লোভে পড়ে জীবন বিসর্জনের গল্প ‘তুম্বাদ’

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিতঃ ১৯ মার্চ ২০১৯ সময়ঃ দুপুর ১ঃ১০
লোভে পড়ে জীবন বিসর্জনের গল্প ‘তুম্বাদ’
লোভে পড়ে জীবন বিসর্জনের গল্প ‘তুম্বাদ’

মধ্যবয়সী একজন লোভী মানুষের গল্প ‘তুম্বাদ’। যে অসীম সম্পদের গোপন রহস্য জানে কিন্তু সেই সম্পদ আহরণের নেশায় বুদ হয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের জীবন বিসর্জন দিতে হয়।

‘তুম্বাদ’ হিন্দী হরর থ্রিলার চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন নতুন পরিচালক রাহী অনিল বার্ভে এবং আদেশ প্রসাদ। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহম সাহা।

তুম্বাদ শুরু হয় একটি অশুভ লক্ষণ দিয়ে এবং এটা চলতে থাকে প্রথম এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেখান থেকে গল্পে একটা প্রাণবন্ত গতি আসে। কোন ফ্ল্যাশব্যাক ছাড়াই সরলরৈখিক গল্প এটি। শুরুর দিকে ২৫ মিনিটেই হরর ভিত্তিক সকল উপাদান বিদ্যমান ছিল। এরপর থেকেই গল্পটিতে উদ্বেগ উপাদান সম্মিলিত হয়ে একটি রহস্যজনক নাটকীয়তার দিকে মোড় নেয়। যখন চলচ্চিত্রটি আপনাকে উদ্বেগের বা চিন্তার ফাঁদে আটকে রাখার ব্যবস্থা করে। কিন্তু একটা সময় গুপ্তধনের পিছনের কাহিনী উন্মোচিত হয় এবং গল্পটি কিছুটা নিরস হয়ে যায়। আপনার কাছে মনে হতে পারে আপনি শুধু চলমান ঘটনা দেখছেন। ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না প্রধান চরিত্র তার সন্তানকে এটি আহরণের জন্য প্রস্তুত করছেন এবং সন্তানের পরামর্শ অনুযায়ী সব গুপ্তধন একবারে সংগ্রহ করতে চাইবেন। এখান থেকে পুনরায় গল্পটি প্রাণ ফিরে পায় এবং শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখে। কিন্তু এখানে পৌছাতে গল্পটিতে কিছুটা সময় নেওয়া হয়। এটা সত্ত্বেও তুম্বাদ প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত খুবই চমৎকার একটি গল্প।

ভয়ের দৃশ্যগুলো চলচ্চিত্রটিতে খুব ভালোভাবে দৃশ্যায়িত হয়েছে। অতিরঞ্জিত কোন কিছুই উপস্থাপন করা হয় নি। দর্শকের সামনে বিচ্ছিন্ন ভয় দেখানোর প্রচেষ্টা দেখা যায় নি বা হঠাৎ করে উচ্চ সাউন্ড যুক্ত করে ভয় দেখানোর প্রয়াস ছিল না। সচরাচর ভয়ের চলচ্চিত্রে যেটা দেখা যায়। তুম্বাদ বরং একটা পরিস্থিতিতে ভয়ের চলচ্চিত্র। পরিস্থিতি, মেজাজ এবং পারিপার্শ্বিকতার মাধ্যমে এখানে ভয়ের তীব্রতা সৃষ্টি করা হয়। চরিত্রের ভয় আস্তে আস্তে কার্যকরভাবে দর্শকের ভিতর ঢুকে পড়ে।

তুম্বাদে চলমান চিত্রে গল্পের বয়ানে গতি ছিল চমৎকার। শুরুতে চলচ্চিত্রটির যাত্রা ছিল খুবই মসৃণ, মাঝখানে ধীর লয়ে গল্প আগায় এবং শেষাংশে গিয়ে সেটা ক্লাইম্যাক্সের চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে। চলচ্চিত্রটিতে প্রত্যেকটি চরিত্র কার্যকরভাবে রূপায়িত হয়েছে এবং পরিচালক সার্থকভাবে অতিপ্রাকৃত মেজাজ ও পরিবেশ তৈরি করেন সিনেমাটোগ্রাফি, আবহ সঙ্গীত ও লোকেশনের মাধ্যমে। ঠাণ্ডা ও বৃষ্টিস্নাত আবহাওয়া এটাকে আরো জোরালো করে তোলে।

তুম্বাদ গতানুগতিক হিন্দী চলচ্চিত্র থেকে আলাদা। যেখানে নাচ-গান, কৌতুক বা অতিরঞ্জিত অ্যাকশনের প্রাচুর্য নেই। চলচ্চিত্রটিতে গল্পের বয়ানে কোন ছেদ ঘটে নি। তুম্বাদ এর গল্পের কারণেই ভিন্নতা পেয়েছে। গল্পটি পৌরানিক জায়গায় সহজ সরলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। যাতে বাস্তবিক আচ্ছাদনের সাথে কল্পনা যুক্ত হয়েছে কার্যকরভাবে।তুম্বাদের প্রধান শক্তির জায়গা এর আঁটো চিত্রনাট্য এবং ভাল দৃশ্যায়ন। এর সাথে ভাল অভিনয়, দক্ষ ক্যামেরার কাজ এবং আবহ সঙ্গীত চলচ্চিত্রটি অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। বাড়তি ইফেক্টের কাজও প্রয়োগ করা হয়েছে ভালভাবে। সময়ের ফ্রেমকে ধারণ করার জন্য বেশভূষা ও সাজসারঞ্জামগুলো নির্বাচন করা হয়েছে সূক্ষ্মভাবে। অন্যদিকে ডিটেইলিংয়ের প্রতি পরিচালকের দৃষ্টিও ছিল সতর্ক।

সর্বোপরি তুম্বাদ একটি চিত্তাকর্ষক হরর থ্রিলার যেটার নির্মাণ শৈলী অসাধারণ এবং অন্তত একবার দেখার দাবি রাখে।

লেখকঃ সায়েম খান, চলচ্চিত্র আলোচক।

বার্তাজগৎ২৪/ এ কে 

 

Share on: