্ডল বলেন, “দুটি সিন্দুক পাওয়া গিয়েছে। একটা খোলা হয়েছে। সেখান থেকে বেশ কিছু নথি পাওয়া গিয়েছে। বিদ্যাসাগারের আমলের কাগজপত্র পাওয়া গিয়েছে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “সেই সময় রবীন্দ্রনাথ এখানে এসেছিলেন। রবীন্দ্রনাথকে মহামহোপাধ্যায় উপাধি দেওয়া হয়। তিনি যে উপাধিটা গ্রহণ করেছিলেন, তার স্বাক্ষর রয়েছে সিন্দুকে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে, যা অমূল্য। আরেকটা সিন্দুক খোলার চেষ্টা চলছে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে। সেটা কিছুক্ষণের মধ্যেই খুলে যাবে।”

দিন কয়েক আগেই দুটি পুরনো সিন্দুক নজরে আসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। এর পর সিন্দুক দুটিকে আনা হয় উপাচার্যের ঘরে। শুক্রবার সকাল থেকে সিন্দুক দুটি ভাঙার চেষ্টা চলছে। মরচে ধরা, ২০০ বছরের পুরনো সিন্দুক হওয়ায় ভাঙার কাজ সহজ হয়নি। অনেকক্ষণের চেষ্টায় একটি সিন্দুক ভাঙা সম্ভব হয়েছে। অন্যটি ভাঙার কাজ চলছে।

১৮২৪ সালে স্থালে স্থাপিত হয় সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়। এত দিনের পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়ে মরচে ধরা দুটি সিন্দুক নিয়ে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি সিন্দুক ভেঙে বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। এই সব নথি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় সংরক্ষণ করা হবে বলেই বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে। আগামী দিনে এইসব গুরুত্বপূর্ণ নথি গবেষকদের কাজে লাগবে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বার্তাজগৎ২৪/ এম এ

Share on: