যে ১০ টি কারণে রোজা না রাখলেও সমস্যা নাই

দিদার,বিশেষ প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিতঃ ১৭ মে ২০১৯ সময়ঃ বিকেল ৩ঃ৩৭
যে ১০ টি কারণে রোজা না রাখলেও সমস্যা নাই
যে ১০ টি কারণে রোজা না রাখলেও সমস্যা নাই

 

দিদার, বিশেষ প্রতিনিধি:

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রোজা তৃতীয়। ইসলামের পরিভাষায়, সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে খাঁটি নিয়তে পানাহার ও স্ত্রী সহবাসহ হতে বিরত থাকাকে সাওম বলা হয়। রোজার মাধ্যমে মানবাত্মা পাপ ও কালিমা থেকে সম্পূর্ণ রূপে পরিষ্কার ও পবিত্র হয়ে যায়।আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুহাম্মাদিকে আরো স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে,এ রোজার হুকুম শুধু মুসলিম উম্মাহর জন্যই নাজিল হয়নি বরং তাঁদের পূর্ববর্তী যারা দুনিয়াতে এসেছেন এবং গত হয়েছেন তাদের ওপরও এ রোজার বিধান ফরজ ছিল।উম্মাতে মুহাম্মাদিরা যাতে রোজার এ বিধান পালনে পূর্বের উম্মতের চেয়ে পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য এ রোজা পালনের মাধ্যমে শরীর ও মনকে পুতঃপবিত্র করে তোলে শয়তানের পথ পরিহার করতে আল্লাহ তাআলা নির্দেশনা দিয়েছেন।

ইসলাম শান্তির ধর্ম,তাই কখনো ধর্মীয় কোন বিধি বিধান আল্লাহ তা'আলা তাঁর অপারগ বান্দাদের উপর জোর করে চাপিয়ে দেননি। সেজন্য একান্তই যারা রোজা পালনে অসামর্থ্য তাদের বিষয়েও আল্লাহ তাআলা বিধিমালা প্রণয়ন করেছেন। যাতে অক্ষম বা সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিরাও রোজার তাৎপর্য থেকে বঞ্চিত না হয় সে ব্যাপারে সুযোগ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা সুরা বাকারার ১৮৪ নং আয়াতে রোজা ফরজ হওয়ার পরও যারা রোজা রাখতে অক্ষম তাদের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন,সেখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

'রোজা নির্দিষ্ট কিছু দিন। তাই তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অসুস্থ থাকে, বা সফরে থাকে, তাহলে পরে একই সংখ্যক দিন পূরণ করবে। আর যাদের জন্য রোজা রাখা ভীষণ কষ্টের, তাদের জন্য উপায় রয়েছে — তারা একই সংখ্যক দিন একজন গরিব মানুষকে খাওয়াবে। আর যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাড়তি ভালো কাজ করে, সেটা তার জন্যই কল্যাণ হবে। রোজা রাখাটাই তোমাদের জন্যই ভালো, যদি তোমরা জানতে। [আল-বাক্বারাহ ১৮৪]'

কুরআন হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা করলে যে দশটি কারণে রোজা না রাখলেও সমস্যা নাই তা হল:

১. শিশুদের জন্য: যারা এখনো প্রাপ্তবয়স্ক নয় তাদের উপর রোজা রাখা ফরজ নয়,তবে ভবিষ্যতের জন্য শিশুদের তৈরি করতে রোজার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করা যেতে পারে। শিশুরা প্রাপ্ত বয়স্ক হলে তাদের উপর রোজা ফরজ হবে, ছেলেদের মধ্যে যখন তাদের স্বপ্নদোষ হয় তখন তারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়,আর মেয়েদের যখন পিরিয়ড শুরু হয় তখন তারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়।

২. মানসিক ভারসাম্যহীন: মানসিক ভারসাম্যহীন অর্থাৎ পাগল ব্যক্তিদের উপর রোজা রাখার কোন বিধান নেই।

৩. অসুস্থ ব্যক্তি: যারা অতিরিক্ত অসুস্থ রোজা রাখলে যাদের প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে অথবা ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তি যাদের ভবিষ্যতে বাঁচার কোন সম্ভাবনা নেই তাদের জন্য রোজা না রাখার বিধান রয়েছে।

৪. মুসাফির: যারা ভ্রমণে থাকেন তাদের অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হয় তাই তাদের জন্য রোজা না রাখার বিধান রয়েছে।

৫. খুবই বৃদ্ধ লোক: যাদের বয়স ৮০ ঊর্ধ্বে কিংবা বার্ধক্যের কারণে যারা কাউকে চিনতে পারেনা তাদের জন্য রোজা না রাখার বিধান রয়েছে,তবে বৃদ্ধ ব্যক্তির প্রত্যেকটি রোজার কারণে একজন এতিম,অসহায় কিংবা দুরস্ত ব্যক্তিদেরকে এক বেলা করে খাবার খাওয়াতে হবে অথবা কেউ চাইলে ৩০ টি রোজার জন্য ৩০ জনকে একসাথে ও খাইয়ে দিতে পারবে।

৬. মাত্রা অতিরিক্ত পরিশ্রমী ব্যক্তি: যারা অতিরিক্ত পরিশ্রম করবে তাদের জন্য রোজা না রাখার বিধান রয়েছে যেমন: যারা পাথর খনিতে কাজ করে, গ্রীষ্মকালে অনেক বেশি তাপমাত্রার মধ্যে যারা রিক্সা চালায়,যারা লোহার কারখানায় কাজ করে কিংবা যারা মরুভূমিতে কাজ করে।তবে তাদের উচিত হবে রমজান মাসে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কাজ পরিহার করে বিকল্প কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা,কিন্তু অতিরিক্ত পরিশ্রমী ব্যক্তি যদি বিকল্প কোনো কাজ খুঁজে না পাই তাহলে তিনি রোজা না রাখলেও পরে সেই সমস্ত রোজা কাজা হিসাবে আদায় করে দিবে।

৭. গর্ভবতী নারী: যে সমস্ত সন্তানসম্ভবা নারীদের রোজা রাখলে প্রাণনাশের সম্ভাবনা কিংবা অতিরিক্ত ক্ষতি হবার আশঙ্কা রয়েছে ডাক্তার যাদেরকে রোজা রাখতে বারণ করবে তাদের জন্য রোজা না রাখার বিধান রয়েছে।

৮. যে মা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ায়: যে নারী রোজা রাখলে বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াতে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের জন্য রোজা না রাখার বিধান রয়েছে।

৯. যে নারীর পিরিয়ড চলছে: পিরিয়ড কিংবা ঋতুবর্তী কালীন সময়ে নারীদের জন্য রোজা না রাখার বিধান রয়েছে,তবে নারীরা পিরিয়ডের কারণে সে সমস্ত রোজা রাখতে পারবে না সেই সমস্ত রোজা পরবর্তী সময়ে বছরের যেকোনো সময় কাজা হিসেবে আদায় করে দিবে।

১০. মাত্র বাচ্চা প্রসব করা নারী: মাত্র বাচ্চা প্রসব করা নারী অর্থাৎ নবজাতকের মায়ের জন্য রোজা না রাখার বিধান রয়েছে।

বার্তা জগৎ২৪/ এম এ