হুইলচেয়ারে প্রেম, অতঃপর বিয়েঃ সুখে আছেন তারা

বার্তা‌জগৎ২৪ ডেস্কঃ

প্রকাশিতঃ ২৯ অগাস্ট ২০১৯ সময়ঃ রাত ১ঃ০২
হুইলচেয়ারে প্রেম, অতঃপর বিয়েঃ সুখে আছেন তারা
হুইলচেয়ারে প্রেম, অতঃপর বিয়েঃ সুখে আছেন তারা

বার্তা‌জগৎ২৪ ডেস্কঃ

মাত্র ৯ বছর বয়সে চিকিৎসা শেষে দুজনেরই ভরসা এখন হুইলচেয়ার। মনির হোসেন সিকদার ৫ তলা বাড়ির এক ছাদ থেকে আরেক ছাদে লাফিয়ে পার হতে গিয়ে নিচে পড়ে যান। অন্যদিকে গার্মেন্টসে আগুন ধরলে প্রাণে বাঁচতে ৬ তলা থেকে নিচে ঝাঁপ দেন পারভিন আকতার। নিজেদের ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে গেছে ভেবে যখন আশা ছেড়ে দিয়েছেন তখন পারভিন ও মনিরের দেখা হয় সাভার সিআরপিতে। ২০১০ সালে প্রথম পরিচয় হয় তাদের। এরপর তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে পরে বিয়ে করেন তারা।

কীভাবে হুইলচেয়ারের দুই আরোহী প্রেমে পড়লেন, কীভাবে সংসার করছেন, নিজেদের ভালোবাসা আর মান-অভিমানের গল্প করেছেন এই দম্পতি।

পারভিন জানান, মনির যখন তাকে প্রপোজ করেছিলেন তখন তিনি ভেবেছিলেন কিভাবে সম্ভব। দুইজন পঙ্গু লোক কি একসাথে সংসার করতে পারে। এরপর কিছুদিন বাধে পারভিন ভাবলেন না দেখি। তারা দুই বছর প্রেমের পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

কেন নিজে পঙ্গু হয়েও একজন পঙ্গু মহিলাকে বিয়ে করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে মনির বলেন, আমি যদি কোনো সুস্থ মহিলাকে বিয়ে করতাম তাহলে সে আমার মতো হতো না। তার আর আমার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতো। সে হয়তো আমার ওপর দয়া করতো। এখন আমরা দু’জনকে দুজন ভালোবাসি। কেউ কাউকে দয়া করিনা। সে আমাকে বুঝে আমি তাকে।

অপরদিকে একই প্রশ্নের জবাবে পারভিন বলেন, আমি চাইলে একজন সুস্থ ছেলেকে বিয়ে করতে পারতাম। সে আমার টাকার লোভে আমাকে বিয়ে করতো ঠিকই কিন্ত সে হয়তো একসময় আমাকে ছেড়ে চলে যেতো।

সম্প্রতি বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে মনির হোসেন জানান তাদের প্রেম, বিয়ে আর নিত্যদিনের খুনসুঁটির গল্প। মনিরের ভাষায় ৩৬৫ দিনের মধ্যে তারা ৩০০ দিনই টুকিটাকি ঝগড়া করেন। পারভিন আকতার বেশি রাগ করলে কথা বলেন না তিনি। চুপ থাকেন।

অন্যদিকে পারভিন- যখন মনির কথা বলেন না তখন তিনি মনিরকে বলেন, তুমি কথা বলো না কেনো? আমি কি একা একা কথা বলে যাবো!

তারা জানান, তাদের এ ঝগড়াটি বেশিক্ষণ থাকে না। কয়েক মুহূর্ত বা কয়েক মিনিটেই ঠিক হয়ে যায় সব। এই দম্পতি তাদের বিবাহীত জীবনে সুখি।

বর্তমানে তারা দুজন থাকেন সিআরপি-তে। এখানেই চাকরি এবং বসবাস করেন তারা।

বার্তাজগৎ২৪/এফ এইচ পি