ঢাকা, বুধবার, ৭ মাঘ ১৪২৭, ২০ জানুয়ারী, ২০২১

Facebook Twitter Instagram Linkedin Youtube

Logo

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে কঠোর আ.লীগ

বার্তাজগৎ২৪ ডেস্ক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০৫ জানুয়ারী, ২০২১, ০৭:৪১
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে কঠোর আ লীগ

স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অনুপ্রবেশকারী, বিতর্কিত ও হাইব্রিড নেতাদের এবার মনোনয়ন দিচ্ছে না দলটি। এছাড়া আগের নির্বাচনে যারা দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করেছেন তারাও দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন না। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত কয়েক ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে দলটির এমন সাবধানী অবস্থানই দেখা গেছে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্য জানান, স্থানীয় সরকারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়র। এ দুই পদ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং উপজেলা চেয়ারম্যানদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে। তারা নিজের পছন্দের লোককে মনোনয়ন দিতে পৃথক রাজনৈতিক বলয় গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এ কারণে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা চাইলে সংসদ সদস্য এবং উপজেলা চেয়ারম্যানরা নিজের পছন্দের প্রার্থীদের তালিকা পাঠানোর চেষ্টা করেন। এটি আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করেছে।

তাই এবার দলের তৃণমূলকে গুরুত্ব দিতে এবং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রার্থী মনোনয়নে সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি তার সরকারি বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। তিনিসহ দলের মনোনয়ন বোর্ড স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আগে (২০১৬) যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহ করেছিলেন, এবার তাদের কোনোভাবেই মনোনয়ন দেয়া হবে না।

দলের এমন কঠোর অবস্থানে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা জানান, ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভায় দলভিত্তিক নির্বাচনে সন্তোষজনক অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন, বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়িসহ দলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল।

তারা আরও বলছেন, তখন দলে অনুপ্রবেশকারীরা প্রভাবশালী নেতাদের সহায়তায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

এতে আওয়ামী লীগের বহু বিদ্রোহী প্রার্থী পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন। ফলে দলের নিবেদিতপ্রাণ তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়ে যায়। তবে এবার যথাযথভাবে প্রার্থী বাছাই করায় সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন নেতাকর্মীরা।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২১ সালে স্থানীয় সরকারের সব ইউনিয়ন এবং পৌরসভার নির্বাচন শেষ হবে। প্রথম ধাপে ২৪টি পৌরসভায় ভোট হয়েছে ২৮ ডিসেম্বর। ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে হবে ৬১ পৌরসভায় ভোট। তৃতীয় ধাপে ৬৪টি পৌরসভায় ভোট হবে ৩০ জানুয়ারি। এছাড়া চতুর্থ ধাপে ৫৬ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। এজন্য মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) থেকেই আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে।

বাকি পৌরসভাগুলোর ভোটও ফেব্রুয়ারির মধ্যেই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২১ সালে কয়েক ধাপে প্রায় চার হাজার ৫৫৪টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই করা নিয়েও কঠোর ও সাবধানী অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে দলের ১৭ সদস্যের মনোনয়ন বোর্ড রয়েছে। বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে যেসব পৌরসভায় নির্বাচন হয়েছে, সেখানে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্তকরণে তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা, ভোটারদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বাকি পৌরসভাগুলোতেও মনোনয়ন দেয়ার সময় এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা বলেন, বর্তমানে পৌরসভা এবং ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি স্থানীয় পর্যায়ে অনেকটাই দুর্বল। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রয়োজনীয় শক্তি তাদের নেই।

কিন্তু দলীয় প্রার্থী নির্ধারণে আওয়ামী লীগের তৃণমূলে বিরোধ দেখা যায়। এ অবস্থায় আগে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বা দল-মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন- এমন কাউকেই এবার মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে না। দলে শৃঙ্খলা আনতে এ বিষয়টিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

বার্তাজগৎ২৪ / এম এ

আরো পড়ুন:

'পাগল’ কাদের মির্জাকে পাবনায় পাঠান: নিক্সন

তৃতীয় বারের মতো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির নেতা হলেন শাহ আলী ফরহাদ

সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ আ.লীগ নেতারা, সংসদীয় কমিটির হস্তক্ষেপ দাবি

পুনরায় নির্বাচিত হলেন সেতুমন্ত্রীর ভাই কাদের মির্জা 

ড. কামাল হোসেনের আজকের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত



নৌকাকে ‘হারানোর প্রতিবাদে’ সংবাদ সম্মেলন

বার্তা জগৎ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২১, ০৭:৩১
নৌকাকে ‘হারানোর প্রতিবাদে’ সংবাদ সম্মেলন
ফাইল ফটো

 

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি আসনের সাংসদ আব্দুল মমিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বেলকুচি পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত পরাজিত মেয়র প্রার্থী আশানুর বিশ্বাস।

 আজ মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বেলকুচির কামারপাড়ায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। 

লিখিত বক্তব্যে পরাজিত মেয়র প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে আমাকে নৌকা প্রতিক দেওয়া হলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য এর অনুসারী সাজ্জাদুল হক রেজা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। সংসদ সদস্য নৌকার বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করে। এতে বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়।  

এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুফজি খান, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আকন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আরো পড়ুন:

সৈয়দ আশরাফের কাছে অনেক কিছু শেখার আছে: তথ্যমন্ত্রী

পদ্মা সেতু-মেট্রোরেল চালু ২০২২ সালের জুনে: কাদের

টিকা এনে বেক্সিমকো কত কমিশন পাচ্ছে, জানতে চান ফখরুল

গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে জায়গা পেয়েছে যারা

হানিফ বলছেন বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না



পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৪৫টি এবং ৪টি বিএনপি জয়ী

খোরশেদ আলম
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২১, ০৯:৩৫
পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৪৫টি এবং ৪টি বিএনপি জয়ী
পৌরসভা নির্বাচন

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পৌরসভায় নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় বিরাট ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। এই পর্বে ৬০টি পৌরসভার মধ্যে ৪৯টিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বেসরকারিভাবে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন।

এছাড়া এই দলের ৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থীও মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির ৪জন প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এই দলের দুই জন বিদ্রোহী প্রার্থীও জিতেছেন।

এই বড় দুই দলের পাশাপাশি জাতীয় পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের একটি করে পদে মেয়র নির্বাচিত হন। পাশাপাশি ২টি পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয় লাভ করেছেন। 

শনিবার ৬০টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কিশোরগঞ্জের একটি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় সেই পৌরসভার ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।

 একক প্রার্থী থাকায় চারজন প্রার্থী ভোটের আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছেন। 

উল্লেখ্য, এর আগে প্রথম পর্যায়ে ২৯টি পৌরসভার মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৪টি, বিএনপি ২টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩টিতে জয় লাভ করেছিলেন।



আরো পড়ুন:

রাজধানীর খালে মিলল ২০ হাজার টন বর্জ্য

মোটরসাইকেলের কাগজ দেখতে চাওয়ায় সার্জেন্টকে পিটিয়েছে যুবক

বাংলাদেশ ক্রিকেটের কুয়াশাচ্ছন্ন যুগের আলোকবর্তিকা মোহাম্মদ রফিক

উপজেলা আ.লীগ নেতা এখন চা বিক্রেতা

২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ

ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ৬২টি পদে ৮৪০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে

এক কবরে হাতে হাত রেখে ১৬০০ বছর, তারা কারা?

৫৬ যাত্রী নিয়ে বিমান নিখোঁজ

ঢাকায় বাড়ছে শীতের দাপট

×
রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অনুপ্রবেশকারী, বিতর্কিত ও হাইব্রিড নেতাদের এবার মনোনয়ন দিচ্ছে না দলটি। এছাড়া আগের নির্বাচনে যারা দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করেছেন তারাও দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন না। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত কয়েক ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে দলটির