ঢাকা, রবিবার, ১০ মাঘ ১৪২৭, ২৪ জানুয়ারী, ২০২১

Facebook Twitter Instagram Linkedin Youtube

Logo

মৃত্যুর ২ ঘন্টা আগে আশা কোথায় ছিলো?

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৭ জানুয়ারী, ২০২১, ০১:৫৫
মৃত্যুর ২ ঘন্টা আগে আশা কোথায় ছিলো?
ফাইল ফটো

উঠতি অভিনেত্রী আশা চৌধুরীর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর মৃত্যুর জন্য কে দায়ী এ নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। আশাকে বহনকারী মোটরসাইকেল চালক সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে দারুস সালাম থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পর শামীমকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আশার মৃত্যুর পেছনে মোটরসাইকেল চালকের কারসাজি থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করছে পরিবার।

বুধবার (০৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো আদেশ দেন।

শামীমকে এদিন আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহান আহমেদ। অপরদিকে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একইসঙ্গে এ মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত।



পুলিশ কর্মকর্তা ও স্বজনরা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে ঘনিষ্ঠ শামীমের মোটরসাইকেলে আশার গভীর রাতে টেকনিক্যাল মোড় এলাকায় যাওয়ার কথা ছিল না। শামীম গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে রূপনগরের বাসায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার দাবি করলেও স্বজনরা জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে বনানী থেকে আশার বাসায় ফেরার কথা ছিল। শামীম পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিন ধরনের তথ্য দিয়েছেন। পেছনে থাকা একটি গাড়ির ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ট্রাক মোড় ঘোরার সময় আশা সহজেই ছিটকে ট্রাকের নিচে চলে যান। এভাবে তাঁর মোটরসাইকেলে বসার কথা নয়। এসব কারণে স্বজনরা সন্দেহ করছেন, আশাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করানো হয়েছে। ঘটনার আগে দুই ঘণ্টা আশা কোথায় ছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন পরিবারের। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শামীম দাবি করেন, শ্যামলী এলাকায় গিয়ে নাশতা খেয়ে তাঁরা রূপনগরের বাসায় ফিরছিলেন। 

স্বজনরা জানান, শুরুতে গাজীপুরের বোর্ডবাজার থেকে ফেরার কথা বলা হলেও আশার পরিবার পরে নিশ্চিত হয়েছে, বনানী থেকে রওনা হয়েছিলেন আশা।

সোমবার রাত ১১টার দিকে আশা তাঁর মাকে ফোন দিয়ে জানান, তিনি বনানীতে আছেন। ২০ মিনিটের মধ্যে তিনি বাসায় ফিরবেন। আশার মা-বাবা ধরে নিয়েছিলেন মেয়ে বাসায় ফিরতে হয়তো সাড়ে ১১টা বাজতে পারে। আশার বাবা আবু কালাম বলেন, ফোন করার পাঁচ মিনিট পরে তিনিও আশাকে ফোন দেন। সেই সময় মেয়ের সঙ্গে তাঁদের বোর্ডবাজার এলাকার নতুন বাসার কাজের ব্যাপারে সর্বশেষ কথা হয়। বনানী থেকে তাঁদের ফেরার কথা ছিল কালশী রোড হয়ে আশাদের মিরপুর রূপনগর আবাসিক এলাকার বাসায়। রাত প্রায় ২টার দিকে আশাকে বহন করা শামীম আশার মাকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আন্টি, একটু টেকনিক্যাল মোড়ে আসেন।’ শামীম ফোন কেটে দিয়ে কিছুক্ষণ পরে আবার ফোন দিয়ে বলেন, ‘আন্টি, আশা আর নেই, মারা গেছে।’ 

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ঘটনার সময় আশাদের পেছনে থাকা গাড়িতে বসানো ক্যামেরার একটি ফুটেজ গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।

এতে দেখা গেছে, শ্যামলীর দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটি টেকনিক্যাল মোড়ে মিরপুর ১-এর দিকে যেতে সিগন্যালে একটি ছোট ট্রাকের পেছনে দাঁড়ায়। এ সময় পেছন থেকে একটি বড় ট্রাক সোজা এসে একটু ঘুরিয়ে গাবতলীর দিকে চলে যায়। সেই ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল নিয়ে ডান দিকে পড়ে যান শামীম। এ সময় মোটরসাইকেল থেকে আশা কিভাবে পড়ে গেলেন তা ফুটেজে স্পষ্ট নয়। তবে সামনের অংশের ধাক্কায় তিনি কিছুদূর ছিটকে যান এবং তাঁকে চাপা দিয়ে যায় ট্রাকটি। এতে ট্রাকটি বেপরোয়া চালিয়ে নিজ লেন থেকে ঘুরে অতিক্রম করে আশাকে চাপা দিয়েছে বলে স্পষ্ট দেখা গেছে। তবে আশা মোটরসাইকেল থেকে নেমেছেন বা পড়ে গেছেন, নাকি ধাক্কা দিয়ে তাঁকে টেনে নেওয়া হয়েছে তা পেছনের ফুটেজে স্পষ্ট নয়।  

প্রায় চার বছর আগে তিনি অভিনয় জগতে আসেন। নাটকে অভিনয়, অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ছাড়াও তিনি বিজ্ঞাপন ও গানের মডেল হয়েছেন।

তিনি চেয়েছিলেন অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নেবেন। আশার স্বপ্ন ছিল, তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করবেন। অভিনয়ে দক্ষতার কারণে মারা যাওয়ার দুদিন আগে রুমান রুনির একক নাটক ‘দ্য রিভেঞ্জ’-এ সেই সুযোগ তিনি পেয়েও যান। সেই নাটকে গত শনিবার সর্বশেষ ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন আশা। প্রধান চরিত্রের অভিনেত্রী হিসেবে টানা এক সপ্তাহ বেশ পরিশ্রম করেছেন। নিজে থেকেই সহশিল্পী সালাহউদ্দিল লাভলু এবং আনিসুর রহমান মিলনের সঙ্গে গল্প নিয়ে কথা বলেছিলেন।

সম্প্রতি বড় পর্দায়ও নাম লিখিয়েছিলেন আশা। তাঁর অভিনীত ছবিটির নাম ‘বাবার মেয়ে’। প্রচারের অপেক্ষায় আছে তাঁর অভিনীত একাধিক নাটক ও টেলিছবি।

হাতেও ছিল একাধিক নাটকের শুটিং। এর আগে জাহিদ হাসানের সঙ্গে ‘ওল্ড ইজ গোল্ড’ নাটকে অভিনয় করেছেন আশা চৌধুরী।

বার্তাজগৎ২৪ / এম এ

আরো পড়ুন:

সড়ক দুর্ঘটনায় অভিনেত্রী আশা চৌধুরী নিহত

যার জন্য ইনস্টাগ্রামে এত জনপ্রিয় অঙ্কিতা



জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯ প্রদান

বার্তা জগৎ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২১, ০৯:০৪
চলচ্চিত্র পুরস্কার
ফাইল ফটো

যে কোনো পুরস্কারই সম্মানের, তবে দায়িত্বের ভারও কিন্তু কম নয়। আনন্দের পাশাপাশি সামনের পথচলায় গুণগত কাজের উৎসাহ জোগায় এ সম্মান। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার হাতে নিয়ে এমন অনুভূতিই জানান শিল্পীরা। দর্শকদের ভালোবাসায় আরও বহু দূর এগিয়ে যাওয়ার পাথেয় বলেও জানান পুরস্কারপ্রাপ্তরা।
 

জমকালো আয়োজনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯ প্রদান করা হয়েছে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এত বড় আয়োজন হওয়ার পরও করোনা বাস্তবতায় কোথাও যেন ছিলো উচ্ছলতায় ঘাটতি। মঞ্চে চলছে একের পর এক পুরস্কার ঘোষণা চলছিলো। হাসিমুখে জাতীয় পুরস্কার গ্রহণ করছেন বিজয়ীরাও।

তবে করোনা কারণে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সরাসরি পুরস্কার নিতে না পারার আক্ষেপ অনেকের।

‘ন ডরাই’ ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য এবারই প্রথম জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল। আনন্দে ভেসেছেন শিশু শিল্পী আফরিনও। গানে তৃতীয় বারের মত জাতীয় পুরস্কার পেয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন মমতাজ । তিনি বলেন, শিল্পী হিসেবে আমার জন্য এটা অনেক বড় পাওয়া।

বহুমাত্রিক চরিত্রায়নে সাফল্য দেখিয়েছেন তারিক আনাম খান ও ফজলুর রহমান বাবু । আজীবন সম্মাননা জানানো হয় চলচ্চিত্র অভিনেতা সোহেল রানা এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুচন্দা। 

এবারের পুরস্কার ২৬টি বিভাগে শিল্পী, কলাকুশলী, প্রতিষ্ঠান ও চলচ্চিত্রকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হয়।


যার জন্য ইনস্টাগ্রামে এত জনপ্রিয় অঙ্কিতা

সড়ক দুর্ঘটনায় অভিনেত্রী আশা চৌধুরী নিহত




×
চলচ্চিত্র বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

উঠতি অভিনেত্রী আশা চৌধুরীর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর মৃত্যুর জন্য কে দায়ী এ নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। আশাকে বহনকারী মোটরসাইকেল চালক সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে দারুস সালাম থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পর শামীমকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আশার মৃত্যুর পেছনে মোটরসাইকেল চালকের কারসাজি থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করছে পরিবার। বুধবার (০৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন