যে কাজগুলো করলে রোজা ভঙ্গ হয়!

বার্তা জগৎ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ৭ মে ২০১৯ সময়ঃ রাত ২ঃ৪৭
যে কাজগুলো করলে রোজা ভঙ্গ হয়!
যে কাজগুলো করলে রোজা ভঙ্গ হয়!

 

মাওলানা ওহিদূজ্জামান (সফি):

আজ(৭ মে) মঙ্গলবার পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দিন। আত্মসংযমের এই মাসকে ফজিলতের দিক থেকে ১০ দিন করে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথম ১০ দিন রহমত, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত এবং শেষ ১০ দিন নাজাত।

আজ প্রথম রোজার মাধ্যমে রহমতের ১০ দিন শুরু হলো। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে রোজা আদায় করবেন আজ থেকে। কিন্তু রোজার পবিত্রতা, কী কারণে রোজা ভঙ্গ হয় তা আমাদের অনেকের কাছে অজানা। তাই আমাদের প্রত্যক মুসলমানের জানা উচিত রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ। নিচে রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

যা কিছু রোজা ভঙ্গ করে তা থেকে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিরত থাকার নাম হলো সিয়াম। রোজাভঙ্গকারী সব ধরনের বিষয় থেকে বিরত না থাকলে রোজা আদায় হবে না। যে সব কাজ রোজা ভঙ্গ করে তা সাধারণত সাত প্রকার।

১)ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করলে ও ধূমপান করলে :

রোজার রাখার অর্থ সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহারই নিষিদ্ধ। কিন্তু কেউ যদি রোজা থাকা অবস্থায় কোন প্রকার পানাহার বা ধূমপান করে তাহলে নিঃসন্দেহে তা রোজা ভঙ্গের একটি কারণ হবে। ডুবে ডুবে জল খাওয়ার মতো করে যদি কেউ সবার অজান্তে লুকিয়ে পানাহার করে সেক্ষেত্রেও রোজা ভেঙ্গে যাবে। কারণ আর কেউ না দেখুক, আল্লাহ তাআলা ঠিকই দেখছেন।

তবে কেউ যদি অনিচ্ছাকৃত ভাবে পানি খেয়ে ফেলে বা অন্য কোন খাবার খেয়ে ফেলে তাহলে রোজা ভাঙ্গবে না। খাওয়ার সময় যদি মনে পরে যে ব্যক্তি রোজা ছিলো, তাহলে মুখের খাবার ফেলে দিতে হবে। এছাড়া যতটুকু অজান্তে খেয়ে ফেলেছে ততটুকুর জন্যে রোজা ভাঙ্গবে না।

এ বিষয়ে নবী করিম (সা.) বলেছেন- ‘যদি কেউ ভুলক্রমে পানাহার করে তবে সে যেন তার সিয়াম পূর্ণ করে নেয়, কেননা, আল্লাহ তায়ালাই তাকে এ পানাহার করিয়েছেন।’ (অর্থাৎ এতে তার রোযা ভাঙ্গেনি) –(বোখারিও মুসলিম শরিফ)

অনেকেই মনে করতে পারেন ধূমপান তো পানাহারের মধ্যে পড়ে না, তাছাড়া ধূমপান করলে পেট ভরারও কিছু নেই তাই ধূমপান করা যাবে। এটা ভুল, ধূমপান করলেও রোজা সম্পুর্ণরূপে ভেঙ্গে যাবে।

২)স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হলে : 

রোজা রাখা মানে শুধু পানাহার থেকে না, ইন্দ্রীয় তৃপ্তি থেকেও নিজেকে বিরত রাখা। সেই অর্থে রোজা থাকা অবস্থায় যদি কেউ সহবাস করে তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। এক্ষেত্রে তাকে কাজা ও কাফফারা দুটোই করতে হবে।

কাফফারা আদায়ের নিয়ম হচ্ছে- কোনো মুসলিম দাস বা দাসী মুক্ত করে দেয়া। বর্তমানে যেহেতু দাস প্রথা নেই। ইসলাম ধাপে ধাপে দাস প্রথাকে উচ্ছেদ করেছে, তাই দাস-দাসী মুক্ত করে কাফফারা আদায় করার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে এক একটি রোজার পরিবর্তে দু মাস বিরতিহীন রোজা রাখতে হবে।  বিরতিহীন রোজা পালন করতে গিয়ে সঙ্গত কারণ ছাড়া যদি বিরতি দেয়া হয়, তবে আবার নতুন করে দু মাস রোজা রাখতে হবে। যদি বিরতিহীন ভাবে দু মাস সিয়াম পালনের সামর্থ্য না রাখে তবে এক একটি রোজার পরিবর্তে ষাট জন অভাবী মানুষকে খাদ্য দান করতে হবে। প্রত্যেকের খাদ্য হবে এক ফিতরার সম পরিমাণ।

 

৩)ওযু করার সময় গড়গড়া করা যাবে না:

আর নাকে পানি দেওয়ার সময় সাবধান থাকতে হবে যেন পানি ভেতরে চলে না যায়। ইচ্ছাকৃত ভাবে পানি ঢোকালে রোজা ভেঙ্গে যাবে, অনিচ্ছাকৃত হলে রোজা ভাঙবে না।

৪)ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে : 

রোজা ভেঙ্গে যাবে। তবে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয়ে থাকে তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই। অনিচ্ছাকৃত বমি হলে, বমি করার পর সমস্ত মুখ ভালো করে পানি দিয়ে কুলি করে ধুয়ে নিতে হবে যেন মুখের কোথাও বিন্দুমাত্র খাবারের কণা জমে না থাকে।

৫)ঋতুস্রাব হলে : 

রোজা রাখা অবস্থায় যদি মহিলাদের মাসিকের রক্ত দেখা দেয় তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। এমনিভাবে প্রসবজনিত রক্ত প্রবাহিত হতে থাকলে রোজা নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে যে কয়টি রোজা নষ্ট হবে সে কয়টি পরে কাজা করে নিতে হবে।

৬)হস্তমৈথুন করলে :  

হস্তমৈথুন বা অন্য কোনভাবে যদি কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে বীর্যপাত ঘটায় তাহলে তা রোজা ভঙ্গের কারণ হবে। এক্ষেত্রে যদি কেউ কামভাবে স্ত্রীকে স্পর্শ করার মাধ্যমেও বীর্যপাত ঘটায় তাহলেও রোজা ভেঙ্গে যাবে। তবে স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙ্গবে না। তবে স্বপ্নদোষ হয়েছে এমনটা বোঝামাত্রই ফরজ গোসল করে নিজেকে পবিত্র করে নিতে হবে।

৭)ইনজেকশন নিলে : 

ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে জীবনী শক্তি বৃদ্ধি করার জন্যে কিংবা অন্য কোন কারণে শরীরে ওষুধ প্রবেশ করানো হলে  রোজা ভেঙ্গে যাবে। যদি অবস্থা এমন হয় যে ইনজেকশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধ নিতেই হবে নয়তো বড়সড় কোন সমস্যা হয়ে যাবে সেক্ষেত্রে কথা ভিন্ন। এ ব্যাপারে একাধিক মতামত রয়েছে। ইনজেকশন যদি এমন হয় যে তাহলে শরীরের বল বৃদ্ধি করবে (যেমন গ্লুকোজ) তাহলে সে জাতীয় ইনজেকশন ব্যবহারে রোজা ভেঙ্গে যাবে। কারণ খাবার যেই কাজ করে এক্ষেত্রে অনেকটা একই কাজ করছে এটি। তবে শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্যে যদি ইনজেকশন দেয়া হয় (যেমন ইনসুলিন, পেনিসিলিন) তাহলে রোজা ভাঙ্গবে না।

এছাড়া দাঁতে আটকে থাকা ছোলা পরিমাণ বা তার চেয়ে বড় খাদ্য-দ্রব্য গিলে ফেললে, বমি মুখে আসার পর গিলে ফেললে, রাত্রি আছে মনে করে পানাহার করলো, কিন্তু দেখা গেলো সুবহে সাদিক হয়ে গিয়েছে, মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে সুবহে সাদিকের পর নিদ্রা হতে জাগরিত হলে। এসব ক্ষেত্রে রোজার কাজা করতে হবে।

উল্লেখিত বিষয়গুলো থেকে নিজেদেরকে হেফাজত করে সুন্দরভাবে রোজা পালন করাই হবে মুসলমানদের  একান্ত কাজ।

বার্তা জগৎ২৪/ এম এ

 

Share on: