সত্যিই কি চাঁদে গিয়েছিলেন নীল আর্মস্ট্রং!

বার্তা জগৎ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ১৮ এপ্রিল ২০১৯ সময়ঃ রাত ১০ঃ৩৭
সত্যিই কি চাঁদে গিয়েছিলেন নীল আর্মস্ট্রং!
সত্যিই কি চাঁদে গিয়েছিলেন নীল আর্মস্ট্রং!

 

ইয়াছিন আরাফাতঃ

ছোট বেলায় সবাই পড়েছেন নীল আর্মস্ট্রংয়ের কথা।নীল আর্মস্ট্রং হল সেই ব্যাক্তি যে কিনা সর্ব প্রথম ১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই চাঁদে পা রাখে। আমরা আমাদের টেক্সট বুকে এটা পড়েছি, বিশ্বাস ও করি। কিন্তু অনেকে এটাকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে যে, চাঁদে পা রাখা নাকি ছিল ধাপ্পাবাজি। সত্যি কি তাই? সত্যি কি নীল আর্মস্ট্রংরা চাঁদে পা রাখেনি! নাকি তারা একটি নাটক সাজিয়েছিল।

নীল আর্মস্ট্রং প্রথম চাঁদে নেমে আমেরিকার পতাকাটি মাটিতে পোঁতেন। আর এই মাটিতে পতাকা পোঁতা নিয়ে শুরু হয় সব থেকে বড় কন্সপাইরেসি থিউরি। যেখানে বলা হয় নাসা যে পতাকা পুঁতেছিল মাটিতে তা উড়তেছিল। কিন্তু চাঁদে তো কোন প্রকার বাতাস নেই।তাহলে পতাকা কেন উড়তেছিল। এবং এটা দাবি করে যে এই ভিডিও কোন ছবির শ্যুটিং সেটে করা হয়েছিল।নাসা এই ব্যাপারে বলে চাঁদে যেহেতু কোন বায়ুমণ্ডল নেই তাই নাসা পতাকায় ব্যবহার করেছিল অ্যালুমিনিয়ামের তার। যেহেতু পতাকাটি একটি টিউবের ভিতর মোড়ানো ছিল তাই সেটি ভাজ পড়ে কোঁকড়ানো হয়ে গিয়েছিল। আর যখন পতাকাটি মাটিতে পুঁতেছিল তখন তো পতাকাটিকে মাটিতে পোঁতার জন্য হাত দিয়ে নাড়ানো হচ্ছিল পতাকার সেই লাঠিটা। কন্সপাইরেসি থিউরিতে এটা বলা হয় যে, চাঁদে যে আকাশ রয়েছে তাতে কোনভাবেই কোন প্রকার তারা দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে নাসা এটা বলে যে, তাদের নামার সময় দিন ছিল। অর্থাৎ সূর্যের আলো ছিল। তাই সেখানে কোন প্রকার তারা দেখা যায়নি।যেমন আমরা পৃথিবীতে দিনের বেলায় কোন প্রকার তারা দেখিনা। এরপরে আসে নাসার মূল ল্যান্ডিং এর ভিডিও। অনেকেই এটা বলেন যে নাসার চাঁদে ল্যান্ডিংয়ের যে ভিডিও রয়েছে তা যদি আমরা দ্বিগুণ স্পিডে পেলে করি তাহলে দেখা যাবে যে তারা যেন পৃথিবীর মতই চলাফেরা করছে এবং তারা এটাও বলে যে নাসা পৃথিবীর সবাইকে বোকা বানানোর জন্য সেট তৈরী করে ফিল্মি স্টাইলে স্লো-মোশন ক্যামেরা দিয়ে এই ভিডিও করে এবং ভিডিওটি স্লো করে সবাইকে দেখিয়েছে। তাই কন্সপাইরেসি থিউরিসটরা এবং রাশিয়া এটাকে ভুল প্রমাণ করার জন্য চাঁদের ভিডিও ফুটেজের মতো সেম ভাবে সেট তৈরী করে এবং সেখানে অ্যাক্টরসদের দিয়ে একইভাবে হাঁটায় এবং আমেরিকার একটি সেম ধরনের পতাকা অ্যালুমিনিয়ামের তার দিয়ে মাটিতে পোঁতায় এবং এই ভিডিওগুলো করে তারা ছড়িয়ে দেয়। তাতে করে মূল ল্যান্ডিংকে সবাই মিথ্যা ভাবতে শুরু করে। কিন্তু তাদের তৈরী করা ভিডিও নাসার সাথে একে বারেই মিলেনি।অর্থাৎ এখানে এটা প্রমাণ হয় যে নাসা সত্যিই চাঁদে গিয়েছিল। নাসার ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে তাদের বায়ুমন্ডল নেই এবং গ্রাভিটির তারতম্য থাকার কারণে যখন নভোচারীরা হাঁটছে তখন মনে হচ্ছে তারা ভেসে ভেসে হাঁটছে। তাদের শরীরে কোন ওজন নেই। আর মাঝে মাঝে তারা গ্রাভিটির তারতম্যের কারণে পড়ে যাচ্ছে। এরপরে আরেকটি কন্সপাইরেসি থিউরিতে বলা হয়েছে যে নাসা যে ভিডিওটি দেখিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে সূর্যের আলোর যে ছায়া তা বিভিন্ন জিনিসের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিকে পড়ছে। এখানে অনেকে এই ভেটো দিয়েছে যে সূর্যের আলোর ছায়া তো একদিকেই পড়বে। কিন্তু কেন ভিন্ন ভিন্ন দিকে পড়েছে। এর কারণ কি এটা যে আলো দিয়ে সেট সাজানো হয়েছিল। আর বিভিন্ন দিকে লাইট থাকার কারণে আলো বিভিন্ন দিকে পড়েছে। এখানে নাসা তাদের উত্তর এমনভাবে দিয়েছে যে সত্যি যদি নাসা কোন মুভির স্যুটিং সেট তৈরী করতো তাহলে কয়েক দিক লাইট সেট করতে হতো এবং কয়েক দিকে লাইট সেট করলে একটি বস্তুর কয়েক দিকে ছায়া দেখা যেত। কিন্তু একটি বস্তুর ছায়া তো একদিকে দেখা গিয়েছে এবং নাসা এটাও বলে যে অনেক বস্তুর ক্ষেত্রে একটু ছায়া সরে যাওয়ার কারণ হলো চাঁদের মাটি আমাদের মতো সমতল নয়। কোথাও অনেক উঁচু আবার কোথাও নিচু। এই অসমতলের কারণে সূর্যের আলোর ছায়া অনেক জাগায় বেঁকে গেছে। এরপরেও অনেক কন্সপাইরেসি থিউরি এসেছে।যাতে বলা হয়েছে নাসা কোন একটা স্যুটিং সেটে স্লো-মোশন ক্যামেরার সাহায্যে স্যুট করে দাবি করেছে যে তারা চাঁদে পা রেখেছে। এছাড়া বিশেষজ্ঞরা এটা দাবি করে যে, যখন নাসা চাঁদে নীল আর্মস্ট্রংয়ের যাওয়ার কথা বলে তখন আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে বর্তমান ভারত পাকিস্তানের মত ঠান্ডা যুদ্ধ চলছিল। তাই আমেরিকা রাশিয়াকে নিজের ক্ষমতা জানান দেবার জন্য এবং পুরো পৃথিবীর আকর্ষণের কেন্দ্র আমেরিকাকে করার জন্য চাঁদে যাওয়ার মত এই ঠকবাজি কাহিনী সাজিয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয় যে আমেরিকা যদি সত্যি এ নাটক করে থাকে তবে তাদের মাথায় এটা আসবে যে যদি এটা করে তবে রাশিয়া পিছু নিবে। পিছু নিয়ে ভুল প্রমাণ করতে পারে তবে রাশিয়া সারা দুনিয়ার কাছে আমেরিকাকে মিথ্যাবাদী প্রতারক হিসেবে তুলে ধরবে। যে নাসা আমেরিকাসহ সারা পৃথিবীর মানুষকে ঠকিয়েছে। তাই আমার মনে হয় নাসা এরকম সাজানো নাটক করবে না।

বার্তা জগৎ২৪/ এম এ

 

Share on: