শিকলে বন্দী মানবতাঃ ১২ বছর ধরে শিকলে বাঁধা জীবন এই কৃষিবিদের

বার্তা জগৎ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সময়ঃ রাত ৮ঃ২২
শিকলে বন্দী মানবতাঃ ১২ বছর ধরে শিকলে বাঁধা জীবন এই কৃষিবিদের
শিকলে বন্দী মানবতাঃ ১২ বছর ধরে শিকলে বাঁধা জীবন এই কৃষিবিদের

 বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:

১৯৯৬ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি, এজি অনার্স পাশ করেন বজলুর রহমান। এখন তাঁর বয়স ৪৮ বছর। ১২ বছর আগে তাঁর পায়ে পড়ানো হয় শিকল। তাই এখনো তাঁকে দিন কাটাতে হচ্ছে শিকল বন্দী অবস্থায়। কারো সাথে দেখা হলে অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতেন তিনি। বজলুর রহমান ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা ধীতপুর ইউনিয়নের টুংরাপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মালেকের পুত্র। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি ঘরের দরজা খোলা ভিতরে পাতলা কাপড় গায়ে জড়িয়ে শিকলবন্দী বসে রয়েছেন বজলুর রহমান। মেঝের মাঝখানে পুঁতা একটি বাঁকা লোহার সাথে কয়েকটি তালা অনুমান দেড়ফুট লম্বা শিকল পায়ের সাথে লাগানো । ঘরে মধ্যে মলমূত্র ত্যাগ করায় প্রতিদিন ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হয়।

অপুষ্টিতে ভোগে শরীরে বাসা বেধেছে রোগ বালাই। চেহারায় পরেছে বার্ধক্যের ছাপ। কোন কিছু জানতে চাইলে প্রলাপ বকেন। স্মৃতিভ্রষ্ট হওয়ায় নিজ সন্তানদের কথাও কিছু বলতে পারেননা।

বজলুর রহমানের বৃদ্ধা মা জানান, প্রায় ২০/২২ বছর পূর্বে তার ছেলে মানসিক ভরসাম্যহীন হয়ে পরে। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করা হয়েছে। কিছুটা সুস্থ্য হওয়ার পর বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর শিফাত ও সুপ্তি নামে দুটি কন্যা সন্তানের বাবা হন বজলুর রহমান। পুনরায় তার অবস্থা খারাপের দিকে গেলে ৫/৬ বৎসরের মাথায় বজলু ও দুই মেয়েকে ফেলে তার স্ত্রী চলে যায়। সেসময় মস্তিস্ক বিকৃত হওয়ার কারণে নানা রকম তান্ডব করায় নিরাপত্তার জন্য ভাইয়েরা তাকে শিকলে বেঁধে ঘরবন্দী করেন। ঘুমান কিভাবে জানতে চাইলে তিনি জানান, হাটু ঘেরে মেঝেতে উভো হয়ে কখনোবা বসা অবস্থায়।

চাচাদের তত্বাবধানে দুই মেয়ে লেখাপড়া চলাকালীন সিফাতের বিয়ে দেয়া হয়েছে । বজলুর ছোট মেয়ে সুপ্তি এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

এ ব্যাপারে কথা হয় বজলুর সহপাঠি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অধ্যাপক ওমর ফারুক মানিকের সাথে।

তিনি জানান, ৮৮/৮৯ ব্যাচে তারা দু’জনেই ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি, এজি অনার্স ভর্তি হন। বজলু এ সেকশনে সোহরাওয়ার্দী হলে আর তিনি বি সেকশনে আশরাফুল হক হলে ছিলেন। বজলু লেখাপড়ায় বরাবরই এগিয়ে থাকতো। দেখা হলে অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতেন।

সেশন জটের কারণে ১৯৯৬ সনে তারা অনার্স ফাইনাল সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হন।

বজলুর রহমানকে এ অবস্থা হতে উদ্ধার করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে একজন কৃষিবিদকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করবেন সরকারের কাছে এমনিই দাবি এলাকাবাসীর।

বার্তা‌জগৎ২৪.কম/এফ এইচ পি

Share on: