হিজাব পরায় সমাবর্তনে ঢুকতে বাঁধা দিল স্বর্ণ পদক জয়ী শিক্ষার্থীকে

বার্তা জগৎ২৪ ডেস্ক:

প্রকাশিতঃ ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ সময়ঃ রাত ৯ঃ৪৮
হিজাব পরায় সমাবর্তনে ঢুকতে বাঁধা দিল স্বর্ণ পদক জয়ী শিক্ষার্থীকে
হিজাব পরায় সমাবর্তনে ঢুকতে বাঁধা দিল স্বর্ণ পদক জয়ী শিক্ষার্থীকে

দিদারুল ইসলাম:

সারা ভারত জুড়ে সংশোধিত নাগরিত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) ইস্যুতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।সেইসাথে পোশাক নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় বয়ে যাচ্ছে চারিদিকে,ঠিক একই সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে ও পোশাক নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে হিজাব পরিহিত এক মুসলিম ছাত্রীকে। 

জানা গেছে, ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বর্ণপদক জয়ী এক শিক্ষার্থী হিজাব পরে সমাবর্তনে যোগ দিতে গেলে যোগ দেওয়া যাবে না বলে তাকে বের করে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে ঢুকতে অনেক চেষ্টা করা হলেও 

নিরাপত্তারক্ষীরা সাফ জানিয়ে দেয় হিজাব পড়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করা যাবে না। এমনকি ওই শিক্ষার্থীকে বলা হয়, সমাবর্তনে যোগ দিতে হলে হিজাব খুলে আসতে হবে।

আধুনিক যুগে এসেও এমন বৈষম্যমূলক আচরণের ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পুদুচেরী বিশ্ববিদ্যালয়ে।জানা গেছে,ওই শিক্ষার্থীর নাম রাবিহা আব্দুরেহিম তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস কমিউনিকেশনে স্নাতকোত্তরে সর্বোচ্চ নম্বরের অধিকারী হয়েছেন। আর এই কারণেই সমাবর্তনে তার হাতেই স্বর্ণপদক তুলে দেওয়ার কথা ছিল রাস্ট্রপতির।

পুদুচেরী বিশ্ববিদ্যালয়ের জওহরলাল নেহরু অডিটরিয়ামে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তার হাত থেকেই হয়তো সাফল্যের পুরস্কার পেতেন রাবিহা। কিন্তু হিজাব পরে আসার কারণে সেই সময় অনুষ্ঠানে তাকে কোনভাবেই ঢুকতেই দেওয়া হয়নি।

২০১৮ সালের ব্যাচের ওই ছাত্রী জানান, রাষ্ট্রপতি আসার কিছুক্ষণ আগেই তিনি অডিটরিয়ামে প্রবেশ করতে যান। কিন্তু সেখানেই নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে বাধা দেয়। বলা হয়, হিজাব খুলে না এলে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। নিরাপত্তারক্ষীদের প্রস্তাবে রাজি হননি রাবিহা। রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে রাবিহা সোনার পদক নিতে অস্বীকার করেন। শুধুমাত্র সার্টিফিকেট নিয়েই বেরিয়ে এসে সংবাদমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ক্ষুব্ধ রাবিহা বলেন, আমার সঙ্গে যে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে, তার প্রতিবাদেই আমি পদক নিতে অস্বীকার করি। নিরাপত্তারক্ষীরা আমাকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ঢুকতে বাধা দেয়। ওরা সন্দেহের চোখে দেখছিল আমাকে। যেন আমি কিছু একটা করার উদ্দেশ্যে ঢুকতে চাইছি। জানি না, ওরা কী ভাবছিল। 

সেইসাথে রাবিহা আরও জানান, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ করায় পুলিশ যেভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মারধর করছে তার বিরোধিতা করছেন তিনি। গোটা ভারতের শিক্ষার্থীরা বর্তমান পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনিও প্রতিবাদ স্বরূপ এই পদক নিতে অস্বীকার করেছেন।

বার্তাজগৎ২৪/ এম এ

Share on: