শুভ জন্মদিন রুম্মান রশীদ খান

বার্তা জগৎ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১০ জুলাই ২০১৯ সময়ঃ রাত ৮ঃ৫৬
শুভ জন্মদিন রুম্মান রশীদ খান
শুভ জন্মদিন রুম্মান রশীদ খান

 

আফজালুর ফেরদৌস রুমনঃ

যারা অভিনয় করেন, কিংবা গান অথবা নাচ-শুধু সেসব শিল্পী তারকা হবার যোগ্যতা অর্জন করেন, তাও নয়। তারকা যে কোনো ক্ষেত্রেই হতে পারে। রাজনীতির ময়দান থেকে রসুইঘর অথবা কলম হাতে কবি, লেখক, কিংবা মাইক্রোফোন হাতে সঞ্চালক-যে কোনো ক্ষেত্রেই তারকা হবার সুযোগ থাকে। তারকা সে জন, যাকে নিয়ে আলোচনা হয়, যার কাজ নিয়ে আলোচনা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে যিনি একইভাবে বিচরণ করেন আপন আলোয় স্ব স্ব জগতে। কে তারকা হতে পারেন, কে হতে পারেন না-তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে রুম্মান রশীদ খান যে বিনোদন জগতের মানুষদের খুব কাছের একজন, আলোচিত একজন, সে কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আজ এই প্রিয় মানুষের বিশেষ দিন। আজ তার জন্মদিন। রাত ১২টা থেকেই শুভেচ্ছার সাগরে ভাসতে শুরু করেছেন তিনি, যা তার ফেসবুক টাইমলাইন দেখলেই বোঝা যায়। এর মাঝেই সবকিছু থেকে খানিকটা সময় ছুটি নিয়ে আমার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেই আলাপনেরই চুম্বক অংশ তুলে ধরছি পাঠকের সামনে: 

শুভ জন্মদিন, আরআরকে!

অসংখ্য ধন্যবাদ। 

আজকের দিনটি  নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা?

পরিবারের সাথে, আপনজনদের সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই আমার কাছে বিশেষ। আজও হয়তো পরিবারের সাথে ঘরে, বাইরে সময় কাটাবো। আম্মাকে সালাম করবো। আব্বাকে মনে করবো, দোয়া করবো। এই তো !

জন্মদিনের তাৎপর্য আপনার কাছে কতখানি?

সত্যি বলতে বছরের এই একটি দিন আমার কাছে ‘বিশেষ’ কিছু। ১২ জুলাই থেকেই আমি অপেক্ষা করি কবে আবার ১১ জুলাই আসবে। সবাই শুভেচ্ছা বার্তা পাঠায়, সেসব আমি স্ক্রিনশট নিয়ে রাখি, প্রায় এক সপ্তাহ খরচ করে প্রত্যেকের উত্তর দেই-ভীষণ ভালো লাগে আমার। কিছুটা শিশুতোষ বৈকি, তবে আমার কাছে জন্মদিন মানে নতুন আরেকটি অর্জন-নতুন আরেকটি বছর। নতুন বছরে নতুন প্রত্যাশা, নতুন স্বপ্ন, নতুন বাস্তবায়ন। আমি পেছনে ফিরে তাকাবার মানুষ নই। একটি বছর জীবন থেকে ঝরে গেল-এই নীতিতে না চলে আমি এভাবে ভাবতে চাই: একটি বছর জীবনে যোগ হলো। 

বিনোদন জগতে আপনি একটি উল্লেখযোগ্য নাম। সাংবাদিক ছিলেন। নাট্যকার, চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার, সমালোচক, উপস্থাপক, মার্কেটিং কনসালটেন্ট, বেসরকারী টিভি চ্যানেলের ক্রিয়েটিভ হেড-আপনার অনেক পরিচয়। ছোটবেলায় কি ভেবেছিলেন, এর মধ্যে কোন পরিচয়ে বড় হয়ে থিতু হবেন?

ছোটবেলায় তৃতীয় শ্রেণীতে পড়বার সময় লন্ডনে থাকা সামছু মামাকে চিঠি লিখতাম। আম্মাই লিখে দিতেন। আমি নকল করতাম। তখন ভাবতাম বড় হয়ে লেখক হবো। আব্বা কৌতুক শোনাতেন। মন দিয়ে গিলতাম। পরবর্তীতে আইডিয়াল স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে সেসব কৌতুক উগড়ে দিতাম। সবাই হাসতেন। পুরস্কার পেতাম। তখন মনে হতো বড় হয়ে লোক হাসাতে হবে। স্কুলের মিলাদ মাহফিলে ইসলামিক সাধারণ জ্ঞান, ইসলামিক রচনা প্রতিযোগিতা, আযান ও আরবী সুন্দর হস্তাক্ষর প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়ে মনে হতো বড় হয়ে ধর্মকর্ম নিয়েই পড়ে থাকবো। প্রিয় নানা শুধুমাত্র আমাকে নিয়ে একটি কবিতার বই লিখেছিলেন। সেসব পড়তে পড়তে মনে হতো বড় হয়ে কবি হবো। তিন বোনের বই-খাতা ছিড়ে ইরেজার-পেন্সিল দিয়ে ১৬ পাতা কিংবা ৩২ পাতার ম্যাগাজিন লিখতাম। তখন ভাবতাম বড় হয়ে সাংবাদিক হবো। কাজল নানী তৃতীয় শ্রেণীতে পড়বার সময় হাতে শীর্ষেন্দুর ‘গৌরের কবচ’ তুলে দিয়েছিলেন। শীর্ষেন্দু, রবীন্দ্রনাথ, হুমায়ূন আহমেদ পড়তে পড়তে একসময় মনে হতো বড় হয়ে সাহিত্যিক হবো। এরকম নানান রংয়ের স্বপ্ন নানান সময় ভর করতো। নির্দিষ্ট কোনো স্বপ্নের পেছনে ছুটিনি। স্বপ্নই আমাকে প্রজাপতির মত উড়ে বেরিয়েছে এক জগত থেকে আরেক জগতে।  

প্রায় এক যুগের বেশি সময় সাংবাদিকতা করেছেন। সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কি মনে করেন?

পুরোটাই তো প্রাপ্তি। দৈনিক প্রথম আলোতে ১১ মে, ২০০২ প্রথম পা রাখা। ১৬ মে, ২০০২ প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। এরপর দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় দেশের বাইরের লেখা নিয়মিত তো লিখেছিই, বাংলাদেশের বেশিরভাগ তারকার সাক্ষাতকার নেবার সুযোগ পেয়েছি। দেশের বাইরের অনেক তারকার সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পেয়েছি। সত্যি বলতে, পত্রিকার জন্য আমি বরাবরই নিবেদিত প্রাণ ছিলাম। পরীক্ষার আগের দিন কিংবা পরীক্ষার হলে প্রবেশের আগ মুহূর্তেও লিখেছি। আমার বিয়ের দিন দুপুরবেলাও পত্রিকার জন্য লিখেছি। ব্যংককে ঘুরতে গিয়েও হোটেলে বসে লিখেছি। পত্রিকায় লেখালেখির অন্যরকম একটা আবেদন আছে। আমি এখনও প্রায়ই মিস করি। সময় বের করতে পারলে আবার পত্রিকায় লিখতে চাই। তবে আমি পত্রিকায় যতটুকু শিখেছি, তার সিংহভাগ অবদান শ্রদ্ধেয় কবির বকুল ভাইয়ের। এ কথা স্বীকার করতেই হবে।

পত্রিকার মানুষ টিভি চ্যানেলে কতটা স্বচ্ছন্দ?

পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ। কারণ বিষয় কিন্তু একই: শিল্প, সংস্কৃতি। খেয়াল করলে দেখবেন, সমগ্র বিশ্বেই ছোট পর্দার সব সফল মানুষরা হয় পত্রিকায় আগে কাজ করেছেন অথবা কোনো বিজ্ঞাপন জগতে। আইডিয়াল স্কুল, নটরডেম কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করার পর বিবিএ, এমবিএ করে আমি কিন্তু পুরোদস্তুর অফিস করেছিলাম টিভিএস অটো বাংলাদেশে। বিপনন বিভাগের দায়িত্বে ছিলাম। খুব ভালো চাকরী। কিন্তু কেন জানি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি। এরপরই মাছরাঙায় যুক্ত হওয়া, তখন এই চ্যানেলের বয়স ৬ মাস। সেই থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের সাথে আমিও বেড়ে উঠেছি। ৭ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছি। আন্তরিক কাজের পরিবেশ পেয়েছি বলেই কিন্তু এতটা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারছি। এজন্য শ্রদ্ধেয় এমডি স্যার অঞ্জন চৌধুরীর অকৃত্রিম সহযোগিতা ও আশীর্বাদের কথা না বললেই নয়। পাশাপাশি প্রয়াত ফাহিম মুনয়েম স্যার, পরবর্তীতে সারওয়ার হোসেন স্যার এবং বর্তমানে অজয় কুমার কুন্ডু স্যারের দিক নির্দেশনা ও জীবন দর্শন আমাকে একজন কর্মী হিসেবে তো বটেই, একজন মানুষ হিসেবেও ঋদ্ধ করেছে।  

এক দশক হয়ে গেল নাটক লিখছেন। প্রায় শ’ খানেক নাটক লিখেছেন। নাটক লেখাটা কতটুকু উপভোগ করেন? 

সত্যি বলতে যতটুকু উপভোগ করার কথা, ততটুকু করতে পারিনা। যে কারণে বিগত দুই বছরে আমি নামে মাত্র নাটক লিখেছি। দুই-তিনজন শিল্পীকে দিয়ে একটি শুটিং বাড়ি কিংবা মা-বাবা ছাড়া দায়সারাভাবে নাটক নির্মাণের পক্ষপাতী নই আমি। অনেকেই শুনলে অবাক হবেন, ১৩০টির মত নাটকের গল্প নিয়ে বসে আছি। কিন্তু মুক্তভাবে নাটক লেখার স্বাধীনতা কে দেবে আমাকে? সত্যি বলতে এককভাবে কাউকে দায়ী করবো না। আমি বলবো আমাদের সবার সমন্বয়ের অভাব। 

উপস্থাপক হিসেবে ‘রাঙা সকাল’ অনুষ্ঠানের সাথে প্রায় ৬ বছর ধরে সম্পৃক্ত আছেন। ১৩ বছর ধরে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার অনুষ্ঠানের রেড কার্পেট উপস্থাপনা করছেন। পাশাপাশি চলচ্চিত্র বিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঞ্চালক হিসেবে আপনাকে পাওয়া যায়। উপস্থাপনা শিল্পের সাথে নিজেকে কতটা মানিয়ে নিতে পারেন?

আমি কিন্তু বাল্যকাল থেকেই উপস্থাপক। যখন গোসল করতে বাথরুমে যেতাম, পানির টেপ ছেড়ে আপন মনে উপস্থাপনা করতাম। বাণিজ্যিক তরঙ্গের রেডিও অনুষ্ঠান গোগ্রাসে গিলতাম। ফুটবল, ক্রিকেটের ধারাভাষ্য শুনতাম মন্ত্রমুগ্ধের মত। আমি যখন কোনো সিনেমা কিংবা নাটক লিখি-১০০ পাতা হোক কিংবা ২০০ পাতা: আমি এক নি:শ্বাসে আমার টীমকে কিংবা আমার স্ত্রীকে পড়ে শোনাই। পত্রিকায় কোনো পড়ার মত প্রতিবেদন থাকলে কিংবা আমার লেখা কোনো সমালোচনা/ রিপোর্টিং ছাপা হলে আমার স্ত্রীকে অনেকটা বাধ্য করে পুরোটা পড়ে শোনাই। তার মানে হলো: আমার বলতে ভালো লাগে। তবে সব পরিবেশে, সবার সাথে নয়। প্রকৃতি যেভাবে আমাকে পরিচালনা করে আমি সেভাবেই চলি। দেশের অনেক জ্ঞানী-গুণী উপস্থাপক রয়েছেন। আমি নিজেও প্রেজেন্টার্স প্লাটফর্ম অফ বাংলাদেশের একজন সদস্য। তাদের সাথে কোনো আয়োজনে শরীক হলে নিজেকে পিপীলিকা মনে হয়। তবে আমার ভালো লাগার জায়গা এতটুকু: আমি আমার কাজের জায়গায় সৎ। মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়াবার আগে তো বটেই, আমি প্রতি নিয়ত পড়াশোনা করি। প্রতিটি মানুষ সম্পর্কে জানবার, স্মৃতিপটে সব তথ্য জমায়েত করে সেগুলো দীর্ঘদিন লালন করা ও পরিস্থিতি বুঝে সেই তথ্যাদি মনে করে বলার বদভ্যাস (!) আছে আমার। আমি দেখতে সুদর্শন নই। তাই কাজ দিয়ে নিজের খামতি পূরণ করার চেষ্টা করি।

আপনার লেখা তৃতীয় চলচ্চিত্র ‘বিশ্বসুন্দরী’র চিত্রধারণ শুরু হয়েছে। কি মনে হয়, এবারের চলচ্চিত্র কতটা দর্শক মন জয় করতে পারবে?

যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ। আশায় বুক বেঁধেছি, আমরা সফল হবোই। ‘মনপুরা’র প্রযোজক টীম ১০ বছর বিরতির পর এ ছবির মধ্য দিয়ে কেন চলচ্চিত্র প্রযোজনায় ফিরে এসেছেন? চয়নিকা চৌধুরী ১৮ বছর কাজ করার পর আমার এই গল্পকেই কেন নিজের ১ম চলচ্চিত্রের গল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন? পরীমনি ‘স্বপ্নজাল’-এর পর অনেক ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ‘বিশ্বসুন্দরী’র মাধ্যমেই কেন দীর্ঘদিন পর অভিনয় করছেন? ১ম ছবির জন্য দর্শক রায়ে পুরস্কার পাওয়া নায়ক সিয়াম কেন ক্যারিয়ারের এই রঙিন  সময়ে এই ছবিটি করতে সম্মত হয়েছেন? নিশ্চয়ই কারণ আছে। নয়তো সবাই কেন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবেন? তবে একজন লেখক হিসেবে পর্দায় চলচ্চিত্র দেখার আগে এখন খুব বড় স্বপ্ন দেখতে আমি ভয় পাই। কারণ কাগজে কলমে একজন লেখক মনের মাধুরী মিশিয়ে যা বুনেন, পর্দায় প্রায়ই তা দেখা যায় না। কখনো তো পুরোটা নি:শেষ হয়ে যায়। তবে আমি ‘বিশ্বসুন্দরী’র দর্শক মন জয় নিয়ে আশাবাদী এ কারণে, আমাদের সাথে পরিচালক-প্রযোজক ও তার টীম তো রয়েছেই, সঙ্গে আছেন চিত্রগ্রাহক খায়ের খন্দকার। 

পরবর্তী চলচ্চিত্র কবে লিখছেন?

আমাকে ইতিমধ্যেই তিনজন পরিচালক ও একজন শীর্ষস্থানীয় নায়ক/ প্রযোজক তাদের চলচ্চিত্রে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি বায়োপিক নিয়েও দীর্ঘদিন কাজ করছি। দেখা যাক !

চলচ্চিত্র সমালোচনা থেকে দূরে আছেন বিগত ৯ মাস ধরে। কেন?

যে কারণে অন্য সমালোচকরা দূরে আছেন, ঠিক সে কারণে আমিও দূরে আছি। একটা সময় দৈনিক কালের কণ্ঠে দাউদ হোসাইন রনি খুব চমৎকার সমালোচনা লিখতেন ‘ব্যবচ্ছেদ’ কলামে। তিনি এখন লিখছেন না কেন? কারণ একটাই-‘কী লাভ!’ আরেকটু বিস্তৃত করে বললে, অহেতুক শত্রু বাড়িয়ে কি লাভ? আমরা সবাই গালভর্তি প্রশংসা শুনতে বেশি পছন্দ করি। ১০-এ ১০ চাই সবাই। নির্মাতা/ শিল্পী যে সারিরই হোন না কেন, কেউই ভুল ধরিয়ে নেয়ার বিষয়টি সাদরে গ্রহণ করতে পারেন না। তাছাড়া যেখানে শিল্পী/ নির্মাতারাই টিকেটে কেটে নিজের ছবি দেখতে যান না (সহকর্মীর ছবির কথা বাদই দিলাম), সেখানে আমার কি দায় পড়েছে সব গ্রেডের ছবি ধৈর্য নিয়ে দেখার? বলতে পারেন আমি অবশেষে ধৈর্যচ্যুত হয়েছি, কিছুটা স্বার্থপর-ও হয়েছি।

সাম্প্রতিককালে আপনার আরো একটি বড় পরিচয় বিভিন্ন চলচ্চিত্রের মার্কেটিং কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। সফলভাব ‘দেবী’র বিপণনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ‘নোলক’-এর সাথেও যুক্ত ছিলেন। সামনে আর কি কি কাজ করতে যাচ্ছেন?

শুধুমাত্র ‘আমি’ যুক্ত ছিলাম বললে ভুল হবে। প্রতিটি ছবিতেই একটি টীম থাকে। ‘দেবী’তে পুরো টীমই জয়া আহসান নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাছাড়া আমার বন্ধু মইনুল ওয়াজেদ রাজীব, নিয়াজ মোরশেদ রাজীব-ও যুক্ত আছেন আমার সঙ্গে। অরুণ চৌধুরীর চলচ্চিত্র ‘মায়াবতী’র সাথে যুক্ত আছি শুটিং শুরুর আগে থেকেই। তাছাড়া ‘বিশ্বসুন্দরী’ সহ আরো বেশ কিছু চলচ্চিত্রের সাথে থাকবো।  

একটি চলচ্চিত্র সফলভাবে বিপণন করতে হলে কি কি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়?

প্রথমত: একটি দল গঠন করতে হবে। দলে একজনকে নেতৃত্ব দিতে হবে। প্রত্যেকেই তাদের কাজের জায়গায় সেরা। তবে দিন শেষে একজনই নেতৃত্ব দেবেন। নইলে অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট হবেই। একজন চলচ্চিত্র প্রযোজক যখন একটি মার্কেটিং টীমকে নিয়োগ দেবেন, তখন সেই টীমের আইডিয়ার ওপর ভরসা করতে হবে। পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে। জয়া আহসান ও তার সি তে সিনেমা অন্ধভাবে সব পরিকল্পনা অনুসরণ করেছিলেন। ফলাফল আপনারাই দেখেছেন। সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা একটি ছবির বিপননের ক্ষেত্রে প্রধান চালিকাশক্তি। ছোট-বড়, প্রবীণ-নবীন ভাগ বাটোয়ারা না করে দায়িত্বশীল যে কোনো সাংবাদিককেই গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। যতটা সম্ভব বিনা শর্তে সাংবাদিকদের সাক্ষাতকার দেয়া, প্রয়োজনীয় ছবি/ তথ্য/ গান সময় মত সরবরাহ করা-এসব মেনে চলতে হবে। এটা ২০১৯। দর্শকদের কাছাকাছি থাকতে হবে। বিশ্বাসযোগ্যভাবে আমার কাজের প্রতি আমার মায়া কিংবা দরদের জায়গাটুকু ব্যস্ত দর্শকদের কান পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে হবে।  

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। বিশেষ দিনে এত মূল্যবান সময় আমাকে দেবার জন্য। 

ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা আপনাকে। আমার মত ক্ষুদ্র মানুষের মনের বিচ্ছিন্ন কথাগুলো পাঠক পর্যন্ত পৌছে দেবার জন্য। 

পাঠকের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চান?

নানা প্রতিকূলতার মাঝেও দর্শক কিন্তু আমাদের গান, আমাদের নাটক, আমাদের সিনেমাই দেখতে চান। তাই সকল দর্শকের প্রতি কৃতজ্ঞতা। সেই সাথে ব্যক্তিগতভাবে আমি যতদিন সাংস্কৃতিক জগতে বিচরণ করবো, প্রতিটি দর্শককে শ্রদ্ধা করে যতটুকু মেধা রয়েছে, তার পুরোটা উজাড় করে দিতে চাই। আমি জানি চলার পথে বন্ধুর পাশাপাশি শত্রুও কুড়িয়েছে আমি। তবে যারা নিন্দুক, তাদেরকেও আমি ভালোবাসি। আমার বিশ্বাস, যখন আমি থাকবো না এই নিন্দুকরাই আমাকে নিয়ে স্ট্যাটাস দেবেন। নিজের অগোচরে আফসোস করবেন, আহা! সব ভুলে এগিয়ে গেলেই পারতাম। ছেলেটা আর যাই হোক, অত খারাপ ছিল না। হা হা হা ….অনেক আধ্যাত্মিক কথা বলে ফেললাম !

বার্তা জগৎ২৪/ এম এ